পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে রাজ্যজুড়ে ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ কর্মসূচি গ্রহণ করল বামফ্রন্ট। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা ২ ব্লকের বালিঘাই এরিয়া কমিটির উদ্যোগে ব্যাপকভাবে আয়োজিত হলো এই পদযাত্রা ও র্যালি। এদিন এগরা ২ ব্লকের দুবদা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সমস্ত বুথ এলাকাতেই সিপিআইএমের পক্ষ থেকে ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল থেকেই লাল পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সেজে ওঠে গোটা এলাকা। বাম কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে বুথ থেকে বুথ। গণতন্ত্র রক্ষা, ভোটাধিকার সুরক্ষা, প্রশাসনিক সন্ত্রাস বন্ধ, সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে একের পর এক স্লোগানে সরব হন অংশগ্রহণকারীরা। পদযাত্রা চলাকালীন সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন বাম নেতৃত্ব।

সিপিআইএম নেতৃত্বের দাবি, চলতি মাসেই কোচবিহার থেকে কামারহাটি পর্যন্ত প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’-তে সামিল হবেন বামফ্রন্টের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যে গণতন্ত্র গুরুতর সংকটের মুখে। তাই রাজ্যের সমস্ত স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিনের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সিপিআইএমের বালিঘাই এরিয়া কমিটির সম্পাদক মির্জা নাসের হোসেন বেগ, সিআইটিইউ-এর সম্পাদক সুদীপ্ত মাইতি, কৃষক সভার সম্পাদক চন্দন পয়ড়্যা, দুবদা লোকাল কমিটির সম্পাদক দীপক কুমার জানা সহ বামফ্রন্টের একাধিক নেতৃত্ব। তাঁরা বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার এই লড়াই আরও তীব্র হবে এবং রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বামফ্রন্টের এই কর্মসূচিকে ঘিরে তীব্র কটাক্ষ ছুড়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এগরা ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি রাজকুমার দুয়ারী বলেন,
“৩৪ বছর ধরে সিপিএম বাংলায় শাসন করে গণতন্ত্রকে তুঁটি টিপে হত্যা করেছে। সেই দল আজ গণতন্ত্রের কথা বলছে—এটা সম্পূর্ণ ভণ্ডামি।”
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যের উন্নয়ন একশো শতাংশ হয়েছে এবং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মা-মাটি-মানুষের সরকারের আমলে যে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বাংলার মানুষ আগামীদিনেও সেই সরকারের পাশেই থাকবে বলে আশাবাদী তৃণমূল নেতৃত্ব।
সব মিলিয়ে, ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’কে কেন্দ্র করে এগরা ২ ব্লকের রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।





