তিনি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছেন। দিনে দুবেলা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে যাচ্ছেন। নিজের বাড়িতেও সংসারের দায়-দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।তবু কাঁথি শহরের বাসিন্দা রেখা রানী বেরা সরকারি খাতায় মৃত।বন্ধ লক্ষীর ভান্ডার ।
কাঁথি ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মপুকুরিয়া এলাকায় বাড়ি রেখা রানীর অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। অভাবের সংসার।তাই রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা থাকায় সংসার চালাতে কিছুটা সুবিধা হচ্ছিলো । এই প্রকল্প থেকে মাসে মাসে প্রাপ্ত টাকা গত বছর এপ্রিল থেকেই হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায়। তার জেরে সমস্যায় পড়েছেন জীবিত রেখা রানী দেবী।

লক্ষী ভান্ডারের সুবিধা থেকে বঞ্চিতা এই মহিলা জানিয়েছেন এই ব্যাপারে পৌরসভা এবং মহাকুমার শাসক অফিসে আবেদন জানিয়েও ভাতা চালু হয়নি। রেখা রানী জানাচ্ছেন সম্প্রতি মহকুমা শাসকের অফিসে গিয়ে জানতে পারেন সরকারি খাতায় কলমে তিনি নাকি মৃত। তাই ব্যাঙ্ক একাউন্টে ভাতার টাকা পাঠানো হচ্ছে না। কিন্তু একজন জীবিত মহিলা কি করে সরকারের খাতায় মৃত হয়ে যায় সেই উত্তর জানা নেই রেখা রানীর।
প্রশাসন সূত্রে খবর জন্ম মৃত্যুর দেখে প্রতিমাসে সরকারি প্রকল্পে ভাতা দেওয়া হয়। উপভোক্তাদের ওই ধরনের পোর্টাল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। জন্মে মৃত্যুর শংসাপত্র স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তর নিয়ত্রন করে। সেই কাজে সহযোগিতা করে বাংলার সহয়তা কেন্দ্রের কর্মী। নিয়ম অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মারা গেলে সংশ্লিষ্ট পোর্টালে তার মৃত্যুর কারণ কোন চিকিৎসকের অধীনে মারা গিয়েছেন সেই সংক্রান্ত তথ্য আপলোড করতে হয়।
রেখা রানীর ওয়ার্ডের বিজেপির পৌর প্রতিনিধি সুশীল দাস বলেন এই মহিলা পৌরসভায় এবং রাজ্য সরকারের নানা দপ্তরের আবেদন জানিয়েছেন সূরাহা হয়নি। এখন যদি তাকে আবার জীবিত হিসেবে প্রমাণ করতে হয় তার চেয়ে হাস্যকর বিষয় কিছু হতে পারে না। উল্লেখ্য এমন ঘটনা নতুন নয় অতীতে কাঁথি ৩ নম্বর ব্লকের এক মহিলার ক্ষেত্রে এমন হয়েছিল।
রেখা রানীর ব্যাপারে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক বলেন এভাবে কাউকে মৃত বলে ঘোষণা করা যায় না। ডেথ সার্টিফিকেট জমা পড়ার পর প্রকল্প থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার নিয়ম আছে। কি কারনে তার নাম বাদ গেছে এটা সঠিকভাবে খোঁজখবর না নিয়ে বলা যাবে না। এখানে কোন কিছু টেকনিক্যাল ফল্ট থাকতে পারে। যদি তাই হয়ে থাকে তিনি যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পান নিশ্চিতভাবে আমরা সকলেই সহযোগিতা করব।





