Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

তুমি হাতটা শুধু ধরো
আমি হবো না আর কারো …

বহ্নিশিখা চৌধুরী

ফোনটা আসার পর প্রায় দুঘণ্টা কোনো জ্ঞান ছিল না নিয়তির, একপ্রকার জোড় করেই অনিকেতের সঙ্গে বিয়েটা হয়েছিল তার , বিয়ের প্রথম প্রথম তাই দুদিক থেকেই কোনো সম্পর্কের উন্নতি দেখা দিচ্ছিল না তাদের মধ্যে , ঠিক ভুলের চিন্তায় প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন দুই বাড়ির অভিভাবকরাই । আর একটু জেনে নিয়েই বোধহয় বিয়েটা দেওয়া উচিত কাজ হতো বলে মনে হচ্ছিল তাঁদের ।

দিন যাচ্ছিল কোনো রকমে ভালোবাসার ছিঁটে ফোঁটা না থাকলেও বেশ অন্যরকম এক বন্ধুত্ত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল নিয়তি আর অনিকেতের মধ্যে কিন্তু তারই মধ্যে আবার ঘটে গেলো আজকের এই দুর্ঘটনা ।

আচকমাই অফিস থেকে ফেরার পথে অতিকায় একটি লরির সাথে ধাক্কা লাগে অনিকেতের গাড়ির । মাথায় সেভাবে চোট না পেলেও বাম পায়ের হাড়ে ফ্যাকচার যথেষ্ট ভয়াবহ , রিকোভারির কোনো চান্স নেই , গোটা শরীর জুড়ে আরও অনেক আঘাতের চিহ্ন থাকলেও চলার ক্ষমতা হারানোর যন্ত্রনা যেন একটু বেশীই আহত করে তুললো সকলকে , তার থেকেও বেশী আহত হলেন নিয়তির বাড়ির লোকজন – মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ।

দিনের শেষে নিয়তির মা’তো স্বার্থপরের মতো বলেই দিলেন মেয়েকে — ” তুই চাইলে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারিস মা, আমরা তোর অন্য জায়গায় বিয়ে দেবো……”



কথার উত্তরে সেদিন আর কিছু বলে নি নিয়তি , শুধু নীরব দৃষ্টিতে চেয়েছিল মায়ের দিকে ।

দেখতে দেখতে প্রায় একমাস হতে চললো , এবার হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ করা হবে অনিকেতকে, যদিও এখন তার হুইল চেয়ারই ভর্সা । চাকরিটাও থাকবে কিনা জানা নেই , আজ নিজের থেকেও তার নিয়তির জন্য বেশী খারাপ লাগছে , যদি অন্য কোথাও বিয়ে হতো মেয়েটার , কতোই না ভালো থাকতো সে , সেখানে কিনা একজন অসহায় স্বামীর হুইল চেয়ার ঠেলতে হচ্ছে তাকে ।

ছোট্ট ওয়ান বেডের কেবিনে অনিকেতের প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুলো গুছিয়ে রাখছিল নিয়তি , আর একটু দূরে হুইল চেয়ারে বসে নিয়তিকে দেখছিল অনিকেত , এই তো কদিন আগে বিয়ে হলো তাদের কতো ঝাগড়া কতো মন কষাকষি আর সেই মেয়েটাই আজ পতিব্রতা স্ত্রীর মতো অনিকেতের সব খেয়াল রাখছে । কী মনে হতে ক্ষীণ কন্ঠে অনিকেত প্রশ্ন করলো নিয়তির উদ্যেশে — ” তুমি ভালো আছ নিয়তি ….”

নিয়তি অবাক হলো কিন্তু কোনো উত্তর দিলো না , নিয়তিকে চুপ থাকতে দেখে আবার বলল অনিকেত — ” কি হলো কিছু বলছ না যে ….!!”

” কী বলবো বলো , দেখতেই তো পাচ্ছ কেমন আছি …” স্মিত হাসলো নিয়তি ….।

” তুমি ভালো নেই আমি জানি সেটা ….” গলা ধরে এসেছে অনিকেতের ….।

” আচ্ছা এই কদিনে জ্যোতিসি হয়ে উঠেছো দেখছি ….” অনিকেতের পায়ের সামনে এসে হাঁটু মুড়ে বসলো নিয়তি ….।

” সব কিছু মুখ ফুটে বলতে হয় না কিছু বুঝে নিতেও হয়… “

” তাই নাকি কী বুঝেছ শুনি…!! “

” একবার যখন ভুল হয়েই গেছে এবার তো শুধরে নিলেই হয় তাই না …”

” তা কীভাবে শোধরাবে , আমাকেও একটু বলো…”

” নতুন একটা জীবন শুরু করো নিয়তি , আমাকে যেখানে সাইন করতে বলবে করে দেবো ….”

” সত্যি বলছ…!! “

” হ্যাঁ সত্যি বলছি… ”

” তাহলে এক কাজ করো ল’ইয়ারের সাথে কথা বলে ..আমাদের রেজিস্ট্রিটা করিয়ে নি চলো , আমাদের তো আনুষ্ঠানিক বিয়েটা হয়েছিল রেজিস্ট্রিটা’তো আর হলোই না …”

” মানে …!!! “

” মানে এটাই তোমার হাতটা তো আমি ছেড়ে দেবো বলে ধরি নি মিস্টার প্রথমে মেনে নিতে পারি নি তো কি হয়েছে , এবার শুরু করবো সবটা নতুন করে ….”

” আমার চাকরিটাও আর হয়তো থাকবে না…. “

” আমি তো চাকরি করতে পারবো , মা বাবাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত ভুল খুব একটা হয় না অনিকেত , শুধু অপেক্ষা করতে হয় … সঠিক সময়ের , আমাকে সময় দেবে তো তুমি …..”

হালকা হাসলো অনিকেত , নিয়তির হাত দুটো নিজের মুঠোয় বন্দি করে বললো — ” সরি নিয়তি , আমিও পারবো না তোমায় ছেড়ে থাকতে , তুমি যা চাইবে আমি তাই দেবো , আর বাকি রইলো সময় আজ থেকে আমার সময়ের মালকিন তুমি , আমার সবকিছু তোমার হিসেবে চলবে ……”

সৌজন্যে – প্রতিলিপি

Related News

Also Read