পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন ঘিরে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা ২ ব্লকের বালিঘাই এলাকা।
একদিকে এগরা ২ ব্লকের বিডিও অফিসের গেটের সামনে বিজেপির তরফে উঠলো চোর চোর স্লোগান। পাশাপাশি তৃণমূলের তরফে জয়বাংলা স্লোগান। কার্যত এদিন তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে চলে তুমুল বচসা এবং রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে। বেশ কয়েকঘন্টা ধরে চলে চরম উত্তেজনা। অবশেষ এগরা থানার পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এগরা ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির ২৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি জয়ী হয় ১২ টি আসনে। বাকি ১২ টি দখল নেয় তৃণমূল। সেই কারণে এদিন সকাল থেকে বোর্ড গঠনে পঞ্চায়েত সমিতির অফিস চত্বরে জমায়েত করে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা। ঘটনার সূত্রপাত, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কোন দলের হবে, তা নিয়েই শুরু হয় লটারী। আর সেই লটারীতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এগরা ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত সেহনাজ বেগম। এর পরেই বিডিও অফিসের গেটের সামনের মিছিল করে জয় বাংলা স্লোগান তুলে জমায়েত করে প্রচুর তৃণমূলের কর্মী সমর্থক। উল্টে, বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা তৃণমূলকে লক্ষ্য করে চোর চোর স্লোগান করে জয় শ্রী রাম ধ্বনি তোলে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি বেশ কয়েকঘন্টা ধরে চলে উভয় দলের মধ্যে তুমূল উত্তেজনা ও চরম বচসা। এর পরে যখন টসে এগরা ২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি নির্বাচিত হয় বিজেপির তরফে সিতাংশু জানা। তখন বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা জয় শ্রী রাম স্লোগান তুলে তৃণমূলের সামনে বিক্ষোভ দেখায়।
অবশেষে পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দিনভর চলে টান টান উত্তেজনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বালিঘাইতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। কিন্তু এগরা ১ পঞ্চায়েত সমিতির ২৩টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পায় ১৩টি আসন এবং ১০টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি। এদিন তৃণমূলের তরফে এগরা ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হন ব্লকের তিন বারের সভাপতি অমিয় কুমার রাজ। পাশাপাশি সহ-সভাপতি হলেন নতুন মুখ সত্য চক্রবর্তী।







