কাঁথি সহ অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার ত্রাস কাঁথি মহকুমা আদালতে বোমাবাজি ও গুলি চালানোর অভিযোগে শেখ মুন্না ও কর্ণ বেরার সাজা ঘোষণা করলেন অতিরিক্ত জেলা এবং সেশন জজ দ্বিতীয় আদালতে বিচারক শুভদীপ চৌধুরী।
শুক্রবার বিচারক শুভদীপ চৌধুরী শেখ মুন্না ও কর্ণ বেরার সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা নগদ জরিমানা নির্দেশ দেন। জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত এক বছর সাশ্রম কারাদণ্ড এর নির্দেশ দেন। অভিযোগ ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর একটি মামলার বিচারের জন্য কাঁথি মহকুমা আদালতে দুই অভিযুক্তকে হাজির করানো হয়। সেদিন আদালত শেষে তাদের আদালত হাজতে নিয়ে আসার সময় পরিকল্পিতভাবে সহযোগী দুষ্কৃতকারিরা বোমা বাজি করে। পরে শুন্যে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পোস্ট অফিস মোড়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেই সময় ময়না পাল মেডিকেল নামের ঔষধ দোকান এর সামনে পিছাবনী গ্রামের বাসিন্দা নাসির আলী তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাইকসহ দাঁড়িয়ে ছিল ঔষধ কেনার জন্য। সেই সময় তার স্ত্রী ও সন্তানকে ঠেলে ফেলে দিয়ে বাইক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
পুলিশী তৎপরতায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই দুর্ধর্ষ ঘটনায় আহত হয়েছিলেন আদালত হাজতের দুই পুলিশ অফিসার, দুই কনস্টেবল ও দুই সিভিক ভলেন্টিয়ার। গুরুতর জখম হয় অকিঞ্চন মাইতি নামের কনস্টেবল। শুধু তাই নয় এই দুই অভিযুক্ত এর আগে মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে কাঁথি আদালতে নিয়ে আসার সময় গাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনার অভিযোগ সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা চলতে থাকলেও ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর এর ঘটনার মামলায় ১০জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে বলে সরকারি আইনজীবী সন্দীপ মাইতি জানিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৯২ ও ৩৯৭ ধারা মতে ৭ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা নগদ জরিমানার নির্দেশ দেন বিচারক শুভদীপ চৌধুরী। জরিমানা অনাদয়ের অতিরিক্ত একবার এক বছর আশ্রম কারাদণ্ড এর নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলার রায় ঘোষণা কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছিল।





