Select Language

[gtranslate]
১৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বৃহস্পতিবার ( ২রা এপ্রিল, ২০২৬ )

।। তুমি হাসবেই ।।

সাগরিকা ভঞ্জ :- মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলছিলাম,—কি খেলি? কলেজ থেকে কখন এলি?…এইসব।আমি স্পিকারে দিয়েই কথা বলি।কথা বলতে বলতেই শুনতে পেলাম বাইরে কে যেন ডাকছে।ফোনটা রেখে চলে গেলাম বাইরে,দেখি দোলাদি এসেছে।একটু কাজ ছিল।

কাজ সেরে গল্প করে সে গেল চলে।মিনিট দশেক কেটে গেল।পাশের বাড়ির মাসিমা বেরোলো…একটু কথা বললাম,আরো দশ মিনিট কেটে গেল।

এই যা, বেলা বাড়ছে কখন পূজো করবো? বাইরে তালা দিয়ে ঘরের মধ্যে এলাম।সাজিটা নিতে যাবো,এমন সময় ঘরের মধ্যে যেন মানুষের গলার আওয়াজ পেলাম,—“হুম,তারপর?”।

গায়ের লোমগুলো খাড়া হয়ে উঠলো এই দিনের বেলাতেই। বোঝার চেষ্টা করলাম শব্দটা কোথা থেকে আসছে,বাইরে থেকে নয়তো।শব্দটা কয়েক মিনিট ছাড়া ছাড়াই আসছে…”হুম,তারপর।”



এবারে এই আবহাওয়াতেই ঘামতে শুরু করলাম।শব্দটা ঘরের ভেতর থেকে আসছে। তাহলে ঘরের মধ্যে কে,চোর নয়তো? না চোর হবেনা,ঠিক ভূত।গলার স্বরটা চেনা চেনা লাগছে। ফোনটা কোথায়, মেঘার বাবিকে কল করতে হবে।ইচ্ছে করছিল ছুট্টে ঘর থেকে বেরিয়ে যাই।কিন্তু তালা দিয়েছি যে।যদি তালা খুলতে খুলতে ভূতটা আমাকে ধরে ফেলে।ফোনটা তো ওই অত্ত দূরে রাখা।

ধীরে ধীরে পাশের বাড়ির মাসিমাকে ডাকতে ডাকতে, (—“মাসিমা! এদিকে একবার বেরান তো”) নিতে যাবো,এমন সময় আবার আমার গলার আওয়াজ শুনে ফোনটা থেকে ভেসে এলো,—কি গো,তোমার কথা শেষ হলো?আর কতক্ষণ ফোনটা ধরে রাখবো?
অনেকখানি শ্বাস একেবারে ছেড়ে বসে বললাম,—ও তুই? তুই এতক্ষণ “হুম তারপর” বলছিলি?


—কি করবো তুমি সেই কখন থেকে ফোনটা ধরে রেখে দিয়েছো,আমাকে কাটতে বলোনি।

এতক্ষণে সাহস পেলাম। আর ওকে সব বললামও।ও সব শুনে হেসেই অস্হির।

সৌজন্যে – প্রতিলিপি

Related News