Select Language

[gtranslate]
১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ রবিবার ( ২৯শে মার্চ, ২০২৬ )

গণমানুষের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে জন্ম দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলী ।

” ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়
পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি”

দুর্বিক্ষে হাহাকার করা বাঙ্গালীর এক সময়ে মনের মণি কোঠায় গেঁথে যাওয়া কবিতার এই দুই লাইনের স্রষ্টা একাধারে বিপ্লবী ও স্বাধীনতার আপোসহীন সংগ্রামী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ৷ পিতা নিবারণ ভট্টাচার্য, মা-সুনীতি দেবী৷ ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট তিনি তার মাতামহের বাড়ি কলকাতার কালীঘাটের ৪৩, মহিম হালদার স্ট্রীটের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন৷

এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম৷উনার পৈতৃক বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার অন্তর্গত ঊনশিয়া গ্রামে৷ বেলেঘাটা দেশবন্ধু স্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হন৷ এই সময় ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ায় তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মম্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন৷ ১৯৪৪ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন৷সেই বছর আকাল নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়৷ কৈশোর থেকেই সুকান্ত যুক্ত হয়েছিলেন সাম্যবাদী রাজনীতির সঙ্গে৷ পরাধীন দেশের দুঃখ দুর্দশাজনিত বেদনা এবং শোষণ মুক্ত স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন, শোষিত মানুষের কর্ম জীবন এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য সংগ্রাম তার কবিতার মূল প্রেরণা৷

আট-নয় বছর বয়স থেকেই সুকান্ত লিখতে শুরু করেন৷ স্কুলের হাতে লেখা পত্রিকা ‘সঞ্চয়ে’ একটি ছোট্ট হাসির গল্প লিখে আত্মপ্রকাশ করেন৷ তার দিনকতক পরে বিজন গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘শিখা’ কাগজে প্রথম ছাপার মুখ দেখে তার লেখা বিবেকান্দের জীবনী৷ মাত্র এগারো বছর বয়সে ‘রাখাল ছেলে’ নামে একটি গীতি নাট্য রচনা করেন৷ এটি পরে তার ‘হরতাল’ বইতে সংকলিত হয়৷ 

সুকান্তকে বলা হয় গণমানুষের কবি৷ অসহায়-নিপীড়িত সর্বহারা মানুষের সুখ, দুঃখ তার কবিতার প্রধান বিষয়৷ অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ের স্বার্থে ধনী মহাজন অত্যাচারী প্রভুদের বিরুদ্ধে নজরুলের মতো সুকান্তও ছিলেন সক্রিয়৷ যাবতীয় শোষণ-বঞ্চনার বিপক্ষে সুকান্তের ছিল দৃঢ় অবস্থান৷মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা কাব্যধারার প্রচলিত প্রেক্ষাপটকে আমূল বদলে দিতে পেরেছিলেন৷ 

স্বল্প সময়ের জীবনে তিনি বাংলা সাহিত্যকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন৷ রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, জীবনানন্দ দাশসহ সে সময়ের বড় বড় কবির ভিড়ে তিনি হারিয়ে যাননি৷ নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন নিজ প্রতিভা, মেধা ও মননে৷ সুকান্ত তার বয়সিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেছেন তার পরিণত ভাবনায়৷ ভাবনাগত দিকে সুকান্ত তার বয়স থেকে অনেক বেশি এগিয়ে ছিলেন৷


প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে দুরারোগ্য ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে কলিকাতার ১১৯ লাউডট স্ট্রিটের রেড এড কিওর হোমে মৃত্যুবরণ করেন সুকান্ত ভট্টাচার্য৷

মাত্র মাত্র একুশ বছর বয়সে প্রতিভাধর কবির দেহাবসান ঘটলেও সামান্য কয়েক বছরের অত্যাশ্চর্য কবিত্ব শক্তির পরিচয় দিয়ে অশেষ খ্যাতি অর্জন করেন তিনি৷

জীবনের পরতে পরতে যে যন্ত্রণা মানুষকে ভারাক্রান্ত করে তোলে সেই যন্ত্রণার কথা তাঁর কাব্যে আমরা পাই । আঠার বছর বয়সের যে প্রতিবাদ, সেই প্রতিবাদের ভাষা কে তাঁর বলিষ্ট লেখনী কি সুন্দরী ভাবে আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে তা তাঁর আঠার বছর কবিতা টি পড়লেই অনুধাবন করা যায় । 

এ বয়স জেনো ভীরু , কাপুরুষ নয় 

পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে , 

এ বয়সে তাই নেই কোন সংশয় 

এ দেশের বুকে আঠার আসুক নেমে । 




গণমানুষের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে জন্ম দিবসে এখন সংবাদ পরিবার জানায় শতকোটি প্রণাম

Related News

Also Read