মায়ের বাড়িতে অনেক বিড়াল ছিল, তাঁর স্নেহ যত্নে তারা অবাধে বংশ বিস্তার করত, খাবারে মুখ দিতে যেত। জ্ঞান মহারাজ একটি বিড়ালকে একদিন তুলে আছাড় দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে মায়ের মুখ বেদনায় কালো হয়ে গেল। পরে তিনি জ্ঞান মহারাজকে বললেন, “দেখ, জ্ঞান, বিড়ালগুলোকে মেরো না। ওদের ভেতরেও তো আমি আছি।” এ কথা শোনবার পর থেকে জ্ঞান মহারাজ আর বিড়ালকে মারতে পারেন না! নিজে নিরামিষ খেলেও বিড়ালের জন্য রোজ চুনা মাছ ভেজে ভাতের সঙ্গে দেন।

মায়ের বাড়িতে গঙ্গারাম নামে এক পোষা চন্দনা ছিল। সকাল-সন্ধ্যায় মা তার কাছে এসে বলতেন, “বাবা গঙ্গারাম পড় তো?” পাখী বলত, ‘হরে কৃষ্ণ, হরে রাম; কৃষ্ণ, কৃষ্ণ, রাম, রাম।’ শ্রীমায়ের মুখে শুনে শুনে ব্রহ্মচারীদের নামগুলোও গঙ্গারাম ভাল করে শিখে নিয়েছিল। মাঝেমাঝে সে ডেকে উঠত, ‘মা, ওমা।’ অমনি মা উত্তর দিতেন, “যাই, বাবা যাই।” পাখীর মা বলে ডাকার অর্থ হল, তার খিদে পেয়েছে।
জগতের সমস্ত জীবজন্তুরও মা ছিলেন তিনি।






