Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

।। নরেন ও তালমিছরি ।।

সন্দীপ শ্রীবাস্তব :- সেইদিন বিকানির থেকে এক মাড়োয়ারি এসেছে দক্ষিনেশ্বরে। সঙ্গে মিছরির থালা আর উপড়ে একখানা গরদের কাপড়। দেখে ঠাকুরের বড় খুশি – খুশি ভাব। ডুমো ডুমো মিছরি দিয়ে ভর্তি – করা গরদ – ঢাকা থালা নামিয়ে প্রনাম করল মাড়োয়ারি।

দু দিন পরে নরেন এসে হাজির। যাকে মানে না সেই আবার টানে। যারে নিন্দে তারেই বন্দে।
‘ শোন, কাছে আয় — ; নরেনকে ডাকলেন ঠাকুর।
নরেন কাছে এল। দাঁড়িয়ে রইল, বসল না। শোন, এই মিছরির থালা আর গরদখানা তুই নিয়ে যা—-


উচ্চশব্দে হেসে উঠেল নরেন। পরবার নেংটি নেই দরবারে যেতে চায়। মিছরি দিয়ে আমি কী করব? আমি কী ছোট ছেলে যে মিছরি দিয়ে ভোলাবেন? আর গরদ —
‘ গরদখানা তোর মাকে নিয়ে দে গে। তার আহ্নিক করবার চেলি ছিঁড়ে গিয়েছে। সে এ পরে আহ্নিক করবে।


বুকের মধ্যে ধ্বক করে উঠল নরেনের। তা আপনি কি করে জানলেন? আপনাকে বললে কে?


ওরে, আমি জানতে পাই। উৎসটি ঠিক থাকলে ধ্বনিটি ঠিক আমার কানে লাগে।দ্রৌপদী বস্ত্রহরনের সময় এক হাতে নিজের কাপড় ধরে আরেক হাত তুলে ডাকছিল কৃষ্ণকে। প্রথম – প্রথম শত কান্নায়ও কৃষ্ণ সাড়া দেয়নি। কিন্তু দ্রৌপদী যখন দু হাত তুলে দিলে, ছেড়ে দিলে, তখনই বস্ত্রভার কাঁধে নিয়ে দাঁড়ালেন শ্রীকৃষ্ণ। যোগক্ষেম বহন করে নিয়ে এলেন। তেমনি যে দু হাত ছেড়ে দিয়ে ডাকে, তাকে তুলে নেন ভগবান। তার ডাকটি ঠিক শোনায়।


‘ শোন, নিয়ে যা গরদখানা। তোর নিজের জন্য বলছি না, তোর মা’র জন্য
‘ মার জন্যে আপনার কাছে ভিক্ষে করতে যাব কেন?
ভিক্ষে?


‘ তা ছাড়া আবার কি! মা আমার কাছে চেয়েছেন। আমাকে বলেছেন কিনে দিতে। যখন উপার্জন করতে পারব তখন কিনে দেব। আপনার থেকে ভিক্ষে করে নেব কেন? নরেনের তেজ দেখে প্রসন্নবয়ানে হাসতে লাগলেন ঠাকুর। বললেন, ‘ এ না হলে নরেন।
আমরা হলুম নর আর তুই যে নরের ইন্দ্র।


কিছুতেই নিল না নরেন। গরদের কাপড় মা’র কত দরকার, আকস্মিক ভাবে পেয়ে গেলে কত খুশি হতেন — তা জেনেও টলল না একচুল। মা আমার কাছে চেয়েছেন, আমি রোজগার করে তা কিনে দেব। কিন্তু হাত পেতে ভিক্ষে নিতে যাব কেন? না কিছুতেই ভিক্ষে করব না। স্বয়ং ভগবানের কাছেও নয়।

Related News

Also Read