দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের প্রতীক্ষা অবশানের শেষে হতে চলেছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা–১ ব্লকের জেড়থান গ্রাম পঞ্চায়েতে বেনাচাকড়ি গ্রামে বহুকাঙ্ক্ষিত বহুদিনের দাবিতে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের কাজ এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছাল। শুক্রবার দুপুরে ব্লক প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারদের উপস্থিতিতে ব্রিজের ঢালাইয়ের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিতে আরও একধাপ এগোল। প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজটি শুধুমাত্র একটি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং বেনাচাকড়ি ও সংলগ্ন একাধিক গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি প্রকল্প।

বছরের পর বছর ধরে চম্পা নদী ও খালের উপর অস্থায়ী ব্যবস্থা কিংবা বিপজ্জনক পথ ব্যবহার করেই মানুষকে যাতায়াত করতে হতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত গোটা এলাকা। ঢালাই সম্পন্ন, কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
এদিন দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার ও ব্লক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। কাজ চলাকালীন আধিকারিকরা নির্মাণের মান ও গুণগত দিক সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ হাসান জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ব্রিজের নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্যে দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে। তাঁর কথায়, “আজ ঢালাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। আশা করছি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ব্রিজের সমস্ত কাজ শেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া যাবে।”ঢালাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বেনাচাকড়ি সহ আশপাশের গ্রামগুলিতে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তির আশায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয়দের দাবি, এতদিন স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম সমস্যা হতো। অনেক সময় সামান্য দূরত্ব পেরোতে ঘুরপথে বহু কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হতো। স্থানীয় বাসিন্দা অরুণ কুমার মিশ্র জানান, এই স্থায়ী ব্রিজ চালু হলে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষিপণ্য পরিবহণ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক সুবিধা মিলবে। পাশাপাশি জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রেও আর কোনো বাধা থাকবে না। উন্নয়নের পথে এক বড় পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন এলাকাবাস। বেনাচাকড়ি গ্রামের এই ব্রিজকে ঘিরে তাই শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, সামগ্রিকভাবে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা। অর্ধশতাব্দীর প্রতীক্ষার পর বাস্তবের পথে হাঁটছে এই প্রকল্প—যা নিঃসন্দেহে এগরা ১ ব্লকের উন্নয়নের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।





