প্রদীপ কুমার সিংহ
খুন হয়ে যাওয়া বিজেপি কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আশ্বাস দিলেন ন্যায় বিচারের। প্রসঙ্গত ৯ বছর আগে ২০১৭ সালে দক্ষিন ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার অন্তগত সাউথ গড়িয়ার বাসিন্দা সৌমিত্র ঘোষালকে পিটিয়ে খুন করে গ্রামের একটি সুপারি বাগানে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দিনের বেলাতেই নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছিল সৌমিত্রকে। অভিযোগ ছিল এলাকায় বিজেপি দল করার অপরাধেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা পিটিয়ে খুন করে তাঁকে। ঘটনার পর দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে দীর্ঘদিন এলাকায় আন্দোলন করেন বিজেপি নেতা কর্মীরা।
অনেক আন্দোলনের পর দোষীদের কয়েকজন গ্রেফতার হলেও তারা বেকসুর খালাস হয়ে যায়। কোন বিচারই পাননি মৃতের পরিবার। অবশেষে ৯ বছর পর রাজ্যে তৃণমূল সরকারের পতনে ফের আশার আলো দেখছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। শনিবার ব্রিগেডে বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেখা করলেন নিহতের পরিবারের সাথে। আশ্বাস দিলেন ন্যায় বিচারের। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে খুশি সৌমিত্রের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি সরকার বদলে তাঁরা খুশি, আর প্রধানমন্ত্রী যখন আশ্বাস দিয়েছেন তখন নিশ্চয় বিচার পাবেন তাঁরা।
ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই শোকার্ত মা বনলতা দেবী। বয়সের ভারে এখন আর সোজা হয়ে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তবে এখনও তিনি তাকিয়ে ছেলের খুনিদের শাস্তির দিকে চেয়ে। বনলতা বলেন, “ ঘটনার দিন দুপুরে বাড়ি থেকে বেড়িয়েছিল। কিন্তু আর বাড়ি ফেরে নি। লোকেরা বলল ছেলেকে মেরে হাত পা বেঁধে সুপারি বাগানে ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে। ও মোদীর দল করতো। তাই ওকে খুন করল। আজ প্রধানমন্ত্রী যে আমাদের সাথে দেখা করলেন, তাতে আশা করছি বিচার পাবো। এখন বিজেপি সরকার এসেছে বলে আমরা খুব খুশি ও খুব আনন্দিত। আজ যদি ছেলে থাকতো কত আনন্দ পেত। ও বলতো তৃণমূলের অত্যাচার সহ্য করা যায় না। তাই বিজেপি দল করতো। মাঝে মধ্যে ঠাকুর তৈরির কাজ করতো। আমরা আশায় রয়েছি যে এবার বিচার পাবো।”
সৌমিত্রের বৌদি শিখা ঘোষাল বলেন, “ ও বিজেপি দলকে খুব ভালবাসত। বিজেপি দল করতো বলেই এলাকার তৃণমূলের লোকেদের খুব রাগ ছিল ওর উপর। ও যাতে এই এলাকায় বিজেপি দলকে শক্তিশালি না করতে পারে সেই কারণে হুমকি দিত। কিন্তু ও খুব সাহসী ছিল। কারও হুমকিকে গুরুত্ব দিত না। কিন্তু এটাই ওর কাল হয়। সেই রাগেই ওকে সুপারি বাগানে গিয়ে খুন করে। হাত পা বেঁধে সুপারি গাছে ঝুলিয়ে দিয়ে খুন করে। সেই সময় আমরা বিচারের আবেদন জানালেও আমরা বিচার পাইনি। সেই সময় বিজেপি সাংসদ রূপা গাঙ্গুলি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। দোষীদের গ্রেফতার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন বিচার পাইনি। আজ যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকেছিলেন তাতে আমরা খুব খুশি, আশাকরি বিচার পাব। এখন দেখার নতুন সরকার কত তাড়াতাড়ি এই কাজ করতে পারে।





