Select Language

[gtranslate]
১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ সোমবার ( ৩০শে মার্চ, ২০২৬ )

৫৪ তম বসন্ত উৎসবে আয়োজন করেছেন সাবাজপুটের ক্লাব বন্দেমাতরম

দীর্ঘ তিন বছর বিরতির পর বৈচিত্রের ডালিপূর্ণ করে ৫৪ তম বসন্ত উৎসবে আয়োজন করেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি ১ ব্লকের সাবাজপুটের ক্লাব বন্দেমাতরম। যা কাঁথি মহকুমা তথা জেলার সর্ববৃহৎ উৎসব বলে দাবি এলাকাবাসীর। ক্লাবের কর্মকর্তা ও সম্পাদক তথা সাবাজপুট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রামগোবিন্দ দাস বলেন এই উৎসব এবার ৫৪ তম বর্ষে পা দিয়েছে। করোনার জন্য দু’বছর এই উৎসবের আয়োজন করতে পারা যায়নি। উৎসব মাঠ নিয়ে সমস্যা থাকায় অতিরিক্ত এক বছর এই উৎসবের আয়োজন করাযায়নি। এবার পূর্বের স্পর্শগুলি থেকে নতুনত্বের ছোঁয়া নিয়ে উৎসবে মাতবে এলাকাবাসী। সবকিছু আয়োজন থাকলেও মাঠের সমস্যা থাকার জন্য গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সেবা বিশ্ব শান্তির জন্য তারকব্রহ্ম নাম সংকীর্তন ও অন্নমহোৎসব করতে পারা যাচ্ছে না বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। কারণ এবার বিদ্যালয় এর মাঠ পাওয়া যায়নি। যে কারণে ছোট মাঠে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৩০হাজার লোককে পাত পেড়ে অন্নভোগ খাওয়ানো হত। একসঙ্গে প্রায় ৩ হাজার লোক বসে খেত। সেই জায়গা না থাকার জন্য এই অনুষ্ঠানকে সংকোচ করতে হয়েছে।

তাছাড়া তিনি আরো বলেন ২৫ মার্চ দোল পূর্ণিমার পূন্য দিনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুভ সূচনা হবে। দাউদপুর থেকে সাবাজপুট পর্যন্ত বর্ণময় শোভাযাত্রা এলাকা পরিক্রমা করবে। সংঘের পতাকা উত্তোলন এবং রাতে ঘটোত্তোলন ও রাধা কৃষ্ণের পূজা পাঠ হবে। শোভাযাত্রায় থাকবে নিত্য ঝংকার, বাউল গানের তালে তালে ধামসা মাদলের শব্দ, গানের মূর্ছনা ও সুরে ছন্দে ফুলে ফুলে বসন্ত উৎসবের প্রভাত ফেরী বৈচিত্র ময় হয়ে উঠবে। এদিন সন্ধ্যায় গুণীজন সম্বর্ধনা ও রাধা কৃষ্ণের গান এর আয়োজন করা হয়েছে। এলাকা বিখ্যাত চন্দননগরের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে বলে তিনি দাবি করেছেন।আজ থেকেই এলাকা কে আলোই মুড়ে ফেলা কাজ চলছে পুরোদমে। অনুষ্ঠানে কম করে দশটিরও বেশি সঙ্গীত ও নৃত্যের দল নাম লিখিয়েছে অনুষ্ঠান করার জন্য। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, নিত্য, গান, ক্যারাটে ইত্যাদি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। যেমন খুশি আঁকো এবং যেমন খুশি সাজো প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হয়েছে। এই উৎসব চলবে আগামী পয়লা এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যায় খ্যতনামা টলিউড ও বলিউডের চলচ্চিত্র ও সিরিয়াল অভিনেতা-অভিনেত্রী মঞ্চ মাতাবেন। তিনি আরো বলেন এই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসে এলাকাকে ভরিয়ে তুলবে। সব মিলিয়ে এই উৎসব এলাকায় সম্প্রীতি, শান্তি ও বন্ধুত্বের মেলবন্ধন তৈরি করবে। এবার গ্রামে উৎসব হচ্ছে জানতে পেরে দেশ-বিদেশে থাকা গ্রামের যুবকেরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। উৎসব ৮ দিনের হলেও রীতিমত আরো দশ দিন আগে থেকে এলাকায় উৎসবের ঢাকা পড়েছে কাঠি। এই উৎসব কে পরিচালনা করার জন্য ক্লাবের বহু যুবক স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকায় থাকবেন। এলাকার গৃহবধুরাও এই উৎসবে আনন্দ উপভোগ করার জন্য নিজেরা নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি সকলকে আহ্বান করেছেন উৎসবকে শান্তিপূর্ণ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সুসম্পন্ন করার জন্য সহযোগিতা।

Related News

Also Read