Select Language

[gtranslate]
২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বুধবার ( ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ )

ধর্ষনের মিথ্যা মামলা:অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলা

ধর্ষণ মামলায় দোষী ব্যক্তিদের সাজা নিয়ে যখন সরব দেশবাসী। ঠিক তখনই কাঁথি মহকুমা আদালতে উলটপুরাণের নজির! ধর্ষণের অভিযোগের বিচার করতে গিয়ে অভিযোগকারীনির মিথ্যা মামলার জন্য তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি। বৃহস্পতিবার ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৯৫/২১১ ধারায় মামলা রুজু করার রায় দিয়েছেন আদালতের অতিরিক্ত দায়রা ও জেলা আদালতের বিচারক অজয়েন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।

 

তিনি আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারক(এসিজেএম) অনিন্দ্য সেনকে ভারতীয় দণ্ডবিধির কার্যবিধি আইনের ৩৪০ ধারা মতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশে মিথ্যা মামলাকারী বা অভিযোগকারীনির টনক নড়বে বলে মনে করছে আইনজীবী মহল।

 

উল্লেখ্য, রামনগর থানার সৈয়দপুর এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতির বাসিন্দা স্বামীর সঙ্গে এক মহিলা । ওই মহিলা ২০২৩সালের ১৫আগস্ট থানায় অভিযোগ করেন, তাঁর বাড়িওয়ালা দিনের পর দিন তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন এবং মারধর করেছেন। তিনি এও দাবি করেন, কর্মসূত্রে স্বামী বাইরে থাকেন। সেই সুযোগে একাজ করেছে অভিযুক্ত। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ধর্ষণের মামলা রুজু করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। আইনি প্রক্রিয়া মোতাবেক নির্যাতিতাকে গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে পাঠায়। পুলিশ তদন্ত শেষে চার্জশিট দেয়। বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু হয়। বিচারক পাঁচজন সাক্ষীসহ নির্যাতিতার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সরকার ও আসামীপক্ষের সওয়াল­-জবাব শোনার পর বিচারক বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় দেন।

 

বিচারপতি তাঁর রায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগকারিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও সাক্ষ্যদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন। বিচারক তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন, নির্যাতিতা অভিযোগপত্রে কিংবা গোপন জবানবন্দিতে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করলেও আদালতের সাক্ষ্যগ্রহণের সময় বাড়িওয়ালার সঙ্গে ভাড়া সংক্রান্ত বিবাদের কথা জানিয়েছেন। অন্যান্য সাক্ষীরাও ভাড়া সংক্রান্ত বিবাদ এবং ভাড়াটিঁয়া উচ্ছেদ সংক্রান্ত ঝামেলার কথাই উল্লেখ করেছেন। ধর্ষণ কিংবা ওই সংক্রান্ত কোনও ঘটনার কথাই উল্লেখ করেননি।

 

এনিয়ে বিচারক অজয়েন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য মিথ্যা মামলা করার জন্য অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। আইনজীবী আনন্দ দাস বলেন, এই ধরনের রায় মিথ্যা মামলা বা মিথ্যা অভিযোগ করার ক্ষেত্রে রাশ টানবে। ধর্ষণ মামলা রুজু করে কিছু ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায়। তাদের এহেন অভিসন্ধি কিংবা আইন নিয়ে ছেলেখেলার বিরুদ্ধে এমন রায় খুবই প্রয়োজন। এই মামলায় সরকারি আইনজীবী ছিলেন সন্দীপ মাইতি। তিনি বলেন সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে মিথ্যা প্রমানিত হেয়েছে।

Related News

Also Read