Select Language

[gtranslate]
৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বুধবার ( ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ )

জোড়া খুনের আসামিকে আজীবন সশ্রম কারদণ্ড 

সোনারপুরে জোড়া কুনের আসামিকে আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিল বারুইপুরে আদালত। এই কেসে সরকারি উকিল রথীন্দ্রনাথ নস্কর বলেন সোনারপুর থানার অন্তর্গত সুভাষগ্রাম সুকান্ত সরণীতে ২০২০ সালে জামাই শশুর ও স্ত্রীকে খুন করার অপরাধে বারুইপুর মহকুমা আদালতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক কৃষ্ণেন্দু সরকার আসামীকে শনিবার আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০০০ টাকা জরিমানা অনাদায় ৬ মাসের জেল হেফাজতে থাকা নির্দেশ দেন।

সোনারপুর থানার সুভাস গ্রাম সুকান্ত সরণীতে বাড়ি বাসুদেব গাঙ্গুলীর মেয়েকে বিবাহ করে রমেশ পন্ডিত। তাদের একটি ছোট্ট মেয়ে ছিল। রমেশ পন্ডিতের মা অঞ্জলি পন্ডিত বাসুদেব বাড়িতে থাকতেন। রমেশ পন্ডিত দর্জির কাজ করতেন। ২০২০ সালের লকডাউন হওয়ার পর তার কাজ চলে যায়। আর সে কাজ পায়নি। শশুরের সংসারের ওপর নির্ভর ছিল। এই নিয়ে মাঝে মাঝে সংসারিক অশান্তি হতো তাদের মধ্যে।শশুরের কাছ থেকে ওই বাড়ি লিখিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার চাপ দিতেন রমেশ পন্ডিত ও তার মা অঞ্জলি পন্ডিত।

শশুর বাসুদেব গাঙ্গুলী সঙ্গে খুবই অশান্তি হতো শেষে সে বাড়ি বিক্রির কথা ভেবেছিল। এই কথা জামাই রমেশ এর কানে যায়। সেই নিয়ে বাড়িতে রমেশ স্ত্রী সুনিতা পণ্ডিত ও শ্বশুরের সঙ্গে আরো চরম অশান্তি শুরু হয়। রমেশের মা অঞ্জলি পন্ডিতের সঙ্গে পরিকল্পনা করে তার স্ত্রী ও শ্বশুরকে মেরে ফেলার জন্য। সেই মতাবেক একদিন শশুর ও স্ত্রীকে লোহার কাচি,কুরুল ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে নিশংসভাবে খুন করে জামাই রমেশ পন্ডিত ও তার মা অঞ্জলি পন্ডিত। সোনারপুর থানার খবর গেলে সোনারপুর থানার পুলিশ রমেশ পন্ডিত ও অঞ্জলি পন্ডিতকে গ্রেফতার করে। সোনারপুর থানা পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশ ৩০২ , ২০১ ও ৪৯৮ এ কেস নম্বর মামলা শুরু করে। কেস নম্বর ৫৫০/২০। সেই থেকে রমেশ পন্ডিত জেলেই থেকে তার বিচার চলে। অঞ্জলি পণ্ডিত বিচার চলাকালীন জেলেই মৃত্যু হয়। শুক্রবার দিন বারুইপুর মহকুমা আদালতের মহামান্য বিচারক রমেশ কে দোষী সাব্যস্ত করেন।

শনিবার দিন বিকাল চারটের সময় মহামান্য বিচারক আসামীর সাজা ঘোষণা করেন। যেহেতু আসামির স্ত্রী সুনিতা দেবী মৃত্যু হয় তাই ৪৯৮ এ ধারা মামলা উঠে যায়। ৩০২ ধারার মামলার আসামিকে সারা জীবন সশ্রম কারাদণ্ড,১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায় ৬ মাস জেল, ২০১ ধারা মামলার আসামিকে ৬ বছর জেল থাকার নির্দেশ দেন এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেন, অনাদায় ৬ মাসের জেল হেফাজাতে থাকার কথা ঘোষণা করেন।

Related News

Also Read