Select Language

[gtranslate]
১৭ই চৈত্র, ১৪৩২ মঙ্গলবার ( ৩১শে মার্চ, ২০২৬ )

।। গ্রাম্য মোড়লের নিদানঃতিন বছর ধরে এক ঘরে প্রাক্তন সেনা কর্মী ও পরিবার ।।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের চিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রাক্তন ভারতীয় সেনাকর্মী আশিষ মন্ডল । নিজের গ্রামেই গত তিন বছর ধরে তিনি ও তাঁর পরিবার একঘরে হয়ে আছেন। ঘটনাটা জানাজানি হতেই ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।

গ্রামের একটি কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে গন্ডোগোলের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। রাস্তার জায়গা নিয়ে গ্রামের কয়েক জন বাসিন্দার সাথে বিবাদ ঘটে বলে এই প্রাক্তন সেনা কর্মীর। আর এই বিবাদকে কেদ্র করে আদালতের দ্বারস্থ হন আশিষ বাবু।এরপরই গ্রামের মাতব্বরেরা প্রাক্তন সেনা কর্মী এবং তাঁর পরিবারকে একঘরে করার কথা ঘোষনা করে ।



অভিযোগ নিদান অনুযায়ী গ্রামের মন্দিরে ওঠা নিষেধ আশিষ বাবুর পরিবীরের।এখানেই শেষ নয়,দেওয়া হয়নি সরকারী জল পরিষেবা।অথচ তারই বাড়ির দোরগোড়া দিয়ে গিয়েছে জলের লাইন।পাশাপাশি আশিষ বাবুর স্ত্রী অপর্না ভৌমিক মন্ডল বাড়িতেই গ্রামের ছেলেমেয়েদের টিউশনি পড়াতেন।সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ মাতব্বরেরা হুমকী দিয়েছে যে বা যারা অপর্না দেবীর কাছে তাদের ছেলে মেয়েদের টিউশনি পড়াতে পাঠায় ,তাহলে তাদের একহাজার টাকা দিতে হবে জরিমানা ।গ্রামের কোন অনুষ্ঠানে কিংবা পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মেও অংশ নেওয়া বারন প্রাক্তন সেনাকর্মীর ও পরিবারের।



সমাধানের জন্য জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিক সহ বিডিও,বল্লুক ২ গ্রামপঞ্চায়েতেও।কিন্তু কোন সমাধান হয়নি বলে অভু।প্রায় তিনবছর ধরে আশিষ বাবু ও তার পরিবার গ্রানের মানুষের সাথে কথাবলাও নিষেধের আওতায় থাকায় কঠিন জীবনযপন করতে হচ্ছে।

এই বিষয়ে শহীদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রাজেশ হাজরা বলেন ঘটনাটা তাঁর জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নেবেন বলে আমাদের জানান।

বল্লুক ২ গ্রামপঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত প্রধান উত্তম বর্মন জানান,তিনি বিষয়টি সমাধান করতে আলোচনার জন্য চেষ্টা করেছিলেন।কিন্তু এখনো কোন সমাধান সূত্র মেলেনি।

এবিষয়ে চিয়াড়া গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য বিশ্বনাথ ঘোড়া আমাদের জানান,এই বিষয়ে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সমাধানের জন্য আলোচনায় বসার চেষ্টা হয়েছিলো।তবে আশিষ মন্ডলের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন সদুত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ করেন পঞ্চায়েত সদস্য বিশ্বজিৎ ঘোড়া।

Related News

Also Read