তৃনমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিলো বিজেপি বিধায়কের নিরাপত্তায় থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের বিরুদ্ধে।এবার সেই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নেওয়া হল কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে। আর তার জেরে এই জওয়ানকে গ্রেফতার করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুললো তৃনমূল।
এগরার বাজী কান্ডে এন আই এ তদন্তের দাবিতে
ভগবানপুর ২ ব্লকের পাঁউসি বৃহস্পতিবার এলাকায় বিজেপির দলীয় মিছিল ঘিরে কার্যত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল । সেই সময়ে সিআইএসএফ এর এক জওয়ান গুলি চালায় বলে অভিযোগ।
বিজেপির অভিযোগ ভগবানপুরে বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি উপস্থিতিতে চলা তাঁদের মিছিলে বোমাবাজি ও গুলি চালায় তৃনমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। আরো অভিযোগ তৃণমূল দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি। সেই সাথে বিজেপির আরো দাবি বিধায়ককে লক্ষ্য করে কিছু দুষ্কৃতিকারী যুবক বোমাবাজি করে ও পাথর ছুঁড়ে। তখনই বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি নিরাপত্তা রক্ষী সিআইএসএফ বাহিনী কয়েক রাউন্ড গুলি চালান।
যদিও তৃনমূলের দাবি বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরী করতে বিধায়কের নিরাপত্তায় থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে দিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় ।
সেই গুলির আঘাতে গুরুতর জখম হন তৃণমূল কর্মী ঝন্টু দাস নামে এক ব্যক্তি। এরপর গুলিবিদ্ধ ওই তৃণমূল কর্মীকে উদ্ধার করে মুগবেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। সেখানে ওই তৃণমূল কর্মীকে দেখতে হাজির হন তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বরা। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে উদ্ধার করে তমলুক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
জানা গেছে এর পরে শুক্রবার সিআইএসএফ তথা কেন্দ্রীয় বাহিনীর থেকে ভূপতিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হল। সিআইএসএফ বাহিনীর এক সদস্য থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ করে বলেন কিছু অজ্ঞাত যুবকেরা তাদের উদ্দেশ্য করে বোমা ও পাথর ছুঁড়তে থাকেন। এই কারণে বাধ্য হয়ে তারা ১১ রাউন্ড গুলি চালান। অভিযোগ গ্রহণ করেছে ভূপতিনগর থানার পুলিশ।
এই বিষয়ে জেলা তৃণমূলের দাপুটে নেতা ও কারাগার মন্ত্রী অখিল গিরি বলেন, কি এমন পরিস্থিতি হলো যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ১১রাউন্ড গুলি করতে হলো,অতীতের বাম জমানায় এমন পরিস্থিতি হয়নি। ভগবানপুরের বিজেপি বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি দেহ রক্ষী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। সেই জওয়ান বিধায়কের দেহ না রক্ষা করে গুলি ছুঁড়লো! এই ভাবে বাহিনীর দাপাদাপি মানা যায় না। অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে ঐ জওয়ানদের। তার পর কথা হবে। না হলে আমরা আন্দোল ও পথ অবরোধ করবো যখন তখন।কিন্তু কখন করবো তা প্রশাসন কে জানিয়ে দেব।
কাঁথি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সোমনাথ সাহা বলেন ভূপতিনগরের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে মোট ১১ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ওরা। কোন পরিস্থিতিতে গুলি তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।






