প্রদীপ কুমার সিংহ
ইয়ার, ইয়ার, হিয়ার,রেডি,হ্যাঁ এমনই শব্দ শোনা গেল বারুইপুর থানার অন্তর্গত বারুইপুর ফুলতলার বি ডি ও মাঠে শনিবার দুপুরে। সেখানে তিন দিনব্যাপী সিলেকশন ক্যাম্প হচ্ছে দৃষ্টিহীন ক্রিকেটারদের জন্য। সারা বাংলা নদিয়া, ঝারখন্ড, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ 24 পরগনা সহ প্রায় ২৪ টি জেলা থেকে প্রায় ৩০ জন ক্রিকেটার এই সিলেকশন ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করে। মোট ২০জনকে এই সিলেকশন ক্যাম্পে থেকে নেওয়া হবে। ভারতের যেমন প্রত্যেকটি রাজ্য নিয়ে ক্রিকেট টফি হয় রঞ্জি ট্রফি।তেমনি ভারতের ৩২ টি রাজ্যের দৃষ্টিহীন ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয় যার নাম নাগেশ ট্রফি। এটি আগামী ডিসেম্বর মাসের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা থেকে যেসব দৃষ্টিহীন ক্রিকেটার আছে তাদের সিলেকশন হবে এই বাড়ির পুরো ফুলতলা মাঠে তিন দিনব্যাপী যে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে তার মধ্য থেকে। এই দিন প্রায় ২০ থেকে ২২ জন দৃষ্টিহীন ক্রিকেটার এই শিবিরে অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ছিল শেষ দৃষ্টিহীনদের ওয়ার্ল্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত হয়েছিল তার প্লেয়ার শুভেন্দু মাহাতো এই শিবিরে অংশগ্রহণ করে।

শুভেন্দু মাহাতোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় , পশ্চিমবাংলা বিভিন্ন জেলা পুরুলিয়া,বাঁকুড়া, শিলিগুড়ি বর্ধমান,দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন জেলা থেকে ৩০ জন দৃষ্টিহীন ক্রিকেটার অংশগ্রহণ করে। এদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিযোগিতাও হয়। তবে যে ১১ জন ক্রিকেটার ফাস্ট টিমে থাকে তাদের তিন ধরনের ক্যাটাগরি থাকে। এক হচ্ছে পুরো দৃষ্টিহীন থাকবে তার মধ্যে চারজন ৬০% দৃষ্টিহীন আছে এমন খেলোয়াড় থাকে চারজন ৩০% দৃষ্টিহীন আছে তাদের মধ্যে থেকে তিনজন। এরাও কেউ বলার,কেউ ব্যাটসম্যান, কেউবা ফিল্ডার। তবে এদের খেলার একটা নিয়ম আছে ক্রিকেটের যে বল থাকবে সেই বল ভেতরে ঝুনঝুনের আওয়াজ হবে।

সেই আওয়াজ অনুযায়ী ব্যাটসম্যান বা বলার বা ফিল্ডার বলের গতি বিধি বলতে পারে। যখন খেলা হবে তখন উইকেট কিপার তিনবার বলবে হিয়ার, হিয়ার, হিয়ার। ভোলার যখন বল করতে যাবে তখন ব্যাটসম্যান কে জিজ্ঞেস করবে রেডি ? ব্যাটসম্যান উত্তর দেবে হ্যাঁ তখনই বল করবে বলার। আর ওই ঝুমঝুমি বলে বোলার বল করবে গড়িয়ে।বারুইপুর ফুলতলা মাঠে সিলেকশন শিবির হচ্ছে তার উদ্যোক্তা বাড়ির উপরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র। যে ক্রিকেট খেলোয়াররা এই সিলেকশন শিবিরে যোগ দিয়েছে তারা সবাই সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকবে।





