প্রদীপ কুমার সিংহ :- রাতে শুট আউট। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল দু’জনের। মৃতদের নাম সাজ্জাত মণ্ডল(৪৮), সারফুদ্দিন লস্কর(৩২)।
মৃত সাজ্জাত মণ্ডলের ছোট কাকা অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ মণ্ডলের । ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত ২-৩০ নাগাদ বারুইপুর থানার নবগ্রাম পঞ্চায়েতের গৌড়দ এলাকায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দু’জনকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত্যু হয় সাজ্জাত মণ্ডলের। গুলি লাগে তাঁর বুকের পাঁজরে ও পেটে।

শরফুদ্দিনকে বারইপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসকরা অবশ্য অবনতি দেখায় তাকে কলকাতা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করে। গুরতর আহত অবস্থায় সারফুদ্দিন লস্করকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার সরকারি হাসপাতালে, সেখানে সে মারা যায় সারফুদ্দিনের বুকে ও মাথায় গুলি লেগেছিল।
দুজনেরই দেহ বারুইপুর হাসপাতালে রাখা হয়।এদিকে, এর জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বুধবার সকালে।

ঘটনাস্থলে যায় বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষের নেতৃত্বে বারুইপুর এস ডিপিও, আই সি সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজিত জনতা ও আত্মীয় পরিজন মূল অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ মণ্ডলের বাড়ি, দোকান, তার আত্মীয় পরিজনদের বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকী, বাড়ির আসবাবপত্র, সিলিন্ডার, বাইক সব পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে দু’টি গুলির খোল উদ্ধার করে,পুলিশ মূল অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ মণ্ডলের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষ বলেন, মদের আসরে বচসা থেকে গুলি চালিয়ে দেয় আব্দুল হামিদ।
একজন আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে, এলাকায় পুলিশ পিকেট বসেছে
এদিন, দুপুরে মৃতদের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাতে যান বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সরদার।
বিধায়ক বিভাস সরদার বলেন, পুলিশ কড়া হাতে দেখছে ব্যাপারটি। মৃত সাজ্জাত মণ্ডল দিনমজুর ছিল গৌরদহ বাসিন্দা। সারফুদ্দিন লস্কর হিমচি এলাকার বাসিন্দা।

সাজ্জাদ মণ্ডলের স্ত্রী জিন্নাতন মণ্ডল বলেন, ঘুটেবেড়েতে যাত্রা দেখতে যাচ্ছে বলে সন্ধ্যা ৭টার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল স্বামী। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। ভাইপো কাকাকে খুন করেছে। পাশাপাশি, সারফুদ্দিন লস্করের স্ত্রী সাইনুর লস্কর বলেন, ১ লক্ষ টাকা নিয়েই বন্ধু সাজ্জাতের ফোন পেয়ে সন্ধ্যা ৭ টায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল স্বামী। স্বামীর কোনও শত্রু ছিল না।
অভিযুক্ত ভাইকে পুলিশ আটক করেছে সেইসঙ্গে অভিযুক্ত যে দোকান ছিল সেই দোকান ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।
–





