পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা পৌরসভায় শনিবার দুপুরে আস্থা ভোট ঘিরে ধুন্ধুমার বেঁধে গেল, ভোররাত্রে তৃনমূলের চেয়ারম্যান সহ বিজেপির কাউন্সিলরা চুপিসাড়ে উপস্থিত হয় অফিসে এই অভিযোগ তুলে উত্তেজনায় স্থগিত হল ভোটাভুটি।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা পৌরসভায় আস্থা ভোটাভুটিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় শনিবার। বর্তমান চেয়ারম্যান স্বপন কুমার নায়কের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের অনাস্থা প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আস্থা ভোট হওয়ার কথা ছিল শনিবার। কিন্তু ভোট প্রক্রিয়া শুরুর আগে বিজেপি ও তৃণমূল কাউন্সিলরদের মধ্যে হাতাহাতি হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে ঘিরে চরমে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শেষ পর্যন্ত ভোট প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর তথা শহর তৃণমূল সভাপতির অভিযোগ, ভোটাভুটির জন্য নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে ভোররাত প্রায় ৪ টায় চেয়ারম্যান স্বপন নায়ক এবং বিজেপির অন্যান্য কাউন্সিলররা চুপিচুপি তালা ভেঙে পৌরভবনে ঢুকে ছিলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একই অভিযোগ করেছেন কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি পীযূষ কান্তি পন্ডা। শনিবার সকালে তৃণমূল কাউন্সিলররা যথা সময়ে সেখানে পৌঁছে পর্যন্ত পুলিশের বেষ্টনীতে ভিতরে ঢুকে দেখেন স্বপনকুমার নায়েক সহ বিজেপি ও কংগ্রেস কাউন্সিলর ৭জন রয়েছেন। এবং বেশকিছু ফাইল এলোমেলো। পৌর প্রধান বেআইনিভাবে ঢুকে সরকারি অফিসের ফাইলপত্র চুরি করেছেন বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল কাউন্সিলরগণ। দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়।
অপরদিকে পৌর ভবনের বাইরে সহস্রাধিক তৃণমূল সমর্থিক ভিড় জমায় এবং পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে ঢোকার চেষ্টা করে। তৃণমূলের দাবি ভোটের আগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাঝরাত্রে কেন পৌরসভায় প্রবেশ করলেন বিজেপি কাউন্সিলররা। চেয়ারম্যান পদের প্রভাব খাটিয়ে ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপির চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।গণতান্ত্রিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে বিজেপি এই কাজ করেছে বলে দাবি তৃণমূল কাউন্সিলরদের। শুধু তাই নয় আইনানুপ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তৃণমূলের কাউন্সিলরগণ এগরা থানার আইসির কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
সংবাদ মাধ্যমের কাছে জয়ন্ত বাবু আরো জানান তিনি বর্তমান পরিস্থিতি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বদের অবগত করিয়েছেন। নেতৃত্বের পরামর্শ মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন বিজেপির কাউন্সিলর ও বিরোধী দল নেতা অম্বিকেশ দাস।
চেয়ারম্যান স্বপন নায়কের দাবি, তাঁরা কোনো বেআইনি কাজ করেননি। তিনি বলেন,আমরা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অর্থাৎ ১০.৪০ টায় উপস্থিত হয়েছি। যাতে কোনো বাধা ছাড়াই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারি। আগে আসার মধ্যে কোনো ভুল নেই এবং আইনত এতে কোনো বাধা নেই। ভোটাভুটিতে জিততে পারবেনা বলে এমন করছে তৃণমূল কাউন্সিলরগণ। ভোররাতে তালা ভেঙ্গে পৌর ভবনে ঢোকার অভিযোগ মিথ্যা এবং অপপ্রচার করছে। এই নিয়ে পুরপ্রধান আইনের দ্বারস্থ হবেন কিনা জানতে চাইলে, তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান প্রয়োজনে ভাববেন ।
বিজেপির দাবী তৃণমূল হার নিশ্চিত জেনে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় প্রশাসনিক আধিকারিকরা আপাতত ভোট প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলাশাসক এগরা মহকুমা শাসক পৌর প্রধান সমস্ত কাউন্সিলর পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে দেন এক্সিকিউটিভ অফিসার। পরবর্তী তারিখ কবে তা জানানো হবে পরে। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। সারাদিন ধরে এই রুদ্ধশ্বাস নাটক দেখল এগরা পৌরবাসি। এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ৯ নভেম্বর থেকে। তারপর মামলাগড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। প্রথম অনাস্থা হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়। তারপর ফের অনুষ্ঠানে তৃণমূল কাউন্সিলর। তারই আস্থা ভোট হওয়ার কথা ছিল শনিবার সকালে। তাকে ঘিরেই প্রশাসনিক কর্তাদের সামনে সৃষ্টি হল তাল পরিস্থিতি। যার কারণে প্রশাসনিক কর্তারা এই আস্থা ভোট বাতিল করতে বাধ্য হয়। এগরা মহকুমা শাসক কর্ম বীর জানিয়েছেন এই উত্তেজনাপ পরিস্থিতিতে আস্থা ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশ রিপোর্ট দেওয়ার পরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ তদন্তের পর সিদ্ধান্ত হবে। অপরদিকে কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি পীযুষ কান্তি পন্ডা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন এগরার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের খারাপ অবস্থা। তার জন্য দায়ী এই পৌরপ্রধান। পৌর প্রধানকে ছড়ালে এগরা শহরের মানুষ আবার তৃণমূলের প্রতি আস্তা ও ভরসা রাখবে বলে দাবি করেন তিনি। এগরা পৌর প্রধান স্বপন নায়কের বিরুদ্ধে দল সঠিক সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।





