প্রদীপ কুমার সিংহ
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশন ৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে এস আই আর ফর্ম বিলী করার অনুমতি দেয় পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন জেলাগুলিতে। প্রথম দিকে অল্প সংখ্যক ফর্ম বিল করলেও পরে তা সবই বিলি করে দেয় সাধারণ মানুষদের বি এল ও কর্মীরা। ১৫ নভেম্বর থেকে সেই এস আই আর ফর্ম গুলো কালেক্ট করার অনুমতি দেয়। সেই মোতাবেক বি এল ও কর্মীরা কোন কালেক্ট করতে শুরু করে। সেই গুলি আবার পোটাল ডাটায় এন্ট্রি করতে হবে তাও খুব অল্প সময়ের মধ্যে। এই নিয়ে বি এল ও কর্মীরা আতঙ্কে আছে।বি এল ও কর্মীরা বেশিরভাগ ডাটা এন্ট্রি করার প্রশিক্ষণ নেয়নি তার ফলে তাদের কাজের চাপ কেমন বেড়েছে মানসিক দুশ্চিন্তা অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে অনেকেই আত্মহত্যা করেছে আবার কিছু বি এল ও কর্মী অসুস্থ হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছেন ২০০২ সালে ভোটার লিস্টে যাদের নাম আছে তারাই এসআইআর ফর্ম ফিলাপ করতে পারবে এই নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।কিছু মানুষ এস আই আর এ আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার শনিবার দুইজন বি এল ও গুরুতর অসুস্থ হয়।
এস আই আর শুরু হতেই রাজ্যজুড়ে যেন মৃত্যু মিছিল শুরু হয়ে গিয়েছে।এই আতঙ্কের পরিবেশের মধ্যে আবারও মর্মান্তিক ঘটনা উঠে এলো, জয়নগর থেকে। এস আই আর এর কাজের চাপ না নিতে পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত BLO কমল নস্কর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় কমল নস্কর জয়নগরের হরিনারায়নপুর 31 নম্বর বুথের BLO। তিনি পেশায় দুয়ের পল্লী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক। তিনি মোট ১১৬০টি SIR ফর্ম ইতিমধ্যেই এলাকার ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে। তার মধ্যে তিনি ফরম সংগ্রহ করেছে মাত্র কুড়িটি। শনিবার বিকেলে জয়নগর ১ নম্বর ব্লক এর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সমস্ত বিএল ওদের নিয়ে একটি বৈঠক করে এবং একটি বৈঠকের পর তিনি ২৬ তারিখের মধ্যে সমস্ত বি এল ওদের এসআইআর সংক্রান্ত ফর্ম সংগ্রহ করে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর বাড়িতে আসেন তিনি এই চাপ না নিতে পেরে হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি কমল নস্করের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা করানোর জন্য কমল নস্করকে নিয়ে যায় হাসপাতালে। এই খবর পাওয়ার পর তড়িঘড়ি হাসপাতালে ছুটে যান ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কমল নস্কর কে দেখার জন্য এবং শারীরিক অবস্থা জানার জন্য হাসপাতালে পৌঁছান জয়নগর বিধানসভার বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস। এ বিষয়ে জয়নগর বিধানসভার বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস তিনি জানান, এত অল্প সময়ের মধ্যে এই এস আই আর শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন তার ফলে কাজের প্রচুর চাপ BLO দের পর এসে পড়েছে। বহু বিএলও চাপ না নিতে পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে এর জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন। আমার বিধানসভার অন্তর্গত ৩১ নম্বর বুথে BLO কমল নস্কর চার তারিখ থেকে ফর্ম বিলি করার কাজ শুরু করার কথা থাকলেও ১১ তারিখে উনার কাছে ফর্ম এসে পৌঁছায়। এরপর এত অল্প সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। এরফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে কমল নস্কর। আমরা দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি কমল নস্করের। বিএলও কমল নস্করের শারীরিক অবস্থার দিকে আমরা বিশেষ নজর দিয়ে রেখেছি।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিক অর্থে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে অন্যান্য ব্লকের BLO রা।
পাশাপাশি রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সুভাষগ্রাম নতুন পল্লী এফ পি স্কুলে ১০৯ নম্বর বুথের বিএলও তনুশ্রী হালদার নাইয়া কাজ করছিলেন। তার পরিবারের অভিযোগ বেশ কিছুদিন মানসিক চিন্তায় ভেঙে পড়েছিলেন। সকাল নটার সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাত্রি দশটার সময় বাড়িতে ফিরে আবার ডাটা এন্ট্রির কাজ করার এত কাজের চাপে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থ বোধ করে। শনিবার সন্ধ্যায় সাড়ে সাতটা নাগাদ ওই স্কুলেরই এসআইআর ফর্ম কালেকশন কাজ করছিলেন হঠাৎ অসুস্থ বোধ করে এবং অজ্ঞান হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে তার পরিবারের লোক সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিয়ে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে রাত্রি সাড়ে দশটা নাগাদ আসে। সেখানে তার চিকিৎসা চলে। তনুশ্রী দেবী বারুইপুর থানার অন্তর্গত সূর্যপুর নাচন গাজা এপি স্কুলের শিক্ষিকা।
তনুশ্রী দেবীর স্বামী শিক্ষক হীরালাল হালদার বলেন কাজের জন্য খুবই চাপ পড়েছিল। ফলে খাওয়া দাওয়া তেমন কিছু করার সুযোগ পাচ্ছিলেন না হঠাৎ শনিবার সন্ধ্যায় সুভাষগ্রাম নতুন পল্লী এফ পি স্কুলের কাজ করতে করতে অসুস্থ বোধ করে এবং অজ্ঞান হয়ে যান।স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে খবর দেন তিনি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সোনারপুর প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান সেখানে অবস্থা অবনতি হওয়ায় রাতের বেলায় বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনে।





