আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বড়সড় ধাক্কার মুখে বিজেপি।রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামেই বড় ভাঙ্গনের মুখে বিজেপি।শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে প্রায় ১০০০ নেতৃত্ব-কর্মী রাজ্যের শাসক দল তৃনমূলে যোগ দিতে চলেছে বলেও কারো কারো দাবি।
শুক্রবার গোকুলনগরের মহেশপুরে রাজ্যের শাসকদলের সভায় জয়দেব দাস ও বটকৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে এই দলবদল হবে বলে সুত্রের দাবি।
যোগদানের সেই কর্মসূচীকে ঘিরে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে সাজ সাজ রব। বুধবার দফায় দফায় ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে মিটিং হয়েছে।বিজেপি অবশ্য দাবি করছে জয়দেব ও বটকৃষ্ণ দলবিরোধী কাজ করছিলেন,তাঁরা বিজেপি ছাড়লে,কিংবা কোন দলে যোগ দিলে এর কোন প্রভাব পড়বেনা বিজেপিতে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে জয়ী করার অন্যতম সৈনিক বটকৃষ্ণ দাস ও নন্দীগ্রামের দক্ষিণ মণ্ডলের সভাপতি জয়দেব দাস।তারাই বিজেপি ছাড়ায় আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে।তাঁরা মনে করছেন শুধু পঞ্চায়েত নয়,লোকসভা নির্বাচনেও এর জেরে ধাক্কা খেতে হতে পারে বিজেপি।

বিজেপি শিবিরে এই বিদ্রোহ আর শুধুমাত্র গোকুলনগর মহেশপুরে সীমাবদ্ধ নেই। এই বিদ্রোহ হরিপুর, ভেকুটিয়া, সোনাচূড়া, গড়চক্রবেড়িয়া, কালীচরণপুর, বয়াল, আহমেদাবাদ, ঘোলপুকুরিয়া-সহ বহু জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি দলত্যাগী জয়দেব দাস । একই সাথে তাঁর দাবি এর জন্যে দায়ী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী।
স্থানীয়রা বলছেন বিজেপি কর্মীদের অনেকে এখন বুঝতে পারছেন যে সেই বিজেপি আর নেই। তৃণমূলের চোর-জোচ্চর বিজেপির দখল নিয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তার ফল দেখতে পাবে ওরা।
যদিও বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিজেপি শৃঙ্খলাপরায়ণ দল।তাই ওদের পদত্যাগ ও দলত্যাগ সবই ওদের নিজস্ব ব্যাপার। ওদের দলত্যাগে বিজেপিতে কোনও প্রভাব পড়বে না।
তৃনমূল নেতা বাপ্পাদিত্য গর্গ আবার বলেন, নন্দীগ্রামের মানুষ লড়াই জানেন। নেতাও চেনেন। শুভেন্দু অধিকারীর মিথ্যাচারের যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত নন্দীগ্রাম।পঞ্চায়েত নির্বাচনে ওদের আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা।মিথ্যাচার আর বে ইমানির অবসান ঘটবে।






