Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

।। শ্রীরামকৃষ্ণদেবের খাওয়ার বাসনা ।।

স্বামী চেতনানন্দ:-শ্রী শ্রীঠাকুর নিজের খাওয়ার ব্যাপারে ও সাধনার ব্যাপারে একঘেয়েমি পছন্দ করতেন না ।
তিনি মা কালীর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন — “মা
আমায় রসেবসে রাখিস ।” তিনি একদিন কথা প্রসঙ্গে বলেন — ” আমার ভাব কি জান ? আমি মাছ সবরকম খেতে ভালবাসি । আমার মেয়েলি স্বভাব ( সকলের হাস্য ) আমি মাছ ভাজা – হলুদ দিয়ে মাছ – অম্বলে মাছ – বাটি চচ্চড়ি — এসব তাতেই আছি আবার মুড়িঘন্ট, কালিয়া পোলোয়াতেও আছি ।”

* ফোড়নের উপর ঠাকুরের একটা বালকসুলভ প্রীতি ছিল । শ্রীমা কে বলিতেন ” পাঁচমিশুলি ডাল করো, এমন – সম্বরা দেবে যেন শুয়োর গোঙায় ।”

গোলাপের মা কামারহাটি থেকে দেদো সন্দেশ কিনে ঠাকুরকে দেখতে আসতেন — ঠাকুর বলিতেন —
” তুমি পয়সা খরচ করে সন্দেশ আন কেন ? নারকোল নাড়ু করে রাখবে তাই দু একটা নিয়ে আসবে । লাউশাক চচ্চড়ি – আলু বেগুন বড়ি দিয়ে সজনেখাড়ার তরকারি তাই নিয়ে আসবে । তোমার হাতের রান্না খেতে বড় সাধ হয় ।”

* ঠাকুর জিলিপি ও আইসক্রীম খেতে খুব পছন্দ
করতেন । বরফ তাঁহার অতিশয় প্রিয় ছিল ।
তিনি বলেন — ” আমার গলা পর্যন্ত পূর্ণ আর একটি
সর্ষপ পরিমাণ দ্রব্যেরও ভিতরে প্রবেশ করিবার পথ নাই । তবে জিলিপির পথ হবে জিলিপি হলে একখান খাইতে পারি ।”

* ঠাকুর রাতে সাধারণতঃ দু একটি লুচি সুজির পায়েস খেতেন এবং সকালে প্রসাদী ফল মিষ্টি খেতেন ।
কলকাতার ভক্তরা তাঁহার জন্যে নানা ফল, নানাবিধ মিষ্টান্ন — সর দৈ, সন্দেশ, রসগোল্লা, মিহিদানা, জিলিপি, ক্ষীর প্রভৃতি নিয়ে যেতেন । তিনি নিজে খেতেন এবং ভক্তদের খাওয়াতেন । মজা করে ঠাকুর বলতেন —
” মার নাম করি তাই এসব ভাল ভাল জিনিস খেতে পাই ।”

* ঠাকুর পান ও তামাক খেতেন । আহারের পর পান খেতেন বা তাঁর বেটুয়া থেকে কিছু মুখসুদ্ধি মশলা খেতেন । ঐ মশলার মধ্যে থাকতে সুপারি, জোয়ান, মৌরি, এলাচ, কাবাবচিনি, লবঙ্গ প্রভৃতি ।

* জীবনের শেষে ঠাকুর যখন ক্যান্সারে ভুগছেন —
তখন মা সযত্নে পায়েস রান্না করে খাওয়াতেন ।
গলার ব্যাথার জন্যে তাও সবসময় খেতে পারতেন
না । মুখের অরুচির জন্যে আমলকী চুষতেন ।
একদিন সেবকগণকে ঠাকুর বলেন — ” ভেতরে এত ক্ষিধে যে হাঁড়ি হাঁড়ি খিচুড়ি খাই । কিন্তু মহামায়া কিছুই খেতে দিচ্ছেন না ।”

Related News

Also Read