Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

।। লক্ষ্মীগ্রাম খালনা! বাংলার বড় লক্ষীমেলা

দুর্গাপুজা শেষে বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা। হাওড়ার আমতা২ ব্লকের জয়পুর থানার খালনা গ্রাম। লক্ষ্মী আরাধনাতে সারা বাংলায় সেরা ও স্বতন্ত্র ও সর্ববৃহৎ। জাঁকজমকে দুর্গাপুজাকে ছাড়িয়ে যাবে এই গ্রামের লক্ষ্মীপুজো।

এই গ্রাম সারা বাংলার বুকে ‘লক্ষ্মীগ্রাম’ নামে পরিচিত। দশমী কাটলেই শুরু সাজো সাজো রব লক্ষ্মী উৎসব ঘিরে। এই গ্রামে দুর্গোৎসব প্রায় হয়না। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোই গ্রামের মূল উৎসব।

আড়াইশো তিনশো বারোয়ারি পুজো হয় গ্রামেই। পুজো উপলক্ষে চলে নানা উৎসব, বসে মেলা। কোজাগরী পূর্ণিমাতে লক্ষ্মীর আগমনে মেতে ওঠে গ্রামের আবালবৃদ্ধবনিতা। হাওড়ার অন্যতম প্রাচীন বর্ধিষ্ণু গ্রাম খালনা।

কৃষি নয়, ব্যবসা বাণিজ্যই খালনার মানুষের প্রধান পেশা। ব্যবসায়ীদের উপাস্য ঐশ্বর্যের দেবী লক্ষ্মী। প্রথমে বণিক সম্প্রদায়ের পূজিতা হলেও পরে প্রাধান্য কমে ঘন বারোয়ারির রূপ নেয়। পরিণত হয় উৎসবে।

থিমের মন্ডপ, থিমের প্রতিমা, থিমের লাইট, থিমের পরিবেশে এই উৎসব ও পূজা দেখতে দূরদূরান্তের অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান। বাগনান থেকে ১৯কিমি দূরে ‘লক্ষ্মীগ্রাম’ খালনা।



সারারাত দর্শনার্থী সমাগম দুর্গাপুজোর কলকাতাকেও হার মানায়। আলোর রোশনাই, মণ্ডপ সজ্জার আতিশয্য, সাবেকিয়ানা, ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। গ্রামের আত্মীয়, পরিজন, প্রতিবেশী জেলার মানুষ, ভিন রাজ্যের কিছু, এমনকী মহানগর কলকাতার দর্শনার্থীদের ভিড়ে ঠাসা খালনার পুজো তারই প্রমাণ দেয়। প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নজরকাড়া।

জেলা প্রশাসন থাকেন পুজোর নিরাপত্তায়। স্বল্প পরিসরে অসংখ্য পুজো। কয়েক হাত ব্যবধানে মণ্ডপ। এলাকা জুড়ে থিমের রমরমা। এবারও খালনা পুজো কমিটি বিশালাকার মণ্ডপ উপহার দিয়েছে দর্শনার্থীদের।

১৫০ বছরে ক্ষুদিরায়তলার কোহিনুর ক্লাবের থিম ‘বিলুপ্ত প্রাণীর সন্ধানে’। কালীমাতা তরুণ সংঘের চমক ৪০ ফুট প্রতিমা। সাবেকিয়ানায় কৃষ্ণরায়তলার প্রতিমা পুজিতা হবেন ইসকন মন্দিরে। বলাইস্মৃতি পুজো কমিটির থিম বৃক্ষ সংরক্ষণের ইতিবৃত্ত। ‘আমরা সবাই’ এর খড়ের চালা মাটির বাড়ি। ‘আমরা সকল’-এর মণ্ডপসজ্জা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। পদ্মফুলের আদলে মণ্ডপ করুণাময়ী কিশোর সংঘের। আনন্দময়ী তরুণ সংঘের মণ্ডপ ঘাসের শিল্প সুষমায়। মিতালী সংঘের পাটকাঠির চারমিনার গেট। ‘একতা’র মণ্ডপ সজ্জা রাজবাড়ি।

এছাড়াও বাদামতলা ইয়ং কর্নার, পূর্ব খালনা লক্ষ্মীপুজো কমিটি, মালঞ্চ লক্ষ্মীমাতা কমিটি, চারুময়ী লক্ষ্মীমন্দিরের পূজো উল্লেখযোগ্য। খালনার পাশের গ্রাম বাঁকুড়া, বাগনানের জোকা, শ্যামপুরের নাকোল গ্রামেও সর্বজনীন লক্ষ্মীপুজো শুরু হয়েছে। এখানে এক বা দুই রাত্রি কাটানো এক অনাবিল আনন্দ ও সুখের।

Related News

Also Read