প্রদীপ কুমার সিংহ
সংবিধান মেনে চললে প্রকৃত গণতন্ত্র রক্ষা করাযায়। এই কথা বললেন তৃণমূলের সাংসদ ইউসুফ পাপাঠান। রবিবার সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ফিরদৌসী বেগম মে এক নির্বাচনী কর্মসূচিতে এসে এই কথা বললেন ইউসুফ পাঠান। তিনি আরো বলেন সংবিধানের অধিকারের লড়াইয়ে এগিয়ে মমতা, একতা ও উন্নয়নে অটুট ভরসা বাংলার মানুষের।সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী আবহে রবিবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারে এক নতুন গতি লক্ষ্য করা গেল। দলের প্রার্থী ফিরদৌসী বেগমের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত হয়ে জনতার উদ্দেশ্যে জোরালো বার্তা রাখলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা সাংসদ ইউসুফ পাঠান। সভা থেকে তিনি বিশেষভাবে সরব হন এসআইআর (ভোটার যাচাই প্রক্রিয়া) ইস্যু নিয়ে এবং সংবিধান ও ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইউসুফ পাঠান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশের মূল ভিত্তি হল মানুষের ভোটাধিকার। দেশের প্রতিটি বৈধ নাগরিক সংবিধান অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন, কিন্তু সেই অধিকার নিয়েই যদি প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি উল্লেখ করেন, “গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর সুরক্ষিত থাকে। আর সেই কণ্ঠস্বরের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হল ভোট।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৈধ ভোটারদের অধিকার নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা মোটেই স্বাভাবিক নয়। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব, যারা মানুষের পাশে দাঁড়াবে এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করবে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-র ভূমিকার প্রশংসা করেন।
ইউসুফ পাঠানের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র একটি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান নন, তিনি একজন সংগ্রামী নেত্রী, যিনি বারবার সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্নে সামনে এসেছেন। বাংলার মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং দেশের অন্যত্র যেখানে অন্যায়ের অভিযোগ উঠেছে, সেখানেও আওয়াজ তুলেছেন। এই অবস্থান প্রমাণ করে, তিনি গণতন্ত্র এবং সংবিধানের প্রতি কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারাও একই সুরে বক্তব্য রাখেন। তাঁদের মতে, দলের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট—যেকোনো সমস্যার সমাধান আইনি ও সাংবিধানিক পথেই হওয়া উচিত। তারা বিশ্বাস করে, আইনকে সম্মান জানিয়ে এবং সংবিধান মেনে চললেই প্রকৃত গণতন্ত্র রক্ষা সম্ভব। বাংলার মানুষও এই নীতিকে সমর্থন করেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের মত প্রকাশ করতে চান।
অন্যদিকে বিজেপির “পরিবর্তন” স্লোগানকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেতৃত্ব জানায়, বাংলার মানুষ শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে না, তারা বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চায়। গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকার যে সব প্রকল্প চালু করেছে—যেমন নারী কল্যাণ, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন—তা সরাসরি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের উপর আস্থা রাখছে বলে দাবি করা হয়।
এদিনের সভায় বাংলার সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে। দুর্গাপূজা, ঈদ, কালীপূজা, বড়দিন—সব উৎসবই এখানে সমান উৎসাহে পালন করা হয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই যে ঐক্য, সেটাই বাংলার প্রকৃত শক্তি।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে এবং উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মমতা ব্যানার্জি র নেতৃত্ব অপরিহার্য। তারা আরও জানায়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির তুলনায় রাজ্য সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করেই দেখিয়েছে। এই বিশ্বাসই মানুষের মধ্যে তৃণমূলের শক্তির মূল ভিত্তি।
সব মিলিয়ে, সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের এই সভা থেকে যে বার্তা উঠে এল, তা স্পষ্ট—সংবিধান প্রদত্ত অধিকারের সুরক্ষা, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির রক্ষা—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই তৃণমূল কংগ্রেস আগামী নির্বাচনে মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইছে। আর এই বার্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি, যাঁর নেতৃত্বে দল এবং সরকার উভয়ই নিজেদের পথ নির্ধারণ করছে।
সোনাপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী প্রাক্তন আইপিএস অফিসার দেবাশীষ ধর রবিবার বিকালে নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত নবগ্রাম যুবক সংঘ এলাকা থেকে জনসংযোগ কর্মসূচি অর্থাৎ নির্বাচনী প্রচার করে। তিনি এই দিন প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির গ্যারান্টি কথা উল্লেখ করে। অমিত শাহ দুদিন আগে যে দলের মেনু ফেস্টু বার করেছে আগামী দিনে বিজেপি সরকার গঠন করলে সেই সব কাজ গুলি হবে। মহিলাদের ৩ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা যুবকদের জন্য ৩ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। এই দিন যুবক সংঘ থেকে গড়িয়া ঢালাই ব্রিজের কাছে বিজেপির নির্বাচনে পার্টির অফিস পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।





