Select Language

[gtranslate]
২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ শনিবার ( ১৬ই মে, ২০২৬ )

এক ব্যতিক্রমী জগদ্ধাত্রী পুজো ….

দিলীপ ঘোষ:-দশমীর বিদায়বেলায় মেয়ে বউরা নয়, পুরুষেরা শাড়ি পড়ে মহিলা বেশে মাকে বরণ করেন। ২২৯ বছরের এই অভিনব পুজো হয় ভদ্রেশ্বরের তেঁতুলতলার গৌড়হাটিতে। যেখানে পুজো শুরু থেকেই চলে আসছে এই রীতি।

শ্রীরামপুরের জমিদার গোস্বামীরা পুজোর জন্য জমি দেন ভদ্রেশ্বরের তেঁতুলতলা গঙ্গার ঘাটে। সেইখানে শুরু হয় পুজো সেই থেকে চলছে আজ অবধি। নিজস্ব মন্দিরও আছে সেইখানে। পুজোও হয় রীতিমতো নিষ্ঠা ও আড়ম্বরের সাথে। ১০০টি বেনারসি শাড়ি লাগে মায়ের বস্ত্র তৈরিতে যা এখানকার মায়ের বিশেষত্ব। কারণ মনস্কামনা পূর্ণ হলে প্রনামীতে অসংখ্য বেনারসি শাড়ি পড়ে মায়ের চরণে।

তবে বরণের কেনো এই অদ্ভুত রীতি তার লিখিত কোন প্রমাণ নেই। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দেওয়ান দাতারাম সুরের মেয়ের বাড়ি ছিল গৌরহাটিতে।

সেখানে ধুমধাম করে হতো পুজো। তারপর আর্থিক অবস্থা পড়ে যাওয়ায় বাড়ির পুজো হয়ে ওঠে বারোরারি পুজো। তবে বরণের রীতি আজও চলে আসছে। ১১জন পুরুষ পাড় ভাঙা শারি পড়ে বরণের ডালা সাজিয়ে মাকে পুজো করেন। জনশ্রুতি যে আগে এই পুজো দেখতে আসত ফরাসীরা ও ইংরেজরা।

তাদের সামনে বাড়ির মেয়ে বউদের বেরোনোয় নিষেধাজ্ঞা থাকায় পুজোর ভার তুলে নিয়েছিল পুরুষেরা। তাই আজও এই রীতিকেই মেনে চলেছে ক্লাবের সদস্যরা। তারা সবাই নিজেদের ব্যাক্তিগত জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত কিন্তু বরণের সময় শাড়ি পরতে দ্বিধা করেন না। এ কাজকে তারা পরম্পরা বলে মনে করেন। রীতি সে যাই হোক তাকে বহন করে নিয়ে চলাই আসল। মায়ের কাজে অগ্রাধিকার সবার সে পুরুষ হোক বা মহিলা। সূর্যের আলোর মতো উজ্জ্বল বর্ণের সুউচ্চ অপরূপা মায়ের মূর্তি দর্শনে এখানে প্রচুর জনসমাগম হয়।

সৌজন্যে – শ্রীরামকৃষ্ণায়তে নমঃ

Related News

Also Read