Select Language

[gtranslate]
২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বুধবার ( ১০ই জুন, ২০২৬ )

।। স্নেহ-ছায়া ।।

শিপ্রা বিশ্বাস:- একান্নবর্তী পরিবারে থাকার যে কত আনন্দ আর উপকারিতা আছে সেটা বুঝতে পেরেছিল ঝুমকি আর রাহুল। দুজনে পরিবারের সম্মতিতে সামাজিক ভাবে বিয়ে করে ।

ঝুমকি রাহুলের একান্নবর্তী পরিবারের অংশ হয়ে ভীষন খুশী। বাপের বাড়িতে মা-বাবা নিজের ভাইবোন নিয়েই মানুষ।

ভালো চাকুরিরতা বৌদি পেয়ে এতোগুলো তুতো ননদ , দেওররা ভালো কাটে সময় ।
অফিস থেকে এসে ফ্রেস হতেই ডাক পড়ে পা্চ খুড়শ্বাশুড়ির কারো ঘর থেকে
” ঝুমা তাড়াতাড়ি নেমে এসো । আজ পেঁয়াজি ভেজেছি “। ওখানেই চলে
বিরাট আড্ডা । বাড়িতে হালকা মেজাজের চাল, দিনের খুঁটিনাটি খবর
দিতে থাকেন শ্বাশুড়িরা ।

তিনবছরের দুষ্টু ভাইপোকে সামলানোর ঝক্কি যে কাকা -পিসিদেরই সামলাতে
হয় । তাই কারো ছোট বৌদি , কারো রাঙ্গাবৌদির কাছে কিছু আবদারও থাকে।
এইভাবে চলে বৈঠক খানিকক্ষণ।

ব্যাবসায়ী পরিবার তাই নির্দিষ্ট একদিন
সবার ব্যাবসায়িক ছুটির দিন থাকে । সেদিন খুড়শ্বশুরাও সামিল হন বৈঠকে।
এমনি একদিন ঝুমকির শাশুড়ি -মা দেওরদের বলেন ” আজ তোমরা সবাই আছো তাই আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা তোমাদের জানাতে চাই । “

একটু থেমে গেলেন তারপর বলতে শুরু করলেন ” তোমরা তো জানো তোমাদের
বড়দা ওপাড়ার প্লটটা রাহুলকে দেবে বলে কিনে রেখেছিলেন ।

আমি এখন রাহুলকে ঐ প্লটটা দিয়ে দিতে চাই এখন। আর ওখানে ওরা নুতন বাড়ি
বানিয়ে চলে যাক । আমি তোমাদের
বড়দার ইচ্ছে পূরণ করে দায়মুক্ত হতে
চাই ।

তোমারা বলো আমার সিদ্ধান্ত ঠিক কিনা ?”
সকলেই বড়বৌদির কথায় সম্মতি জানায় সব দেওর ও জায়েরা
এবং খুশিও হয় ।


কিন্তু হঠাৎ একজনের কান্নার আওয়াজে
চেয়ে দেখে ঝুমকি কান্নায় ভেঙে পড়েছে।
সবাই একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। শাশুড়ি -মা ছুটে আসেন ছোট বৌমার কাছে ।
মাথায় হাত রেখে প্রশ্ন করেন ” কি হলো বৌমা ?”

স্নেহের পরশ পেয়ে কান্না বাঁধ ভাঙ্গা হয়ে
ওঠে । কোনো কথার জবাব না দিয়ে
শাশুড়ি -মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। খুড়-শ্বশুররা বলেন ” ওকে একটু
কেঁদে নিতে দাও তারপর জিজ্ঞেস কোরো বৌদি ।”


শাশুড়ি -মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করেন
খানিকটা । তারপর শাশুড়িকে আরো জড়িয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলতে থাকে
” মা কেনো এমন বললেন । আমার
ছেলেটাকে কেনো আপনাদের
স্নেহ-ছায়া থেকে বঞ্চিত করে দূরে
ঠেলে দিতে চাইছেন ? আমি যাবো না।

শত অসুবিধা হলেও আমরা এখানেই থাকবো ধ্রবকে নিয়ে । ”

বৌমার কথা শুনে শাশুড়ি-মা নিজেও
কাঁদতে লাগলেন । বললেন অহংকারের সঙ্গে ” বৌমা যখন চারিদিকে ঘর ভাঙার খেলায় মেতে উঠেছে দুনিয়ার মেয়েরা । তখন তোমার মুখে একথা শুনে নিজেকে বড় ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে ।”
বৌমা বলে ” মা আমি কত নিশ্চিন্ত হয়ে অফিসের কাজ করতে পেরেছি ধ্রবকে আপনার কোলে রেখে এই তিনবছর ।

আপনি আমাদের যেতে বলবেন না । পুরানো বাড়িই আমার ভালো ।
নুতন বাড়ীতে একা একা ধ্রুব ভালো থাকবে না । ওকে আগলে রাখার কেউ থাকবে না ।

” শান্ত হও বৌমা আমি ধ্রুবর কাছে সকালে তুমি অফিসে বেরোনোর আগেই পৌঁছে যাবো । এই তো এপাড়া ওপাড়া
বাড়ি আমাদের । ধ্রুব আমার কোলেই থাকবে ।

আর আমাদের রান্নার দিদিকে তোমাকে দিয়ে দেবো । আমি নতুন লোক রেখে দেবো বড়বৌমার জন্য । তুমি কান্না থামাও একদম হাঁপিয়ে গেছো ।

নাও ছেলেকে সামলাও মায়ের কান্না দেখে ও এতো কাঁদতে শুরু করেছে যে ছোটদাদু বাইরে নিয়ে গেছে ভোলাতে । ” একান্নবর্তী পরিবারের সকলের চোখ
ঝাপসা হয়ে ওঠে।

Related News

Also Read