Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

।। সন্ত রুইদাস ।।

বিজয় সাধু খাঁ

ভারতবর্ষের সাধু চরিত সত্যিই অবাক করার মতো – আজ স্বয়ং ভগবান ছুটে এলেন ভক্তকে দেখতে !! -কে তিনি? -একটু জেনে রাখুন :
– ‘রাম’,’রাম’,’রাম’ -জুতোর প্রতিটা সেলাইয়ের ফুঁড়ে ‘রাম’ নাম উচ্চারণ করতেন – শিবক্ষেত্র কাশীর নিকটে মুচির ঘরে জন্ম নেওয়া সন্ত রুইদাসজী।

কিন্তু অন্তরে ভক্তি ছিল ছল কপটতাহীন।আর তাই আজ তাঁকে ভগবানের কাছে মঠ,মন্দিরে,ধামে ছুটে যেতে হলনা – বরং স্বয়ং ভগবান নিজেই আজ ছুটে এলেন ভক্তের কাছে।একেই তো বলে সত্যিকারের ভক্তিজীবন!!


নাভাজি মহারাজ “ভক্তমাল” গ্রন্থে উল্লেখ করিলেন
– জাতিতে নীচু,অছ্যুৎ চামার,তাই লুকিয়ে লুকিয়ে ভজন করেন।লুকিয়ে এক শিলাবিগ্রহ সেবা করতেন।

প্রতিদিন দুইটি চামড়ার জুতা বানাতেন – একটি কোনো সাধু সন্তকে দান করিতেন,আর অন্যটি বিক্রয় করে সংসার চালাতেন।
“দুইজোড়া জুতা প্রতিদিন বানাইয়া,
একজোড়া দেন নিতি বৈষ্ণব দেখিয়া”(ভক্তমাল গ্রন্থ)


এতই গরিব ছিল যে আধপেটা খেয়ে থাকিতেন!ভগবান থাকতে পারিলেন না।একদিন শ্রী রামজী এক বণিকের রূপ ধরে এসে এক দিব্য পাথর দিয়ে গেলেন যার ছোঁয়ায় তার জুতো সেলাইয়ের লোহার রাম্পি সোনার হয়ে গেল।কিন্তু রুইদাসজী সেই পাথর আর ওই সোনার যন্ত্র বাড়ির চালে গুঁজে রেখে দিলেন ,কারণ এই সোনা তার নিজের উপার্জিত নয়,আর সোনা যে রজগুণে জীবকে আবদ্ধ করে ভগবানের থেকে দূরে রাখে!!
-“প্রেমানন্দ -রত্নে যেই মগন আছয়,
প্রাকৃত মণিতে কি তাহার মন ধায়”(ভক্তমাল)।


ভগবান অন্তর্যামী শ্রীরামচন্দ্রের হৃদয় আরো করুণায় ভরে উঠলো।তিনি আর থাকিতে পারিলেন না।
“তবে হরি এইবার নিজমুর্তি ধরি,
দেখা দিয়া ভক্তে গেল অন্তর্ধান করি”(ভক্তমাল)।এইভাবে ভক্ত আজ প্রাণের ভগবানকে দর্শন পেলেন।


জানা যায়,সেই রুইদাস নীচ কূলে জন্ম বলে ব্রাহ্মণ বৈষ্ণব সমাজে উপহাস্য হয়েছিল যখন ওই রাজ্যের রানী ঝালি বাঈ তার কাছে দীক্ষা নিতে আসেন -শ্রীরাম জীর ইচ্ছা জানিয়া তিনি রানীকে দীক্ষা দেন।একদিন রানীমা গুরুদেব রুইদাস জীকে নিমন্ত্রণ করে আনেন রাজবাড়িতে তখন অন্য নিমন্ত্রিত উচ্চ কুলের ব্রাহ্মণগণ রুইদাসের সাথে একত্রে ভোজন করতে কুণ্ঠা বোধ করছিল।

তখন ভগবান রামচন্দ্রের ইচ্ছায়
এক অদ্ভুদ বিভূতির প্রকাশ হইল –
“রুইদাস পাশ হইতে দূরে গিয়ে বসে,
সেখানেও রুইদাস বসিয়াছে পাশে”(ভক্তমাল)।

এইভাবে ব্রাহ্মণ গণ যেখানেই সরে যায় দেখে পাশে সন্ত রুইদাস বসে আছেন -অনন্ত বিভূতির প্রকাশ।অভিমানী জ্ঞানমার্গী কাশিবাসী সেই ব্রাহ্মণগণ সন্ত রুইদাসের মর্ম বুঝিল,তারা চমৎকৃত হইল রুইদাসের সাধুত্বের মহিমা দেখে।

আহা!ধন্য ভারতবর্ষের এমন সাধু সন্ত যাঁর হৃদয়ে ভগবান সদাই রমণ করেন।

সন্ত নামদেবজী,সন্ত নরসি,সন্তগোরক্ষনাথ,তুলসিদাস -এরকম অসংখ্য সন্ত ভারতের বুকে জন্মেছেন যাদের জীবনী আজকের প্রজন্মের সাধুদের সত্যিকারের সাধুজীবন কি তা শেখায়,সাধনার পথ দেখায়।
এইরূপ সাধু চরিত শ্রবনে মনের ময়লা দূর হয়,ভগবৎ কৃপা লাভ হয় – এতে কোনো সন্দেহ নাই।

Related News

Also Read