কথায় বলে, “কেউ নেই যার, ভগবান আছেন তার”। এটি বাংলার প্রবাদ যা নিঃসহায় মানুষের ভরসা সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বরের। এমনই একটি ঘটনার সাক্ষী থাকলো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরবাসীরা। অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালো গোটা গ্রাম। যে এই কাহিনীর মূল চরিত্র তার মা কিছুটা বিকৃত মস্তিষ্কের, পথে পথে ঘুরে বেড়ায়, ভিক্ষা করে। দিনের শেষে বাড়ি ফেরে কুড়িয়ে আনা, চেয়ে আনা শাক- সবজি -চাল -ডাল সঙ্গে নিয়ে, কোনোদিন হয়তো কিছু আসেও না। মেয়েটির বাবা প্রয়াত হয়েছেন প্রায় বছর পনেরো আগে। তাই অতি অল্প বয়স থেকেই এই মেয়েকেই পড়াশোনার সাথে সাথে সংসার দেখাশোনা করতে হতো পুরোদমে। রেশন তোলা থেকে শুরু ক’রে ডাক্তার দেখানো যাবতীয় কাজ করতে হতো তাকে। ভালো নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পাশ করবার পরও সুমিতা সিং-এর হারিয়ে যায় মেধা। আর পড়াশোনা করা হয়ে ওঠেনি। সংসারের খরচ সামলাতে দাদা প্রথম দিকে দিন মজুরের কাজ করতো, পরে কলকাতায় পাড়ি দেয বেশি উপার্জন লক্ষ্যে। এবার সুমিতার বিয়ে দিতে হবে, বয়স তো হলো ১৮ বছর। কিন্তু অতি সামান্য উপার্জন, যাতে দিন গুজরান হয় না। এই রকম অবস্থায় বিয়ের তোড়জোর শুরু করলো দাদা। কিন্তু খরচ তো কিছু লাগবে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রাম থেকে একের পর এক আশ্বাস নিয়ে পাশে এসে দাঁড়ালেন সাধারণ মানুষজন। গ্রামের প্রত্যেক শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দাঁড়ালেন ‘বোন দায়গ্রস্ত’ দাদাকে । সবাই নিজের মতো করে সাহায্য করলেন। ছাতা , জুতো, শাড়ি, সোনা-রূপার গহনা থেকে শুরু করে সহযোগিতাই করলেন গ্রামের মানুষজন। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘দক্ষিণ খাড় স্টার ক্লাব’। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই সুমিতার মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনার একটা বিরাট দায়িত্বও সামলেছিল এই ক্লাব । পূর্ব খাড় গ্রাম কমিটি, খাড় নেতাজী সংঘ সহ ওই গ্রামের বহু মানুষ বিশেষভাবে সহযোগিতা করলেন সুমিতার বিয়েতে। মঙ্গলবার রাতে বিয়ে হয়ে গেল মেয়েটির। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরের পূর্ব খাড় গ্রামে সুমিতার বাড়ি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পের ২৫০০০ টাকা প্রাপ্তির আবেদন পত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে বি ডি ও অফিসে ছুটে গেছেন পূর্ব খাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নারায়ণ কামিল্যা। গ্রাম কমিটির সম্পাদক চন্দন জানা, সভাপতি তারকান্ত মিশ্র, কোষাধ্যক্ষ নরনারায়ণ দাস, খাড় ৩ নম্বর অঞ্চলের প্রাক্তন প্রধান তথা প্রাক্তন শিক্ষিকা মালতী আচার্য্য প্রমুখ সহযোগিতা সহযোগিতা সহ গ্রামের মন্দির প্রাঙ্গণে এই বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।





