পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট ব্লকের পুলশিটা গ্রাম পঞ্চায়েতের পয়াগ গ্রামের ঘনবসতিপূর্ন মাইতি পাড়ার ২৫-৩০ টি পরিবার দীর্ঘ প্রায় ৫০-৬০ বছর ধরে বেআইনিভাবে বাজি তৈরি ও বিক্রির সাথে যুক্ত রয়েছে। ওই বাড়ীর লোকজন যে বাড়ীতে বসবাস করেন,সেই বসতবাড়ীতেই বাজিও তৈরী করে বাড়ীর লোক সহ কারিগররা। ফলস্বরূপ কয়েক বছর ছাড়া ছাড়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন মারাও গেছেন। সবশেষ গত ২০১৪ সালের বিস্ফোরনে এক মহিলা সহ তিন জন প্রান হারিয়েছিল। কিন্তু এতদসত্ত্বেও ওই এলাকায় উক্ত বেআইনী কারবার বন্ধ হয়নি। যখনই এ ধরনের বড় দুর্ঘটনা ঘটে, তখনই স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে খানিকটা সক্রিয় হতে দেখা যায়।
তারপর তাদের আর কোন ভূমিকাই লক্ষ্য পড়ে না। আর স্থানীয় পুলসিটা গ্রাম পঞ্চায়েত বা কোলাঘাট পঞ্চায়েত সমিতির তো কোন ভূমিকাই দেখা যায় নি। যে কারনে উপরোক্ত ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। শুধু তাই নয়, এই ব্যবসায় অত্যধিক লাভের সুযোগ থাকায়,ওই পাড়ার যে সমস্ত মেয়েদের অন্যত্র বিয়ে হয়েছে, তারাও সেখানে এই বেআইনী কারবারের সাথে যুক্ত হয়েছে।
গত ৯ জুন রাত সাড়ে নয়টা নাগাদ ওই পাড়ার আনন্দ মাইতির বাড়ীতে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রাম কেঁপে উঠে। তাতে আনন্দ’র কারখানার গোডাউন ঘরের দোতলা বাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যায়। বাড়ির দেওয়াল ভেঙে ইট পাশের গণেশ মাইতির বাড়িতে তার স্ত্রী ঝর্নার শরীরে লেগে তিনি গুরুতর জখম হন। আহত অবস্থায় প্রথমে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি এবং পরবর্তীতে তমলুক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার ৬ দিন পরও গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।
কোলাঘাট থানার পুলিশ আনন্দ মাইতি ছাড়া ওই পাড়ার কাউকে আজ পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারে নি। আশ্চর্যের বিষয়,ঘটনার চারদিন পর ফরেনসিক তদন্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যে কারনে এলাকার মানুষজন পুলিশের উপর আস্থা রাখতে পারছে না। এলাকার মানুষের বক্তব্য, অন্যান্য বারের মত এবারও কিছু দিন পর আবারও বিস্ফোরনের আতঙ্কের জন্য দিন গুনতে হবে, না ঐ বেআইনী কারবার চিরতরে বন্ধ হবে।
এমতাবস্থায় এসইউসিআই দলের পক্ষ থেকে আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও মূখ্যসচিবের নিকট স্মারকলিপি দিয়ে ঘনবসতিপূর্ন ওই পাড়ায় ঐ বেআইনি বাজি তৈরী ও বিক্রীর ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন সহ প্রয়োজনে দুঃস্থ কারিগর পরিবারের লোকজন যাতে ওই কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়,সেজন্য ওদের পুনর্বাসন প্রদানের দাবি জানানো হয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলারই এগরার খাদিকুলে ভয়াবহ বাজি কারখানার বিস্ফোরনের ঘটনার পর ঘটনাস্থলে বেআইনী ঐ কারবার বন্ধ করে ফাঁকা জায়গায় সবুজ বাজি তৈরির জন্য বাজিহাব তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্ত আজো ওই বাজিহাব গড়ে তোলা হয়নি। এছাড়াও বিষয়টি দেখবার জন্য মূখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই কমিটিরও কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।
দলের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নারায়ণ চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করেন, উপরোক্ত বিষয়ে বিস্ফোরনের পরের দিনই জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারকে দলের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। পরদিন দেখা করে ডেপুটেশনও দেওয়া হয়। কিন্তু স্থায়ীভাবে ওই বেআইনী কারবার বন্ধ করার বিষয়ে এখনো কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজ মূখ্যমন্ত্রী ও মূখ্যসচিবকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।






