Select Language

[gtranslate]
২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বৃহস্পতিবার ( ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

।। বয়ফ্রেন্ড টেস্ট।।

নামিরা নূর নিদ্রা:-ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে বফকে টেস্ট করার জন্য ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম। সাথে ম্যাসেজ পাঠিয়ে বললাম,

“হাই। আপনাকে আমার অনেক ভালো লাগে।”

ওমা! রিকোয়েস্ট দেওয়ার দশ মিনিটের মধ্যেই একসেপ্ট করে ফেললো। আবার ম্যাসেজে লাভ রিয়েক্ট দিয়ে বললো,

“অসংখ্য ধন্যবাদ। কিন্তু আপনাকে তো চিনলাম না।”

আমি নিজেকে বেশ শান্ত রেখে রিপ্লাই দিলাম,

“আমি আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী। আপনি যে মিউজিক সোলে গান দেন। সেখানেই প্রথম আপনাকে দেখেছি।”

“ওহ্ আচ্ছা।”

“একটা কথা বলতেই হয়। আপনি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি আপনার কন্ঠ ও অনেক সুন্দর। আপনার গাওয়া প্রতিটা গানই আমার অনেক ভালো লাগে।”

“ভালোবাসা নিবেন।”

এই ম্যাসেজটা দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আমাকে রেখে অন্য মেয়েদের ভালোবাসা দেওয়া হচ্ছে। নিজের রাগ দমন করে স্বাভাবিকভাবেই আমার অতিরিক্ত লয়্যাল বফের সাথে কথা বলতে লাগলাম। কথা বলার এক পর্যায়ে ছবি চাইলো। দিলাম এক ফ্রেন্ড এর ছবি। আমার এই ফ্রেন্ড বাইরে থাকে। বিধায় ওকে কখনো দেখেনি। তাই ওর ছবিই দিলাম। ছবি দেখে বললো,

“আপনি তো অনেক সুন্দরী। যেকোনো ছেলে প্রথম দেখাতেই ক্রাশ খাবে।”

আমি রিপ্লাই এ বললাম,

“কেন? আপনিও ক্রাশ খেলেন নাকি?”

“হ্যা তা তো খেয়েছিই। তবে আপনার মনে হয় বফ আছে। তাই ক্রাশ খেয়েও বা কী লাভ!”

“না না। আমি সিঙ্গেল।”

“সত্যি?”

“হ্যা।”

“আমিও সিঙ্গেল। আসলে আমার কোনো মেয়েকেই তেমন ভালো লাগে না। তবে আপনাকে আমার প্রথম দেখাতেই ভালো লেগেছে। আমরা কী বন্ধু হতে পারি?”

ওরে খ*চ্চর! আমার সাথে প্রেম করেও নিজেকে সিঙ্গেল দাবি করিস। আবার বলিস কাউকে ভালো লাগে না। সারাদিন তো আমাকে ভালোবাসিস বলে চিল্লাস। এসব দেখে নিজের রাগ দমন করা এখন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তবুও রিপ্লাই দিলাম,

“হ্যা অবশ্যই আমরা ফ্রেন্ড হতে পারি।”

“আচ্ছা আপনার বাসার ওখানেই তো আমার ভার্সিটি। আমরা কী আগামীকাল দেখা করতে পারি?”

বাহ্ বাহ্ বাহ্। এক ঘন্টা কথা হতে না হতেই দেখা করা পর্যন্ত চলে গেলি বজ্জাত ছেলে। আর আমি দেখা করতে বললে তো তোর তিন নাম্বার হাত সবার আগে চলে আসে। তিন নাম্বার হাত মানে অজুহাত। আমার বেলায় তোর অজুহাতের শেষ নাই। আর এখানে তুই এক ঘন্টা কথা বলেই দেখা করার অফার দিস। থাম, কাল তোর চৌদ্দটা বাজাবো আমি। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে রিপ্লাই দিলাম,

“ঠিক আছে। আগামীকাল আমরা দেখা করবো।”

“কখন দেখা করবেন?”

“বিকালে।”

“কোথায়?”

“রেস্টুরেন্টে।”

“ঠিক আছে।”

এভাবেই কথা চলতে লাগলো। এর মধ্যে আমি নিজের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে কল দিলে আমাকে আমার অতিরিক্ত লেভেলের লয়্যাল বফ আমাকে জানালো সে এখন পড়াশোনা করছে। এখন যেন ডিস্টার্ব না করি। ভাবা যায়! কত্তো বড়ো লেভেলের মিথ্যুক। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ফেক আইডিতে বললাম,

“আমার এখন ঘুম পাচ্ছে। আগামীকাল কথা হবে।”

ম্যাসেজটা দিয়েই আমি অফলাইনে চলে আসলাম। রাগে শরীর কাঁপছে আমার। রিলেশনের মাত্র দুই মাস। আমার সামনে নিজেকে এমনভাবে প্রেজেন্ট করতো যেন তার মতো লয়্যাল দুনিয়াতে আর কেউ নেই। আর এদিকে সে সুন্দরী মেয়ে পেলেই এসব করে বেড়ায়। কাল এই বজ্জাত ছেলেকে একটা শিক্ষা দিতেই হবে। ফ্রেন্ডদের ফোন করে আগামীকাল রেস্টুরেন্টে আসতে বললাম। সাথে পঁচা ডিম, কালি, আরো কিছু জিনিস আনতে বললাম। এরপর ফোন রেখে ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুম ভাঙলো দুপুর বারোটার দিকে। গোসল করে এসে খেয়ে নিলাম। তিনটার দিকে দেখা করতে হবে। এখন বাজে দুইটা। রেডি হয়ে বের হলাম। সাথে সবাইকে বের হতে বললাম।

রেস্টুরেন্টের সামনে এসে সবাই আমাকে জিজ্ঞেস করলো,

“কী হয়েছে?”

“আমার অতিরিক্ত লেভেলের বফ আমার সাথে কী কী করেচে জানিস?”

“কী করেছে?”

গতকাল রাতের সব ঘটনা বিস্তারিত বললাম। সবাই সবকিছু শোনার পর বললো,

“এখন কী করবি?”

“তোদের যা যা আনতে বলেছি এনেছিস?”

“হ্যা।”

“সবগুলো ওর মা*থায় ছুঁড়ে মা*রবো আমি।”

“আর আমরা?”

“তোরাও মা*রবি।”

“আচ্ছা।”

কথা বলার সময় খেয়াল করলাম বজ্জাতটা আসছে। সবাইকে পাশের টেবিলে বসতে বলে আমি উল্টো হয়ে বসলাম। আমার সামনে এসেই বললো,

“হাই আমি সিফাত।”

“সিফাত নাকি বজ্জাত?”

বজ্জাত ছেলে আমাকে দেখে ভূ*ত দেখার মতো চমকে উঠে বললো,

“নওশিন তুমি?”

“কেন? তুই কী ভেবেছিলি অন্য কেউ আসবে?”

“এখানে তো..”

“এখানে তো তিথীর থাকার কথা তাইনা?”

“হ্যা। কিন্তু তুমি কী করে জানলে?”

“গতকাল তুই যে মেয়ের সাথে কথা বলেছিস সেই মেয়ে আমি। ফেক আইডি দিয়ে তোকে পরিক্ষা করছিলাম। আর সেই পরিক্ষায় তুই ডিম পেয়েছিস ডিম।”

“মানে?”

“মানে তুই ফেইল।”

আমার কথা শুনে বজ্জাতের মুখ শুকিয়ে গেল। আমতা আমতা করে বললো,

“শোনো তুমি আমাকে ভুল বুঝছো।”

“সব চোরই চুরি করার পর বলে, আমি চুরি করিনি। তুই আমার সাথে চিট করেছিস। বজ্জাত কোথাকার। তোর মতো মেয়েবাজ একটা ছেলে আমার ভাগ্যে ছিল? আজ এই মুহূর্ত থেকে তোর সাথে আমার ব্রেকআপ।”

কথাটা বলে আমি আমার ফ্রেন্ড’দের ইশারা করতেই ওরা ওদের সাথে থাকা সবকিছু ছুঁড়ে দিতে লাগলো সিফাতের দিকে। বেচারার অবস্থা দেখার মতো। পঁচা ডিমের গন্ধে আমারই গা গুলাচ্ছে। তবুও আমি আমার হাতে থাকা কার্ডটা ওর টি-শার্ট এর সাথে আটকে দিয়ে শেষ বারের মতো ওর দিকে তাকিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে আসলাম। আমার ফ্রেন্ডগুলো ওর ছবি তুলে আমার পেছন পেছন বেরিয়ে আসলো। বাইরে এসে সবাই হাসতে হাসতে বললো,

“নওশিন তুই পারিস ও বটে। একে তো চেহারার বেহাল দশা। তার উপর পঁচা ডিমের গন্ধ। আবার ঐ কার্ডে লেখা কথাগুলো। বেচারা আজ বাসায় যাবে কীভাবে?”

আসলে কার্ডে লেখা ছিল,

“আমি একটা মেয়েবাজ। আমি একটা মেয়ের সাথে চিট করায় সে আমার এই অবস্থা করেছে। চাইলে আপনারা সবাই আমার দিকে যা ইচ্ছা ছুঁড়ে দিতে পারেন। আমি কিছু বলবো না।”

“কী দিয়ে লাগিয়েছিস?”

“সুপার গ্লু দিয়ে।”

“তাহলে হয়েছে। কার্ড খুলতে হলে টি-শার্ট ও খুলতে হবে।”

“যা হয় হোক। আমি নিজের রাগ মেটাতে পেরেছি এটাি বড়ো কথা। এখন চল সবাই।”

অতঃপর আমার অতিরিক্ত লেভেলের লয়্যাল বফের উপর প্রতি*শোধ নিয়ে আমি খুশিমনে বাসায় ফিরে আসলাম। এখন এত ভালো লাগছে যে মনে হচ্ছে এটাকেই হয়তো বলে সেল্ফ স্যাটিসফেকশন!



সৌজন্যে – প্রতিলিপ

Related News

Also Read