মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে শহরের অন্যতম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ডেনফিট ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে শাস্ত্রীয় নৃত্যের বিশেষ বৈঠকী অনুষ্ঠান “নৃত্য প্রভা” অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণভাবে আয়োজিত হয়। এই অনুষ্ঠানে জামশেদপুর ও কলকাতা থেকে আগত প্রতিভাবান তরুণ শিল্পীরা তাঁদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ড. রাজেশ কুমার লাল দাস। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন সোনালি চ্যাটার্জি, ড. তাপস কুমার চ্যাটার্জি, বিপ্লব দত্ত ও পি. কে. নন্দী। তারা জলপাত্রে পুষ্পার্পণ করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সকল অতিথিকে উত্তরীয় ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।
এরপর শুরু হয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের মনোমুগ্ধকর আসর। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় টিম ডেনফিট-এর কথক শৈলীতে পরিবেশিত “গণেশ বন্দনা – নিরতৎ ঢং” দিয়ে। পরবর্তীতে কলকাতার ওডিশি নৃত্যশিল্পী তনিশা ঘোষ “গঙ্গা তরঙ্গ – ডান্স অফ শিবা” পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। ভরতনাট্যম শৈলীতে অদ্রিজা চৌধুরী (কলকাতা) “নটরাজন উন্টিরু – কীর্তনম” পরিবেশন করে বিশেষ প্রশংসা অর্জন করেন।
কথকের একক পরিবেশনায় অনন্যা “তিনতাল” উপস্থাপন করেন। অবিনাশ সেমি-ক্লাসিক্যাল নৃত্যের মাধ্যমে দর্শকদের আকৃষ্ট করেন। পুনরায় তনিশা ঘোষ ওডিশি শৈলীতে কৃষ্ণভিত্তিক ওড়িয়া অভিনয় “লীলা নিধি” পরিবেশন করে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেন।
এরপর অদ্রিতা কথকে “তরানা” পরিবেশন করেন এবং আরিহা আদেসরা, রুদ্রাক্ষী ও আর্যা যৌথভাবে “বসন্ত ঋতু আই” উপস্থাপন করে দর্শকদের মন জয় করেন। টিম কলাত্রয়ী (অবিনাশ কুমার মিশ্র, রাইমা বিশ্বাস ও কোমল প্রসাদ) কথক তরানা পরিবেশন করেন, যার সঙ্গীত পরিকল্পনা করেন বাগেশ্রী ওয়াজে এবং কোরিওগ্রাফি করেন গুরু শ্রীমতী সোনালি চ্যাটার্জি।
ভরতনাট্যম শৈলীতে অদ্রিজা চৌধুরী “রাগমালিকা জাতিস্বরম” পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় কলকাতার কথক নৃত্যশিল্পী অঙ্কিতা পালের “শান্তি মন্ত্র ও রাস” পরিবেশনার মাধ্যমে, যা সমগ্র প্রেক্ষাগৃহকে ভক্তিময় আবহে আবৃত করে।
শেষে সকল শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি জামশেদপুরের বিশিষ্ট কথক নৃত্যশিল্পী মিষ্টু মুখার্জির দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক শিল্পপ্রেমী উপস্থিত থেকে শিল্পীদের অসাধারণ প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেন।





