Select Language

[gtranslate]
১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ সোমবার ( ৩০শে মার্চ, ২০২৬ )

ভারতবন্ধু স্টেলা ক্রামরিশকে প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলী।

পাশ্চাত্যভূমিতে ‘ভারত’-কে নতুন বিশ্লেষণে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন তিনি।একজন অস্ট্রিয়া বংশোদ্ভূত মার্কিন শিল্প ইতিহাসবিদ ও কিউরেটর হয়েও বিংশ শতকের তিন দশকের বেশিরভাগ সময়ে ভারতীয় শিল্পের একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ছিলেন তিনি। তিন মহাদেশে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় শিল্পকলার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও শিক্ষা প্রদান করে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ড. স্টেলা ক্রামরিশ । 

খোদ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমন্ত্রণে ১৯২২ খ্রীষ্টাব্দে স্টেলা ক্রামরিশ ভারতে আসেন। শান্তিনিকেতনে দু’বছর আর ২৬ বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।তাঁর ভারত আগমনের শতবর্ষ উদ্‌যাপনে বিদেশি প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ভূমিকা নিলেও অদ্ভুত ভাবে ভারতবন্ধু স্টেলা ক্রামরিশকে আমরাই ভুলে থেকেছি।

স্টেলা ক্রামরিশ ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে অস্ট্রিয়ার নিকলসবার্গে অধুনা চেক প্রজাতন্ত্রের মিকুলভ-এ জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে অস্ট্রিয়ায় তিনি ব্যালে নৃত্যশিল্পের প্রশিক্ষণ নেন।ক্র্যামরিশের বয়ক্রম যখন দশ বছর, তখন তার মাতাপিতা ভিয়েনায় চলে যান। সেখানে তিনি হাতে পান শ্রীমদভগবৎ গীতার এক অনুবাদ। পড়ে মুগ্ধ হন এবং তার আগ্রহ বাড়ে ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে পড়াশোনার।আয়ত্ত করেন সংস্কৃত, দর্শন, সাহিত্য এবং নৃতত্ত্ব বিষয়ও। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে অধ্যাপক ম্যাক্স ডভোরাক-এর অধীনে গবেষণার করে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। গবেষণার বিষয় ছিল – “দ্য এসেন্স অফ আরলি বুদ্ধিষ্ট স্কাল্পচার ইন ইন্ডিয়া”।

১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে অক্সফোর্ডে তিনটি বক্তৃতা দেওয়ার জন্য স্টেলা ক্রামরিশ এক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের হয়ে লন্ডনে আসেন।এক সভায় ভারতীয় মন্দিরের উপর বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উপস্থিত থেকে তার কথা শুনেছিলেন। তার বক্তব্যে ও ব্যক্তিত্বের কারণে কবিগুরু তাকে ভারতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান। তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিযুক্ত হন। 

আদি শঙ্করাচার্য বলেছেন, জ্ঞান ও আনন্দের স্বরূপ শিব। ধারণাটি সাধারণের কাছে সহজগম্য হয় স্টেলার শিল্প-আধারিত বিশ্লেষণে। দ্য প্রেজ়েন্স অব শিব-এ শিব একটি সমন্বিত ধারণা, সভ্যতা সংস্কৃতি বা পরম্পরার সর্বময় প্রকাশ। এক দিকে তিনি মঙ্গলময়, আবার তিনিই রুদ্র। আমাদের একপেশে কল্পনায় ঈশ্বর সুদর্শন, মমতাময়। স্টেলার শতরুদ্রের বর্ণনায় শিব সঙ্কটতারণ আবার সঙ্কটকারণও। অমঙ্গল বোঝাতে বলা হয় ‘দক্ষযজ্ঞ বেধেছে’। দক্ষ রাজার যজ্ঞে আড়ম্বর ছিল, কিন্তু শিবের নিমন্ত্রণ ছিল না। প্রতি মুহূর্তে সংঘটিত প্রতিটি যজ্ঞ মানবকল্যাণকর হলে সেখানেই ঘটবে শিবের চূড়ান্ত প্রকাশ— ভাবতেন ভারতমুগ্ধ এই ইউরোপীয়।

ভারতীয় শিল্পের ইতিহাসবিদ ভারতবন্ধু অধ্যাপক স্টেলা ক্র্যামরিশ ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে ৩১ আগস্ট, ফিলাডেলফিয়ার পেনসিলভানিয়াতে তার বাড়িতে ৯৭ বৎসর বয়সে পরলোক গমন করেন। এখন সংবাদ পরিবার ভারতবন্ধু স্টেলা ক্রামরিশকে নতমস্তকে জানায় শ্রদ্ধাঞ্জলী

Related News

Also Read