“নামে কি বা আসে যায়” বলে- কবি যতই বলুন,নামেই যে সব কিছু হয় তা ভোটে ভোটে টের পাবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভোটারেরা আর অবশ্যই প্রার্থীরাও।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রের একাধিক সম নামের প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছে।ফলে ভোট দিয়ে গিয়ে ভুল বশত ভোটারেরা এদিক ওদিক কিছু ভোট দিয়ে ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নন্দীগ্রামে এবার বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করবে নির্দল প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী !
হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামে এবারও বিজেপির হয়ে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার বিপরীতে রয়েছেন তৃণমূলের পবিত্র কর। তবে এবার ভোটে শুভেন্দুর প্রতিদ্বন্দ্বী কেবল পবিত্রই নয়। পবিত্রর পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকছে আর এক শুভেন্দু অধিকারীও। একজনের পরিচয় বিদায়ী বিরোধী দলনেতা হলেও আর একজন রাজনীতিতে নতুন। এই শুভেন্দু অধিকারী লড়ছেন নির্দল প্রার্থী হিসেবে। অনেকেই মনে করছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর ভোট কাটতে এই ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছে তৃণমূল।
তমলুক বিধানসভা কেন্দ্রতেও এবার দুই হরেকৃষ্ণ বেরার লড়াই। একজন বিজেপির হয়ে লড়লেও অপরজন লড়ছেন নির্দল প্রার্থী হিসেবে। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী বিজেপি হরেকৃষ্ণ বেরার বয়স ৬৬ এবং তিনি তমলুকের সালগেছিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। অন্যদিকে নির্দলের হরেকৃষ্ণ বেরার বাড়ি তমলুকেরই ঘোড়াঠাকুরিয়া গ্রামে। তার বয়স ২৯ বছর।
মহিষাদল ও নন্দকুমার বিধানসভা কেন্দ্রতেও বিজেপি প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলছে একই নামের নির্দল প্রার্থী। তবে মহিষাদল ও নন্দকুমারের নির্দল প্রার্থীদের পদবী আলাদা। জানা গেছে, নন্দকুমারের বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন নির্মল খাঁড়া। তার বিপরীতে নির্দলের প্রার্থী হয়েছেন নির্মল কুমার আড়ি। মহিষাদলে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন সুভাষ চন্দ্র পাঁজা। একই জায়গায় নির্দলের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা করেছেন ওই বিধানসভার বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র গুমট্যা।
তবে শুধুই বিজেপি নয়,তৃনমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধেও একই ভাবে ড্যামি প্রার্থী মনোনয়ন করানো হয়েছে।খেজুরি বিধানসভার তৃণমূলের প্রার্থী রবীনচন্দ্র মন্ডলের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্দল প্রার্থী রবীন মন্ডল।
এখন নাম বিভ্রাটের সুফল কিংবা কুফলে কোন প্রার্থীদের লাভ বা ক্ষতি কতটা করতে পারে,সেটাই দেখার।





