Select Language

[gtranslate]
১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ সোমবার ( ৩০শে মার্চ, ২০২৬ )

মন মাঙ্গী মুরাদীন পুরি করনেওয়ালি মাতা

মা বৈষ্ণো দেবী মন্দির ভারতের জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের রিয়াসি জেলার কাটরা থেকে ১৩ কিমি দূরে এবং ৫২০০ ফুট উচ্চতায় ত্রিকূট পর্বতে একটি পবিত্র গুহায় অবস্থিত। এই মন্দিরটি বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান হিসাবে পরিচিত। বৈষ্ণো দেবী মন্দির হল দেবী দূর্গাকে উৎসর্গ করা বিখ্যাত হিন্দু মন্দির। সারা বিশ্ব থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এই বিখ্যাত ধর্মীয় স্থানটি পরিদর্শন করেন যেখানে মা বৈষ্ণো দেবী তাদের ইচ্ছাপূরণ করেন। স্থানীয় ও ভক্তদের বিশ্বাস, এখনো পর্যন্ত এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে এক শক্তিশালী পজিটিভ এনার্জি। প্রতি বছর এক কোটিরও বেশি ভক্ত বৈষ্ণো দেবী মন্দিরে যান দেবীর পূজা দেওয়ার জন্য। মানুষের ইচ্ছাপূরণের জন্য তিনি সবসময় সমাদৃতা। তাই, ভক্তরা তাকে ‘মন মাঙ্গী মুরাদীন পুরি করনেওয়ালি মাতা’ বলেও সম্বোধন করে যার অর্থ যে মা তার সন্তানদের ইচ্ছাপূরণ করেন। ভক্তদের বিশ্বাস এই মন্দিরে গিয়ে মা বৈষ্ণো দেবীকে দেখার সৌভাগ্য কেবল তারাই পায় যারা মায়ের ডাক পায়। ভক্তরা যখন এই মন্দির দর্শনে যান তখন মা বৈষ্ণো দেবীর ভক্তদের মুখে একটি কথা বিশেষ প্রচলিত রয়েছে৷ যেটি হলো, “চল বুলাওয়া আয়া হ্যায়, মাতা নে বুলায়া হ্যায়” যার অর্থ আহ্বান, মা ডাকছেন।

মা বৈষ্ণো দেবী পবিত্র গুহায় সাড়ে পাঁচ ফুট লম্বা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট শিলা রূপে বিরাজমান যার তিনটি মাথা বা পিন্ডি রয়েছে। মা বৈষ্ণো দেবীর প্রতীক তিনটি পিন্ডি মহা কালী, মহা লক্ষ্মী এবং মহা সরস্বতী দেবীকে উৎসর্গীকৃত। একেবারে ডানদিকের পিন্ডিটি দেবী মহা কালীকে উৎসর্গীকৃত, যা কালো রঙের। কালো রঙ মহা কালীর নামের সাথে যুক্ত এবং তাকে মহাবিশ্বের সমস্ত রহস্যময় এবং অজানা শক্তির একটি মৌলিক উৎস বলে মনে করা হয়। তিনি তার ভক্তদের অন্ধকারের বাহিনীকে জয় করতে সহায়তা করেন। মাঝখানে অবস্থিত দ্বিতীয় পিন্ডিটি দেবী মহা লক্ষ্মীর পবিত্র পিন্ডি। এটি পীতাম্বর বা সোনালি হলুদ বর্ণের, যা দেবী লক্ষ্মীর রঙ। তিনি রক্ষণাবেক্ষণের সর্বোচ্চ শক্তি এবং অনুপ্রেরণার পাশাপাশি প্রচেষ্টার গুণে রজোগুণের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাকে সম্পদ, সমৃদ্ধি এবং বস্তুগত লাভের একটি মৌলিক উৎস বলে মনে করা হয়। তৃতীয় এবং শেষ পিন্ডি, যা একেবারে বাম দিকে অবস্থিত, দেবী মহা সরস্বতী হিসাবে পূজিত হয়। তিনি সত্ত্বগুণের প্রতিনিধিত্বকারী সৃষ্টির সর্বোচ্চ শক্তি বলে মনে করা হয়। মহা সরস্বতীর এই পিন্ডি সাদা রঙের বলে মনে হয়। তাকে সৃষ্টি, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শিল্প এবং ধার্মিকতার মৌলিক উৎস হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বৈষ্ণো দেবী মন্দিরে ভক্তরা চুনরি (একটি লাল রঙের চাদর), শাড়ি, শুকনো ফল, রৌপ্য বা সোনার অলঙ্কার, ছোলা, ফুল ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী নৈবেদ্য দেবী মাকে নিবেদন করে। বৈষ্ণো দেবী পূজার কারণেই নয় দিন ধরে নবরাত্রি পালন করা হয় দেশজুড়ে।

হিন্দু ধর্ম মতে আদি শক্তি দেবী মায়ের অবতার বৈষ্ণো দেবী। অসুরদের অত্যাচারের অবসান ঘটাতে বৈষ্ণো দেবী আবির্ভূত হন। বৈষ্ণো দেবী ধার্মিকতা বজায় রাখার জন্য জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মা বৈষ্ণো দেবী পরম বৈষ্ণবী রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং দেবীগণ তাকে পৃথিবীতে বসবাস করতে এবং চেতনার উচ্চ স্তর অর্জনের জন্য তার সময় ব্যয় করার জন্য সৃষ্টি করেছিলেন। পৃথিবীতে তার আগমন রত্নাকরের কন্যা হিসেবে। হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, বৈষ্ণো দেবী ভারতের অর্ধ কুনওয়ারি, কাটরা শহর এবং গুহার মধ্যবর্তী একটি ছোট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

রত্নাকর সাগর এবং তাঁর স্ত্রী বিয়ের পর নিঃসন্তান ছিলেন। দীর্ঘদিন সন্তানের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন তাঁরা। অবশেষে তাঁদের কোলে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান। এই কন্যাসন্তানের জন্মের পরেই তাঁরা শপথ নিয়েছিলেন যে সন্তানের ভবিষ্যতের উপর কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করবেন না তাঁরা। বৈষ্ণো দেবীর ছোটবেলা নাম ত্রিকূট ছিল। পরে ভগবান বিষ্ণু বংশে জন্ম নেওয়ায় তাঁর নাম বৈষ্ণো হয়। তিনি ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর প্রবল ভক্ত। মাত্র নয় বছর বয়সে ভগবান বিষ্ণুকে তুষ্ট করার জন্য সে পিতার অনুমতি নিয়ে সমুদ্র ধারে তপস্যা করতে শুরু করেন। বৈষ্ণো দেবী আধ্যাত্মিকপ্রবণ ছিলেন এবং কঠোর তপস্যা করে বছর কাটিয়েছিলেন। অবশেষে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান বিষ্ণু অবতার শ্রীরাম রূপে আশীর্বাদও করেন বৈষ্ণো দেবীকে।

এই ঘটনাটি ঘটেছিল রামায়ণের সময়, যখন লঙ্কার রাক্ষস রাজা রাবণ শ্রীরামের পত্নী সীতাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিলেন। সীতার খোঁজে আত্মহারা শ্রীরাম। শ্রীরাম যখন সীতার সন্ধানে সমুদ্রে ধারে এসে সে সময় দেখে এক মহিলা তপস্যা করছে। বৈষ্ণো দেবী শ্রীরামকে বিবাহ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু যেহেতু শ্রীরাম তিনি ইতিমধ্যেই সীতার সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন, তাই শ্রীরাম বিনয়ের সঙ্গে জানান এই অবতারে তিনি কেবল সীতার জন্য নিষ্ঠাবানের জন্য কথা দিয়েছেন। শ্রীরাম তাঁকে কলিযুগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে তাঁকে কথা দেন কলিযুগে কল্কি অবতারে তাঁকে স্ত্রী রূপে গ্রহণ করবেন।

শ্রীরাম তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে সমগ্র বিশ্ব তার প্রশংসা করবে এবং তাকে মা বৈষ্ণো দেবী হিসাবে শ্রদ্ধা করবে। শ্রীরামের আশীর্বাদের কারণেই মা বৈষ্ণো দেবী অমরত্ব লাভ করেছিলেন। শ্রীরাম তাঁকে ত্রিকূট পর্বতে একটি গুহায় আশ্রম স্থাপন, ধ্যান ও আধ্যাত্মিকভাবে বেড়ে উঠতে নির্দেশ দেন এবং সেখানে তাঁর নিরাপত্তার জন্য শ্রীরাম একটি সিংহ, হনুমান ও তীর-ধনুক দেন। এরপর থেকেই শ্রীরামের নির্দেশে বৈষ্ণো দেবী ত্রিকূট পর্বতে একটি গুহায় থাকতে শুরু করেন। বৈষ্ণো দেবী সাধ্বী হিসাবে জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন এবং তপস্যা চালিয়ে যান।

যখন বৈষ্ণো দেবী কাটরার ত্রিকূট পর্বতে একটি গুহায় থাকতে শুরু করেন, তখন মহাযোগী গুরু গোরক্ষনাথজি, যিনি জানতেন যে বৈষ্ণো দেবী এবং শ্রীরামের মধ্যে কী ঘটেছিল, তিনি তাঁর শিষ্য ভৈরননাথকে দেখার জন্য করতে পাঠান যে তপস্বী বৈষ্ণো দেবী এখনও আধ্যাত্মিকতার উচ্চ স্তরে পৌঁছেছেন কিনা। তাকে দেখে সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ভৈরননাথ ধীরে ধীরে উদ্দেশ্যবোধ হারিয়ে ফেলেন এবং তার প্রেমে পড়েন এবং তাকে বিবাহ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে তাকে বিরক্ত করতে শুরু করেন। বৈষ্ণো দেবীকে দেখে ভৈরননাথ তার প্রতি কামনা করে ধরতে তার পিছনে দৌড়েছিলেন এবং বৈষ্ণো দেবী তার তপস্যা অবিচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য ত্রিকুট পর্বতের পথে বিভিন্ন স্থানে থেমে পালিয়ে যান।

ভৈরননাথ যখন বৈষ্ণো দেবীকে ধরতে তার পিছনে দৌড়েছিলেন, তখন বৈষ্ণো দেবী কে রক্ষা করার জন্য পবনপুত্র হনুমান ছিলেন। হনুমান সঙ্গে ভৈরননাথের সংঘর্ষ হয় কিন্তু ভৈরননাথ তার পেছনে যেতে থাকে। পথে হনুমানের তৃষ্ণা মেটাতে বৈষ্ণো দেবী পাথরে তীর নিক্ষেপ করেন এবং গঙ্গা নদীকে প্রবাহিত করেন। হনুমান অদৃশ্য হওয়ার পর বৈষ্ণো দেবী জলে চুল ধুয়ে ফেলেন। এই পবিত্র নদীটি বঙ্গগঙ্গা নামে পরিচিত। বঙ্গগঙ্গার পরেই চরণ পাদুকা। বৈষ্ণো দেবী একটি পাথরের উপর দাঁড়িয়েছিলেন এবং ভৈরননাথকে তার পালানোর আগে ঘুরে দেখেছিলেন এবং এই শিলাটিতে তার পবিত্র পায়ের ছাপ রয়েছে। চরণ পাদুকার পর অর্ধ কুনওয়ারী।

বৈষ্ণো দেবী পর্বতে একটি গুহার কাছে পৌঁছে ভৈরননাথকে ফিরে যেতে বলেন কিন্তু ভৈরননাথ ফিরে যেতে রাজি নয়। তখন বৈষ্ণো দেবী গুহার কাছে হনুমানকে ডেকে বলেন যে, আমি এই গুহায় নয় মাস তপস্যা করব, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি ভৈরননাথকে গুহায় প্রবেশ করতে দেবেন না। এরপর বৈষ্ণো দেবী গুহায় প্রবেশ করে তিনি ৯ মাস ধরে গুহায় ধ্যান করেছিলেন ঠিক যেভাবে একটি শিশু তার মায়ের গর্ভে ৯ মাস থাকে। হনুমান মায়ের আদেশ পালন করেন। ভৈরননাথকে এই গুহার বাইরে রাখা হয়েছিল। এই পবিত্র গুহাটিই অর্ধ কুনওয়ারি নামে পরিচিত।

ভৈরননাথের উন্মত্ততা দেখে অবশেষে ভবনে, যে গুহাটি বৈষ্ণো দেবীর বাড়ি হিসেবে পরিচিত সেখানে তিনি দেবী দূর্গার রূপ ধারন করে ত্রিশূল দিয়ে ভৈরননাথের শরীর থেকে মাথা কেটে আলাদা করে সংহার করে দেন। ভৈরননাথের দেহ গুহার প্রবেশদ্বারে ছিল, বিশ্বাস করা হয় যে এই গুহাটি ভৈরননাথের দেহ সংরক্ষণ করে। ত্রিশূল দিয়ে শিরচ্ছেদের কারণে ভৈরননাথের মাথা পাহাড়ের আরও উপরে একটি জায়গায় পড়ে যেখানে ভৈরননাথ ভৈরব মন্দির নির্মিত হয়েছে। কথিত আছে, দেবী যখন ভৈরননাথ বধ করে তখন ভৈরননাথ তার ভুল বুঝতে পেরেছিলেন এবং অনুতপ্ত হয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমার প্রার্থনা করে। শেষ পর্যন্ত, দেবী যখন বৈষ্ণো দেবী রূপে ফিরে আসেন, তখন বৈষ্ণো দেবী তাকে শুধু ক্ষমাই করেননি, ভৈরননাথকে বরও দিয়ে বলেন, বৈষ্ণো দেবীর দর্শন ততক্ষণ ফলপ্রসূ হবে না যতক্ষণ না ভৈরননাথের মাথার দর্শন হয় এবং ভৈরননাথ ভৈরব কে বৈষ্ণো দেবী মন্দির রক্ষা করতে বলেন।

এরপর বৈষ্ণো দেবী তার মনুষ্য রূপ ত্যাগ করার এবং তার ধ্যান নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি শিলার রূপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে, বৈষ্ণো দেবী তিনটি পিন্ডি সহ একটি শিলা রূপে উদ্ভাসিত হন এবং মা বৈষ্ণো দেবী হিসাবে পূজিত হন এবং এখনও সেখানে অবস্থান করেন। বিশ্বাস করা হয় যে, ভৈরননাথ ভৈরবের মন্দির দর্শন ছাড়া বৈষ্ণো দেবীর যাত্রা অসম্পূর্ণ। আর এই কথাও প্রচলিত আছে যে মা বৈষ্ণো দেবী কলিযুগে সকলকে নিজের সন্তানের মতো রক্ষা করেছেন।

মহাভারত, যা পাণ্ডবদের এবং কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের বিবরণ দেয়, দেবী বৈষ্ণো দেবীর পূজার উল্লেখ আছে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে যখন পাণ্ডব এবং কৌরবদের সেনাবাহিনী সাজানো হয়েছিল, তখন শ্রীকৃষ্ণের পরামর্শে অর্জুন যুদ্ধে বিজয়ের আশীর্বাদের জন্য দেবীর আরাধনা করেছিলেন। তাঁর ভক্তিতে খুশি হয়ে মা বৈষ্ণো দেবী তাঁর সামনে আবির্ভূত হন। যখন দেবী আবির্ভূত হন, তখন অর্জুন একটি স্তোত্র দিয়ে তার প্রশংসা করতে শুরু করেন, যেখানে একটি শ্লোকে বলেন ‘জাম্বুকাতক চিত্যইশু নিত্যম সন্নিহিতালয়ে’, যার অর্থ ‘আপনি যিনি সর্বদা জম্বুতে পাহাড়ের ঢালে মন্দিরে বাস করেন’ — যা সম্ভবত বর্তমান জম্মুকে বোঝায়। কথিত আছে, পাণ্ডবরাই সর্বপ্রথম কোল কান্দোলি এবং ভবনে মন্দির নির্মাণ করেছিলেন মাতৃদেবীর প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায়। একটি পাহাড়ে, ত্রিকূট পর্বতের ঠিক সংলগ্ন এবং পবিত্র গুহার দিকে মুখ করে পাঁচটি পাথরের কাঠামো রয়েছে, যা পাঁচটি পাণ্ডবের শিলা প্রতীক বলে মনে করা হয়।

পৌরাণিক কথা অনুসারে আজ থেকে প্রায় নয়শ বছর আগে কাটরার পার্শ্ববর্তী হানসালি গ্রামে পণ্ডিত শ্রীধর ছিলেন আদি শক্তির পরম ভক্ত। মা শক্তি তাঁর অনন্য ভক্তকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বললেন — শ্রীধর, আগামী পূর্ণিমা তিথিতে পর্বতের পাদদেশে আশেপাশের সব গ্রামের লোকদের জন্য তোমার গৃহে অন্ন প্রসাদের আয়োজন কর। এত লোকের খাবারের আয়োজন কিভাবে হবে তা ভেবে হতদরিদ্র শ্রীধর ভাবাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। তবুও তিনি জগৎ মাতার আদেশে সবাইকে নিমন্ত্রন করে এলেন।

পূর্ণিমার দিন সকালবেলায়
— কে আছো গো বাড়ীতে ?
ডোরাকাটা শাড়ি পড়া পরমা সুন্দরী এক কুমারীকে দেখে শ্রীধর জিজ্ঞাসা করলেন,
— কি নাম তোমার বাছা ?
— বৈষ্ণোবী। শুনেছি মা শক্তির আদেশে এই বাড়ীতে মহাভোজের আয়োজন হচ্ছে।
— ভাবছি এত লোকের খাবারের আয়োজন হবে কিভাবে ?
— কেন অযথা ভাবছো ? মায়ের কাজ মা’ই উঠিয়ে নেবেন।

আদিশক্তি দেবী মায়ের স্বপ্নাদেশের পূর্ণতার শরীক হতে আশপাশের সব গ্রামের লোক নিজ নিজ ক্ষেতের চাল, ডাল, আনাজ নিয়ে এসে ভোজের আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে উঠল। নিমন্ত্রিতদের সঙ্গে ডোরাকাটা শাড়ি পড়া মেয়েটি কুটিরের একটি ফাঁকা স্থান দেখে বসল। এদিকে যতটুকু সামগ্রী রয়েছে ততটুকু দিয়েই অতিথি আপ্যায়ণ করতে শুরু করলেন শ্রীধর। মেয়েটিও হাত লাগাল পরিবেশনে। দেখা গেল যে খাবার কম হবে বলে মনে হয়েছিল শ্রীধরের, সেই খাবার কম তো হলই না, বরং খাবার বেঁচে গেল। পূর্ণিমার দিন হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ তৃপ্তির মহাপ্রসাদে মেতে রইল।

অনুষ্ঠান শেষে শ্রীধর মেয়েটিকে খুঁজতে শুরু করলেন। কিন্তু কোথায় সেই মেয়ে ! বিস্মিত শ্রীধর বুঝলেন এ সবই মা শক্তির অলৌকিক কৃপার ফল। তিনি মা শক্তির নিরবছিন্ন ধ্যানে নিমগ্ন হলেন। গভীর ধ্যানের মাঝে তিনি দেখলেন কেউ তাঁকে পথ দেখিয়ে একটা গুহায় নিয়ে গেছে। গুহার মধ্যে তিনটি গোলাকার পাথর যাঁর অর্ধেকটা জলের গভীরে ডোবানো। নিমেষেই তিনি কালী, লক্ষ্মী, সরস্বতীর অবয়ব প্রত্যক্ষ করলেন। আদিশক্তির প্রকাশ ত্রিদেবীরূপে — সত্ত্বগুণে মহা সরস্বতী, রজোগুণে মহা লক্ষী ও তমোগুণে মহা কালী।

কিছুদিন পরে শ্রীধরের স্বপ্নে মেয়েটি ফিরে এল। জানালেন যে তিনি বৈষ্ণোদেবী, ভক্তের ভক্তি দেখে তুষ্ট হয়ে স্বয়ং এক মেয়ের রূপে শ্রীধরকে সাহায্য করে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি জানিয়ে দিলেন সেই পবিত্র গুহার বিষয়ে যার মধ্যে বৈষ্ণো দেবী মন্দির গড়বেন ভক্ত।

দেবী আদেশানুয়ারী সেই পবিত্র গুহা খুঁজে সেখানে শ্রীধর নির্মাণ করেন বৈষ্ণো দেবী মন্দির। শ্রীধর গুহার এই মন্দিরে দেবী শক্তির অনুপম তিনটি রূপ — কালী, লক্ষ্মী, স্বরস্বতী তিনটি পিন্ডি মাতা বৈষ্ণোদেবী নামে পূজা করা শুরু করেছিলেন এবং শ্রীধরের বংশধরেরা আজও তা করে চলেছেন‌। জয় মাতা দী।জয় মা বৈষ্ণো দেবী



.
সৌজন্যে – শ্রীরামকৃষ্ণায়তে নমঃ

Related News

Also Read