পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি ৩ ব্লকের ধানঘরা জ্ঞানেন্দ্র বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন ছাত্র প্রতিষ্ঠিত সুনীল প্রামাণিক তাঁর কৈশোরের বিদ্যালয় ধানঘরা জ্ঞানেন্দ্র বিদ্যাপীঠ এর প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক হিমাংশু শেখর মণ্ডলকে এক অভিনব কর্মসূচির মাধ্যমে গুরুপ্রণাম জানালেন। শনিবার আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের মর্যাদা ও কৃতজ্ঞতার মূল্যবোধকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।সুনীল প্রামাণিক বাবু জানান, জীবনের পথচলায় শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা তিনি পেয়েছেন তাঁর শিক্ষক হিমাংশু শেখর মণ্ডলের কাছ থেকেই। সেই শৈশবের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই উদ্যোগ। শিক্ষাক্ষেত্রে হিমাংশু শেখর মণ্ডলের দীর্ঘদিনের অবদান ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার ভূমিকা স্মরণ করা হয়।

এই উদ্যোগে উপস্থিত ছাত্র- ছাত্রী ,শিক্ষক -অশিক্ষক কর্মচারী সকলের মনে আবেগের সঞ্চার হয় এবং সমাজে শিক্ষকের সম্মান ও কৃতজ্ঞতা ও সংস্কৃতিকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। বর্তমান এই অবক্ষয়ের সমাজে সুনীল প্রামাণিক এক বিরল ছাত্র—এমনটাই মত প্রকাশ করেন উপস্থিত শিক্ষানুরাগীরা। তিনি বলেন,
“আমার প্রনম্য শিক্ষক ৯৩ বছরের গুরু হিমাংশু শেখর মণ্ডল কে আজ কাছে পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। জীবনের সঠিক পথ দেখিয়েছেন তিনিই। তাঁর আশীর্বাদই আমার চলার শক্তি।”তিনি আরও জানান, “আজকের সমাজে যেখানে শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে, সেখানে গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানানোই তাঁর এই অভিনব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক হিমাংশু শেখর মণ্ডল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এমন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা একজন শিক্ষকের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এমন ছাত্র ঘরে ঘরে গড়ে উঠুক। সুনীলের জীবন আরোও উন্নতি হোক,সারা জীবন সুখী থাকুক সে।” এই অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মের কাছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

বর্তমান প্রধান শিক্ষক তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিনি নিজেও এই বিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র এবং একসময় প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক হিমাংশু শেখর মণ্ডলের স্নেহ ও আশীর্বাদধন্য ছিলেন, এখনোও আছেন। সেই অর্থে এই গুরুপ্রণাম অনুষ্ঠান তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি জানান, সুনীল প্রামাণিক এই গুরুকে সম্মান প্রদান এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে তিনি দেখছেন। আজকের দিনে কৃতী ছাত্র হয়েও সুনীল বাবু তাঁর ছোটো বেলার বিদ্যালয়কে ভুলে যাননি, ভুলে যাননি তাঁর কৈশোর ও ছাত্রজীবনের স্মৃতিকে। বিদ্যালয়ের সঙ্গে এই আত্মিক বন্ধনই তাঁকে সমাজে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ করে তুলেছে।তিনি আরও বলেন, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিশুরা সুনীল প্রামাণিক এর কাছ থেকে নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করেছে। গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও মানবিক মূল্যবোধ যে আজও প্রাসঙ্গিক—এই বার্তাই শিশুদের মনে গভীরভাবে পৌঁছে গেছে।





