পারফর্মেন্স,পারফর্মেন্স আর পারফর্মেন্স।দলে পদ পেতে কিংবা জন প্রতিনিধির টিকিট পেতে একমাত্র বিবেচ্য পারফর্মেন্স ।শুধু পদ বা টিকিট পাওয়া নয়,মায় দলের টিকে থাকতে গেলে পারফর্মেন্সই শেষ কথা হবে। পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায় বৃহস্পতিবার কাঁথি সংগঠনিক জেলার নেতাদের নিয়ে হওয়া বৈঠকে পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ হেলিকপ্টারে করে দিঘায় এসে উপস্থিত হন অভিষেক।হেলিপ্যাড সংলগ্ন একটি হোটেলে কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সমস্ত নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন অভিষেক। বৈঠকের শুরুতে কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি, দলের জেলা সভাপতি পীযূষ পণ্ডা ও দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভার প্রার্থী তরুণ জানাকে নিয়ে আলাদাভাবে বৈঠক করেন অভিষেক। সেখানে তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ার নির্দেশ দেন তিনি।আগামী ২০- ২৫ দিন সমস্ত রকম ভেদাভেদ ভুলে দলের জন্য লড়াই করার বার্তা দেন অভিষেক।
কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বিজেপি যাতে রিগিং না করাতে পারে সেজন্য ভোট শেষ না হওয়ার আগে এজেন্টদের বুথ ছেড়ে বেরিয়ে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ভোটের আগামী কয়েক দিন দলের জন্য কে কেমন কাজ করছে তার ওপর আগামী দিনে তার পদে বসা নির্ভর করছে বলে এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন অভিষেক।
প্রার্থী অপছন্দের বিষয় অভিষেকের কড়া বার্তা ।একটা জায়গায় দশ জন দাঁড়াতে পারে না। তাই দল একজনকে প্রার্থী করেছে। তাকে হয়তো আপনার পছন্দ হয় না। দল যাকে প্রার্থী করেছে তাকে ভালো লাগুক কিংবা না লাগুক জেতানোর দায়িত্ব আপনার। মান অভিমানের জায়গা নেই এখানে। আপনাদের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে যেন একটা জেতা আসন হাত ছাড়া না হয়। যুদ্ধে যারা বেইমানি করে তারা আর যাই হোক দলকে নিজের মা বলতে পারে না।
এদিন নেতাদের উদ্দেশ্যে অভিষেক বলেন,আপনারাই দলের মূল শক্তি। ব্লকের ব্লকে দলের পতাকা বাহক। মানুষের কাছে বিজেপির ব্যর্থতা এবং সরকারের উন্নয়নমূলক প্রচার করতে হবে আপনাদের। কোন ওয়ার্ডে এবং কোন বুথে আমাদের দুর্বলতা রয়েছে আগামী কয়েক দিনের বিশ্লেষণ করে তা সমাধান করতে হবে।
গত লোকসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তাই চলতি বিধানসভা নির্বাচনে যাতে ঘাটতি পূরণ হয় সে ব্যাপারে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন তিনি।
আগামী দিনে কাঁথি সাংগঠনিক জেলা থেকে যেন ৮- ০ ব্যবধানে তৃণমূল জয়ী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থ বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নেয় তা নির্ধারণ করে দেন অভিষেক। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বিজেপি যাতে রিগিং না করাতে পারে সেজন্য ভোট শেষ না হওয়ার আগে এজেন্টদের বুথ ছেড়ে বেরিয়ে না যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
একুশের নির্বাচনে উত্তর কাঁথি এবং দক্ষিণ কাঁথি তৃণমূলের হাতছাড়া হয়। এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে বাড়তিভাবে জোর দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক।





