Select Language

[gtranslate]
৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বুধবার ( ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ )

ছেলের আশায় বসে থেকে গোবিন্দ বাবু চলে গেলেন না ফেরার দেশে

প্রদীপ কুমার সিংহ

মা দেখতে চেয়েছিল সোমবার পর্যন্ত তার গুণধর ছেলে ফিরে কি”না, ছেলে না ফিরলেও সোমবার স্বামী চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শেষকৃত্য সম্পন্ন করলো প্রশাসনের লোকজন।মায়ের হাতে ৩০০ টাকা গুঁজে দিয়ে বারুইপুর স্টেশনের ১ নম্বর প্লাটফর্মে বৃদ্ধ বাবা ও মা কে ফেলে রেখে বেপাত্তা হয়েছিল গুণধর ছেলে। শারীরিক অসুস্থতায় ৭৫ বছরের গোবিন্দ বাবুর মৃত্যু হয়। কিন্তু ছেলে তো ফেরেনি।

স্বামীর মৃতদেহ শশ্মানে যাবে কীভাবে?সৎকার কাজ হবে কীভাবে সেই ভেবেই দিশেহারা হয়ে উঠেছিলেন বৃদ্ধা ৬৯ বছরের কমলা পুরকাইত। দিন কয়েক আগে বৃদ্ধ বাবা মাকে বারুইপুর স্টেশনে এক নম্বর প্লাটফর্মে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল গুণধর ছেলে। রেল পুলিশ বৃদ্ধ দম্পতির চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তবে সম্প্রতি বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় অসুস্থ বৃদ্ধের। ছেলের জন্য অপেক্ষায় না থেকে বৃদ্ধার সম্মতি নিয়ে সোমবার রাতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করল বারুইপুর থানার পুলিশ এবং প্রশাসনের লোকজন।

দিন কয়েক আগে দেখা যায়, শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার বারুইপুর প্লাটফর্মে পড়ে রয়েছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। নাম কমলা পুরকাইত ও গোবিন্দ পুরকাইত। গোবিন্দ বাবু যথেষ্ট অসুস্থ অবস্থায় পড়েছিলেন। কার্যত হাঁটাচলা করতে পারছিলেন না। কমলা পুরকাইত জানান, তাঁদের বাড়ি রায়চক এলাকায়। একমাত্র ছেলে জয়ন্ত পুরকাইত তাঁদের বারুইপুর প্লাটফর্মে ফেলে রেখে চলে গিয়েছে। হাতে দিয়ে গিয়েছে মাত্র ৩০০ টাকা, কিছু শুকনো মুড়ি ও চানাচুর। সেই খেয়েই দিন গুজরান হচ্ছে। তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল বারুইপুর প্ল্যাটফর্ম থেকেই চুরি গিয়েছে বৃদ্ধ দম্পতির। দিন তিনেক পরে ছেলে ফিরবে বললেও আর ফেরেনি বলেই দাবি।

বিষয়টি জানতে পেরে রেল পুলিশ তাদের একটি হোমে পাঠায়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই রবিবার মৃত্যু হয় বৃদ্ধের। এরপর প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সেরে সোমবার রাতে বারুইপুর থানার পুলিশ ও বারুইপুর পুরসভার কর্মীরা মিলে বারুইপুরের কীর্তনখোলা শ্মশানে বৃদ্ধের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। গুণধর ছেলে কোনদিন আর খোঁজ নিতে আসেনি।

Related News

Also Read