কেকা মিত্র
শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। আর এই বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে প্রতিদিন বিভিন্ন লেখক লেখিকার নানা ধরনের বই। বাংলা সাহিত্য জগতে এই বইমেলার মধ্যেই প্রকাশিত হলো প্রধান শিক্ষিকা, সঙ্গীত শিল্পী আম্রপালি দত্ত র প্রথম গল্পের বই ‘ জীবনের গল্পগাথা “। লেখিকা আম্রপালি দত্ত র
জন্ম ৩১ শে ডিসেম্বর ১৯৮১। পদার্থবিদ্যায় এমএস সি শিক্ষাবিজ্ঞানে এমএ ও বিএড। তিনি বর্তমানে প্রধান শিক্ষিকা বেথুয়াডহরী গার্লস হাই স্কুলের (এইচএস), । পূর্বতন প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন দাঁইহাট গার্লস হাই স্কুল (এইচ এস) এবং পূর্বতন সহশিক্ষিকা (পদার্থবিদ্যা) নবদ্বীপ বালিকা বিদ্যালয় (এইচএস)। তিনি ছোটবেলা থেকেই গল্প , কবিতা, প্রবন্ধ লিখতে খুব ভালবাসেন।

মূলত লেখাই প্রথম ভালবাসা। তাঁর লেখা ছোট গল্প, প্রবন্ধ, তথ্য সমৃদ্ধ রচনা প্রভৃতি যা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রথম সারির পত্রপত্রিকায় স্থান পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য চেতনা পত্রিকায় নব্বই সঞ্জীব সংখ্যাতে “লোটাকম্বল” র উপর তাঁর পাঠকের কলম বিশেষ প্রশংসনীয়। আম্রপালি দত্ত
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারিণী। বাবা স্বর্গীয় বিদগ্ধ নাট্য ব্যক্তিত্ব ও নাট্যনির্দেশক তুহিন দত্ত ও মা স্বর্গীয় নাট্যভিনেত্রী রত্না দত্ত। লেখার পাশাপাশি আম্রপালি দত্ত নাট্য অভিনয়, সংগীত ও অঙ্কনেও পারদর্শীতার ছাপ রেখেছেন। নির্মাণ করেছেন বেশ কয়েকটি তথ্যচিত্র যার
মধ্যে কৃষ্ণনগর পৌরসভার পক্ষ
থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের উপর তথ্যচিত্র বিশেষভাবে
উল্লেখযোগ্য। পশ্চিমবঙ্গ নগরোন্নয়ন দপ্তর ও কৃষ্ণনগর পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে ডেঙ্গু সচেতনতার উপর তাঁর তথ্যচিত্র বিশেষ প্রশংসনীয়। সরকারি
ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য রাজ্যপাল
ডঃ নুরুল হাসান, কলকাতা
হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মুকুল গোপাল মুখোপাধ্যায় ও শিক্ষক
দিবসে কৃষ্ণনগর পৌরসভার পৌর প্রধানের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। তিনি
মাধ্যমিকে জেলাতে সর্বোচ্চ নম্বর ও উচ্চমাধ্যমিকে জেলাতে সাফল্যের ছাপ রেখেছিলেন।
আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার সন্ধ্যায় আনন্দ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হলো লেখিকা আম্রপালি দত্ত র জীবনের প্রথম গল্পের বই
“জীবনের গল্পগাথা” । এই বইটি প্রকাশ করেন জনপ্রিয় সাহিত্যিক নবকুমার বসু, সাহিত্যিক হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত, অভিনেতা ও বিশিষ্ঠ বাচিক শিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, হারমোনিকা শিল্পী শিল্পী ডঃ ববিতা বসু ও কবি চপল বিশ্বাস। সকল অতিথিরা লেখিকা আম্রপালি দত্ত র তাঁর লেখক জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
আম্রপালি দত্তর এই বই জীবনের গল্পগাথা সম্পর্কে কিছু কথা বলতেই হয় বা লিখতেই হয়।
“জীবনের গল্পগাথা” বইটিতে যে ছয়টি গল্প স্থান পেয়েছে সেগুলিতে প্রতিভাত হয়েছে চলমান জীবনের নানা প্রতিচ্ছবি। দৈনন্দিন যাপনে অতি পরিচিত কৃতকর্মগুলি, যেগুলি আপাত দৃষ্টিতে অতি সাধারণ কিন্তু সেগুলিই সঞ্চারিত করে গভীর জীবন দর্শন। পারস্পারিক সম্পর্ক, সেখান থেকে জন্ম নেওয়া সুখ-দুঃখ, চাওয়া-পাওয়া, হতাশা বা জয়লাভের আনন্দ আবেশিত করেছে গল্পগুলির ছন্দকে। নিত্য অভ্যাসে সংসার যাপনে দুজন বৃদ্ধ বৃদ্ধার পারস্পারিক গভীর ভালোবাসা, অবচেতনে উঠে আসা কৈশোরের প্রেমানুভূতি, হতদরিদ্র চা দোকানির নাট্যভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ, গ্রামের মেয়ে খেঁদি সরকারের নেতা হওয়ার অদ্ভুত বাসনার অবাস্তবতা, আবার সোশ্যাল মিডিয়ার অঙ্গুলি হেলন কিভাবে নারী-পুরুষের সম্পর্ককে আবদ্ধ করেছে অথবা চোর পুলিশের অদ্ভুত কৃতকর্ম যে অনাবিল হাসির উদ্রেক করছে, এ সবই স্থান পেয়েছে গল্পগুলির অবয়বে। আশা রাখি, পাঠকের মননে স্থান করে নেবে গল্পগুলি। আম্রপালি দত্তর লেখায়
বহমান জীবনের চালচিত্রে জীবনের নানা ওঠাপড়া, সুখ- দুঃখ, হতাশা, পাওয়া না পাওয়ার নানাবিধ রঙীন জলছবিরা প্রতিভাত হয় নিয়ত। অবচেতনে উঠে আসে কৈশোর থেকে যৌবনে উত্তীর্ণের মুহূর্তের নানান নানান, গহীন গহীন ভালোবাসা, যা রূঢ় বাস্তবে এসে মুখ থুবড়ে পড়ে। মনের মণিকোঠায় সযত্নে লালিত কোনো স্বপ্ন যা হয়তো নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল সংসার যাপনের যাঁতাকলে তা হয়ত হঠাৎই বাস্তবে রূপ পায়। সেই P অনাবিল আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে। হৃদয়বিদারক যন্ত্রণা।এই সবই। জীবনের জলছবি হয়ে ওঠে, জীবন বয়ে চলে তার আপন ছন্দে। ৬৪ পাতার এই বইতে রয়েছে মোট ছয়টি গল্প।
গল্পগুলো হলো অভ্যাস,
জীবনের গল্পগাথা, আমি খেঁদি বলছি, বিষাদ সিন্ধু, চোর-পুলিশের কেচ্ছা,
ছায়া-রোদ্দুর খেলা। প্রতিটা গল্প
বই প্রেমীদের মন ছুঁয়ে যাবে। এই বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন
বাসবদত্তা রায় ও বিজয় দে। এই বইয়ের মুখবন্ধ লিখেছেন
সাহিত্যিক আনসারউদ্দিন ও
ভূমিকা লিখেছেন সাহিত্যিক ডাঃ অনির্বাণ জানা। বোর্ড বাইন্ডিং ,
নির্ভুল, ঝকঝকে ছাপা এই বইটি দেখতে ভালো লাগে।
আনন্দ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত এই বইয়ের দাম মাত্র ২০০ টাকা।





