Select Language

[gtranslate]
১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ রবিবার ( ২৯শে মার্চ, ২০২৬ )

অবৈধ সম্পর্ক:স্বামী-স্ত্রীর বিবাদ থানায়

স্বামীর পরকীয়া ও দ্বিতীয় বিয়ের কারণে দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় হালিমা বিবি, রামনগর থানায় ‘খন্ডযুদ্ধ’। সংসার ভাঙার যন্ত্রণা আর দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ ঝরল হালিমা বিবির কণ্ঠে। স্বামীর পরকীয়া এবং অন্য ধর্মের এক মহিলাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল রামনগর থানা চত্বর।

 

দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতি ও বাদানুবাদে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় থানা এলাকা।

 

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানাগেছে, সাত বছর আগে সুলতান সাহার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল হালিমা বিবির। তাঁদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে (বড় মেয়ের বয়স ৫ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স মাত্র ১ বছর)। হালিমা বিবির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। ঠিকমতো খাবার পর্যন্ত দেওয়া হতো না। এরই মাঝে সুলতান সাহা এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিবাহিত মহিলার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে পালিয়ে যান। থানায় সালিশি বসলে উত্তেজনা ছড়ায়।

 

প্রশাসনের সহযোগিতায় সুলতানকে ধরে আনার পর রামনগর থানায় দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশি সভা বসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাকিবুল ইসলাম,পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল খালেক কাজী, বিশিষ্ট সমাজসেবী মইদুল কাজী, রামনগর থানার রাকিবুল ইসলামএবং গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা চলাকালীন দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়, যা এক পর্যায়ে ‘খন্ডযুদ্ধে’ রূপ নেয়।

 

সালিশির সভায় দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর হালিমা ও সুলতানের বিবাহবিচ্ছেদের (ডিভোর্স) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সালিশি সভায় স্থির হয়, দুই সন্তানের পড়াশোনা ও ভরণপোষণের সমস্ত খরচ সুলতানকে বহন করতে হবে। বিয়ের সময় গাড়ি কেনার জন্য হালিমা বিবির বাবার দেওয়া ৮০,০০০ টাকা ফেরত দিতে হবে। হালিমা বিবির সমস্ত গয়না আগামী এক মাসের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। যদিও এই সিদ্ধান্তের লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করতে হয়েছে, কিন্তু হালিমা বিবির দাবি তিনি সঠিক বিচার পাননি। স্বামীর প্রতারণা আর সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যাওয়ার পর নগদ টাকা বা গয়না তাঁর যন্ত্রণার উপশম করতে পারছে না। দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে এখন তিনি কোথায় দাঁড়াবেন, সেই প্রশ্নই কুরে কুরে খাচ্ছে তাঁকে। সুলতান সাহার পরিবার থেকে এক মাসের সময় চেয়ে নেওয়া হলেও, হালিমার চোখের জল বলছে—আইনি বিচার মিললেও সামাজিক ও মানসিক বিচার আজও অধরা।

Related News

Also Read