Select Language

[gtranslate]
১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ সোমবার ( ৩০শে মার্চ, ২০২৬ )

।। ফুল্লরা শক্তিপীঠ ।।

বাপী সরকার:-এখানে মাকে মাছের টক দিয়ে অন্নভোগ দেওয়া হয় ।।

অন্যান্য শক্তিপীঠের মতো এই শক্তিপীঠ ঘিরে আছে অনেক গল্প ও কাহিনী । পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মায়ের মন্দির ” ফুল্লরা ” শক্তিপীঠ ।

এখানে সতীর নিচের ” ঠোঁট ” পতিত হয়েছিল । এখানে মাকে ” ফুল্লরা ” ও ভৈরবকে ” বিশ্বশ ” নামে পুজিত হন ।

কথিত আছে যে, প্রাচীনকালে কাশীর মনিকরনিকা ঘাটে তপস্যা করার সময়ে স্বপ্নাদেশ পান কৃষ্ণনন্দ গিরি নামে এক সন্ন্যাসী । স্বপ্নে এইস্থানে এসে পূজো করার নির্দেশ দেন মা । তবেই মোক্ষলাভ হবে এই সন্ন্যাসীর। সেই সময় এই অঞ্চলটি এটি দ্বীপ ছিল ।

নির্দেশ পেয়ে এইস্থানে আসেন কৃষ্ণনন্দ গিরি । তারপর এক মাঘী পূর্ণিমাতে জয় মা ” দূর্গা “রূপে দেখতে পান সন্ন্যাসী ।

সুলতান মেহমুদ গজনভির আক্রমণের সময় একদল বেদানুসারী ব্রাহ্মণ মিথিলা মতান্তরে কৌনজ থেকে বিতাড়িত হয়ে বঙ্গদেশের বর্মনরাজ হরি বর্মার কাছে আশ্রয় লাভ করেন । তাদের কয়েকজন দেবী ফুল্লরার পূজো করার জন্য নিজের জন্মভূমি শীতলগ্রামে নিয়ে আসেন বর্মনরাজের মহাসন্ধি বিগ্রহিক ভবদেব ভট্ট । যাতায়াত ও অন্যান্য অসুবিধার জন্য একসময় এই পূজারীরা দেবী মন্দিরের আশেপাশে জনবহুল এলাকাতে বসবাস শুরু করেন ।

এই মন্দিরটি প্রথম তৈরী করেন কৃষ্ণনন্দ গিরি । জানা যায় একসময় এই মন্দিরের চূড়াতে স্বর্ন কলস শোভা পেত । পৌরাণিক কালে মায়ের দুটি ছোট মন্দির ছিল । এটি তৃতীয় মন্দির ।


১৩০২ সালে তখনকার জমিদার যাদবলাল বন্দোপ্যাধ্যায় মন্দিরটি নির্মাণ করে ছিলেন । তখন ছিল চুনসুরকির মন্দির আর এখন আধুনিক যুগের মন্দির । এখন মাতৃ মন্দিরে প্রাচীনতার ছাপ নেই। মন্দির চত্বরে ” পঞ্চমুন্ডে “র আসন এখনও বিদ্যমান ।


মুল মন্দিরের সামনে সুবিশাল নাট্যমন্দির অবস্থিত । এই নাট্যমন্দিরে হোম-যজ্ঞ থেকে মাতৃ আরাধনার নানা পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ।


নাট্যমন্দিরের অদূরে রয়েছে এক বিশাল জলাশয় । নাম হল ” দেবীদহ “। এই দেবীদহকে কেন্দ্র করে যুগ যুগ ধরে যে লোকশ্রুতি রয়েছে , তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে রামায়ণের কাহিনী । পবন পুত্র হনুমান রামচন্দ্রের দেবী দুর্গার অকাল বোধনের জন্য এই জলাশয় থেকে একশো আটটা নীলপদ্ম সংগ্রহ করে ছিলেন ।


ফুল্লরা শক্তিপীঠ অট্টহাস নামেও পরিচিত । বীরভূমের প্রাচীন ফুল্লরাপীঠ একসময় ছিল তান্ত্রিক সাধকদের আভিরাচিক ক্রিয়াক্ষেত্র । নির্জনতার কারনে বহু দূর দূর থেকে সাধকরা এই পীঠস্থানে এসে আসন পেতেছেন । তন্ত্র সাধনার উত্তম স্থান হিসাবে প্রসিদ্ধ ফুল্লরা দেবীর আগে নিয়মিত শিবাভোগের চল ছিল ।


এই মন্দিরে কোনো বিগ্রহ নেই । সিন্দুরচর্চিত কচ্ছপাকৃতি শিলাখন্ডই দেবীর প্রতিভূ।


প্রতিদিন এখানে অন্নভোগের ব্যবস্থা আছে । দেবীকে রোজ মাছের টক নিবেদন করা হয় । আমিষ নিরামিষ দুই রকমের ভোগ দেওয়া হয় । ভক্তরা সামান্য প্রণামী দিয়ে এই প্রসাদ গ্রহন করতে পারেন। প্রতি অমাবস্যাতে বিশেষ পূজো করা হয় এই মন্দিরে । মাঘী পূর্ণিমাতে বিরাট মেলা বসে , ১৫ দিন ধরে চলে উৎসব শেষ হয় শিবরাত্রিতে । আউল, বাউল, পীর দরবেশের গানে মুখর হয়ে থাকে এই মন্দির চত্বর প্রাঙ্গণ।


বৈচিত্র্যে ভরা এই শক্তিপীঠ । যাকে ঘিরে সব কিছু আবর্তিত হচ্ছে , তিনিই হলেন দেবী ফুল্লরা ।

Related News

Also Read