শুভেন্দু অধিকারী-সৌমেন্দু অধিকারীরা ক্ষমতায় থাকাকালীন কাঁথি পৌরসভার দুর্নীতির তদন্তে নেমে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। কাঁথি পৌরসভার এক ইঞ্জিনিয়ারের আয় বহির্ভুত প্রায় দেড় কোটি টাকা জমা আছে সমবায় সমিতিতে।তদন্তকারীদের আশংকা আরো এমন বহু কালো টাকার সন্ধান আগামী দিনে তদন্তে উঠে আসবে তাঁদের হাতে ।তাই এবার এই আদালতের অনুমতি নিয়ে এই ইঞ্জিনিয়ারের ব্যাঙ্কের লকার খুলবে ।
অধিকারী পরিবারের ঘনিষ্ঠ কাঁথি পুরসভার সহকারী ইঞ্জিনিয়ার দিলীপ বেরা। ২০০০ সালের আগে দিলীপ বেরা কাঁথি পুরসভার কাজে যোগ দেন। তখন কাঁথি পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন বর্তানে কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী ।এর পরে একে একে শিশির বাবুর মেজ ছেলে শুভেন্দু অধিকারী ও ছোট ছেলে সৌমেন্দু অধিকার। অর্থাৎ গত দুই দশক ধরে অধিকারী পরিবারের একের পর এক সদস্য পুরপ্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন।ফলে ঘনিষ্টতা গড়ে উঠেছে বলে পুলিশের ধারনা ।জানা গেছে গত ৩০ এপ্রিল ২০২২ সাল পর্যন্ত দিলীপ বেরার বেতন বাবদ অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ৮৯ লক্ষ ৯৫ হাজার ৮৬৯ টাকা। অথচ খাতায় কলমে কাঁথি পুরসভার সহকারী ইঞ্জিনিয়ার দিলীপ বেরার সম্পত্তির পরিমাণ ৩ কোটি ৮৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৯৪৭ টাকা। ফলে কাঁথিতে ভুয়ো অর্থ লগ্নী সংস্থা সারদার বেআইনী বহুতল নির্মানের অনুমতি প্রদানে দিলীপ বেরার কি স্বার্থ ছিলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সুত্রের দাবি পুলিশ জানতে পেরেছে বিমা, ফিক্সড ডিপোজিট ওই ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রীর নামে প্রায় দু’কোটি টাকা রয়েছে। ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন। গাড়ি, সোনা কিনে ব্যয় করেছেন আরও ৮ লক্ষ টাকা। শুধুমাত্র কাঁথি সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড জনমঙ্গল সমিতিতে রয়েছেন ১ কোটি ২৭ লক্ষ ১৩ হাজার ৭১৭ টাকা। স্ত্রীর নামে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট পরিমাণ ১৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।এই অবস্থায় এই ইঞ্জিনিয়ারের ব্যাঙ্কের লকার গুলো খুলে দেখতে চায় পুলিশ।
কাঁথি থানার পুলিশের আবেদন তমলুকের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের (১ম) বিচারক মঞ্জুর করেছেন।সরকার পক্ষের আইনজীবী বদ্রু আলম মল্লিক বলেন তমলুকের বিশেষ আদালতের বিচারক স্মিতা গৌরীসারিয়া অভিযুক্তের জামিন নাকচ করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে অভিযুক্তের ব্যাঙ্কের লকার তল্লাশির অনুমোদন দিয়েছেন।






