Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

বাংলাকে জঙ্গলরাজ বলে অপমান করেছে প্রধানমন্ত্রী- পরিবহণ মন্ত্রী।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সংগঠনকে মজবুত ও শক্তিশালী করতে নন্দীগ্রামে সভা করলেন রাজ্য পরিবহন মন্ত্রী নেয়াশীষ চক্রবর্তী। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মিরপুর জেলার নন্দীগ্রামে শক্তি প্রদর্শন করল তৃণমূল। তৃণমূলে যোগদানকে ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা বৃষ্টি হয় এলাকায়। রবিবার নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আয়োজিত জনসভা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এদিন বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস ও আইএসএফ ছেড়ে ৫০০-এর বেশি কর্মী তৃণমূলে যোগদান করে। তাদের মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিজেপির একাধিক বুথ এর বি এল এ অর্থাৎ এজেন্টও ছিলেন। প্রধান বক্তা রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস

চক্রবর্তী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, শুভেন্দু ও বিজেপি নেতৃত্ব দিল্লির দরবারে তদ্বির করে বাংলার ১০০ দিনের কাজের টাকা এবং আবাস যোজনার প্রাপ্য আটকে রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘যিনি বাংলার বিরোধী দলনেতা, তিনি আসলে বাংলার মানুষের পেটে ও ভাতে মারার চক্রান্ত করছেন।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যে রাজ্যের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৮ লক্ষ মানুষের পাকা বাড়ির ব্যবস্থা করছেন, সে কথাও এদিন মনে করিয়ে দেন পরিবহণ মন্ত্রী।ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে মন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘নথিপত্রের জটিলতায় লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভোটার, বিশেষ করে হিন্দু উদ্বাস্তু ও ভূমিহীন গরিব মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।’ তবে তৃণমূলের বিএলএ-রা প্রতিটি বুথে মানুষের পাশে থেকে এই চক্রান্ত রুখে দেবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রানাঘাট সফরকে তীব্র কটাক্ষ করেন মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, রানাঘাটের মতুয়া ও উদ্বাস্তু সমাজ যখন এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী চপার ঘুরিয়ে ‘পালিয়ে’ গিয়ে বিমানবন্দরে ভার্চুয়াল সভা করেন। বাংলার সাধারণ মানুষ আশা করেছিল প্রধানমন্ত্রী ১০০ দিনের কাজ এবং আবাস যোজনার বকেয়া টাকা মেটানোর কথা বলবেন।কিন্তু তার বদলে তিনি বাংলাকে ‘মহাজঙ্গলরাজ’ বলে অপমান করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীরা কেবল বাংলার মানুষকে ভাতে মারার চক্রান্ত করছে না, তারা বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকেও ধ্বংস করতে চাইছে।’ প্রধানমন্ত্রী বাংলাকে অপদস্থ করে চলে গেছেন। দাবি করে তিনি জনগণকে এই ‘বাংলা বিরোধী’ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন।পরিবহণ মন্ত্রী টোটো ও ই-রিকশা চালকদের আশ্বস্ত করেন মাত্র ১৬৪৫ টাকায় অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে তাদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা হবে। কোনও দালালের খপ্পরে না পড়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘সরকার কাউকে জীবিকাচ্যুত করবে না।’ এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজিত রায়, জেলা চেয়ারম্যান অসিত ব্যানার্জি, জেলা সভাধিপতি তথা বিধায়ক উত্তম বারিক, তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান চঞ্চল খাঁড়া, হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান জ্যোতির্ময় কর, শেখ সুফিয়ান ও আবু তাহেরের মতো নন্দীগ্রামের প্রথম সারির নেতৃত্বরা। নন্দীগ্রামের মাটি থেকে বিজেপিকে উপড়ে ফেলার শপথ নিয়েই এদিন সভা শেষ হয়।

Related News

Also Read