নতুন বছরের শুরুতেই উত্তপ্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর জুড়ে। ৩১শে ডিসেম্বর রাতে রামনগরের কালিন্দী এলাকার তৃণমূল নেতা শেখ জাকির হোসেনকে ফোন করে সপরিবারে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই মন্দারমণি কোস্টাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই নেতা। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫, রাত ৮টা নাগাদ শেখ জাকির হোসেনের ফোনে একটি অজানা নম্বর থেকে কল আসে। তৃণমূল নেতার দাবি, ওপার থেকে প্রথমে জানতে চাওয়া হয়, তিনি নরেন্দ্র মোদির সমর্থক কি না। জাকির হোসেন তা অস্বীকার করলে শুরু হয় অকথ্য গালিগালাজ এবং হুমকি। ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও খুনের হুমকি
আশ্চর্যজনকভাবে, ওই ফোন কলে জাকির হোসেনের পাসপোর্ট নম্বর এবং জন্ম তারিখের মতো অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য বলে দেয় অভিযুক্ত ব্যক্তি। এরপরই তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলা এবং বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর থেকেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই তৃণমূল নেতা ও তাঁর পরিজনেরা। রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া এই ঘটনায় রামনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ শেখ সিরাজ জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমাদের দলের একনিষ্ঠ কর্মীকে এইভাবে হুমকি দিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানিয়েছি এবং পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছি।”তদন্তের গতিপ্রকৃতি ইতিমধ্যেই ওই অডিও ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে (যদিও এর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম)। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যে নম্বর থেকে ফোনটি এসেছিল তার টাওয়ার লোকেশন এবং কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীর ব্যক্তিগত নথিপত্র (পাসপোর্ট নম্বর) অভিযুক্তের হাতে পৌঁছাল কী করে? এর পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মন্দারমণি কোস্টাল থানার পুলিশ।





