Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

৪৫০ বছরের প্রাচীন পঁচেটগড় রাজবাড়িতে ক্লাসিক্যাল অনুষ্ঠান

৪৫০ বছরের প্রাচীন পঁচেটগড় রাজবাড়িতে শাস্ত্রীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এলাকার সাংস্কৃতিক প্রতিভাকে তুলে ধরতে এবং এলাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে পঁচেট ৪ নং গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসনের উদ্যোগে এই শাস্ত্রীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর ২ ব্লকের প্রাচীন পঁচেটগড় রাজবাড়িতে এই অনুষ্ঠান যেন উৎসবের আবহ তৈরী করে । রাজবাড়ির ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্যের সুরে। বহু বছর পর এই রাজবাড়িতে এমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খুশি স্থানীয়রা।

পঁচেটগড় রাজবাড়ি যেন শাস্ত্রীয় সংগীত বিশেষজ্ঞ যদু ভট্টের আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সংগীত ও নৃত্যশিল্পীরা তাঁদের প্রতিভা তুলে ধরেন মঞ্চে। ধ্রুপদ, খেয়াল, শাস্ত্রীয় নৃত্য এবং লোকনৃত্যের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। শিল্পীদের পরিবেশনায় রাজবাড়ির প্রতিটি কোণ যেন সুরে সুরে ভরে ওঠে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক মানস মন্ডল , পটাশপুর ২ সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক শঙ্খ ঘটক,পঁচেট গ্রাম পঞ্চায়েত এর প্রধান সুরজিৎ মাইতি, রাজ পরিবারের সদস্য সুনন্দন দাস মহাপাত্র এবং বহু সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষজন।

 

পঁচেটগড় রাজবাড়ির সঙ্গে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের নিবিড় ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। বিষ্ণুপুরের রাজার দরবার থেকে এই রাজবাড়িতে এসেছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীত বিশেষজ্ঞ যদু ভট্ট। তাঁর হাত ধরেই এই রাজবাড়িতে শাস্ত্রীয় সংগীতের চর্চা ব্যাপক আকার ধারণ করে। রাজবাড়ির এক সদস্য ছিলেন তৎকালীন ভারতের অন্যতম বিশিষ্ট সেতার বাদক। তাঁর ব্যবহৃত একটি বাদ্যযন্ত্র বর্তমানে ভারতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এই তথ্য আজও রাজবাড়ির গৌরব বহন করে চলেছে।

 

এই রাজবাড়ির মহাপাত্ররা ক্ষত্রিয় ছিলেন। যুদ্ধবিদ্যায় তাঁরা একসময় পারদর্শী ছিলেন। পরবর্তীকালে বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করার পর তাঁরা সংগীত ও নাট্যচর্চায় মন দেন। শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি লোকসংগীতেরও চর্চা হত এই রাজবাড়িতে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। এলাকার সাংস্কৃতিক চর্চায় ভাটা পড়েছে। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ফেরাতেই পঁচেট ৪ নং গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসনের উদ্যোগে এই শাস্ত্রীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

Related News

Also Read