দীর্ঘ প্রায় ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান। খুনের মামলায় ২ মহিলা সহ ৬ জনকে সোমবার দোষী সাব্যস্ত করার পর মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা করলেন কাঁথি মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্রাক দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নুরুজ্জামান আলী। ৬ জনের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমান করা হলো।জরিমানা অনাদায় ৫ মাস অতিরিক্ত কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন।
২০১৪ সালের ৩০অক্টোবর সকালে এম জি এন আর ই জি এস কাজে একটি রাস্তায় মোরাম ফেলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে প্রথমে বচসা ও পরে উত্তেজনা বৃদ্ধি হলে মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ এদিন পটাশপুর থানার গোয়ালদা পাটনা গ্রামে একটি রাস্তায় মোরাম ফেলার কাজ শুরু হয়। সেই কাজকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে শচীন্দ্রনাথ মাইতি, তার স্ত্রী ও দুই পুত্রকে মারধর করে ওই গ্রামের বাসিন্দা নিতাই মাইতি, তপন মাইতি, স্বপন মাইতি, রাজকুমার মাইতি, দিপালী মাইতি ও পূর্ণিমা মাইতি। অভিযুক্তরা সেদিন লাঠি দিয়ে পেটায় বলে অভিযোগ। মার খেয়ে গুরুতর জখম হয় শচীন্দ্রনাথ মাইতি, তার স্ত্রী ও দুই পুত্র। গুরুতর জখম অবস্থায় সকলকে পটাশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শচীন্দ্রনাথ মাইতির অবস্থার অবনতি হলে পরের দিন সকালে গুরুতর যখম ৪ জনকে নিয়ে এসে এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন এদিন দুপুর ১২ টার সময় শচীন্দ্রনাথ মাইতির মৃত্যু হয়।
পটাশপুর থানায় এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের হলে পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর ২৩৪/১৪, নম্বর এ মামলা দায়ের হয়। পরে অভিযুক্তরা শর্তসাপেক্ষে আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পায়। সেই থেকে কাঁথি মহকুমা আদালতে মামলাটির বিচার চলছিল। বিচার চলাকালীন বাদী ও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের শওয়াল জবাব চলে। এই মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণের পর সোমবার ফাস্ট ট্রাক দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নুরুজ্জমান আলী ভারতীয় দণ্ডবিধি আইনে ১৪৭,১৪৮,১৪৯, ৩০২,৩০৭,৫০৬ ও ৩৪ ধারা মতে নিতাই মাইতি, তপন মাইতি, স্বপন মাইতি, রাজকুমার মাইতি, দিপালী মাইতি ও পূর্ণিমা মাইতি কে দোষী সাব্যস্ত করেন।দোষীদের সংশোধনাগারে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। মঙ্গলবার এই মামলার রায়দান করলেন বিচারক নুরুজ্জমান আলী।
রায়দানের মাধ্যমে সাজা ঘোষণা করেন। ১৪৭ ধারা মতে ৬ মাস সশ্রম কারাদণ্ড। ১৪৮ ধারামতে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড। ৩০৭ ধারা মতে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমান,অনাদায়ে ২ মাস অতিরিক্ত কারাবাস। ৫০৬ ধারা মতে ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড। ৩০২ ও ৩৪ ধারা মতে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমান। অনাদায়ে ৫ মাস অতিরিক্ত কারাবাস। এই মামলার সরকারপক্ষের প্যানেল প্লিডার বেণীমাধব বেরা মামলাটি দক্ষতার সঙ্গে ২১ জনের স্বাক্ষর প্রমাণ গ্রহণের মাধ্যমে পরিচালনা করেন। তিনি বলেন ১১ বছর অপেক্ষমান বিচার প্রার্থীগণ ন্যায় বিচার পাওয়ায় খুশি। তরা বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থাশীল বলে ও জানিয়েছেন। এই মামলার সরকার পক্ষের প্যানেল প্লিডার বেণীমাধব বেরা জানিয়েছেন মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং বিচারকের একধিকবার বদলির কারণে মামলার নিষ্পত্তি হতে সময় লেগেছে। তা না হলে আরো দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি হতো। তিনি বলেন এই মামলার ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতে পেরে তিনি খুশি। এই রায়ের মধ্য দিয়ে সমাজের দুষ্কৃতকারীদের বা দুষ্টু প্রকৃতির মানুষদের সতর্কবাণী দেয়া হল। এ ধরনের বিচার হতে থাকলে মানুষের আরো বেশি করে আস্থা ফিরে আসবে বিচার ব্যবস্থার উপর।
কাঁথি মহকুমা আদালতের অ্যাডিশনাল পি. পি. মঞ্জুর রহমান খাঁন মামলাটি সুচারু ভাবে পরিচালনা করার জন্য সিনিয়ার আইনজীবী বেণীমাধব বেরা কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন এই রায়ের মাধ্যমে অপরাধীদের সাবধান করে দেওয়া হল। যার ফলে সমাজে অপরাধ কমতে পারে। এর মাধ্যমে বিচারক নুরুজ্জামান আলী সমাজকে বার্তা দিলেন ন্যায়বিচার আছে এবং তার জন্য অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি পাচ্ছে। সমাজে অপরাধ কমাতে হলে বিচারব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।





