ইন্দ্রজিৎ আইচ
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান রামমোহন লাইব্রেরি অ্যান্ড ফ্রি রিডিং রুমের পক্ষ থেকে সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হবে বিশিষ্ট কবি অংশুমান চক্রবর্তীকে। তিনি এই পুরস্কার পাবেন কাব্য সাহিত্যের জন্য। আগামী ২২ মে ২০২৬, শুক্রবার , বিকাল ৩টায় কলকাতার রামমোহন হলে রাজা রামমোহন রায়ের ২৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুণীজনদের উপস্থিতিতে পুরস্কৃত করা হবে কবি অংশুমান চক্রবর্তীকে। এই কথা জানিয়েছেন রামমোহন লাইব্রেরি অ্যান্ড ফ্রি রিডিং রুমের সম্পাদক সঞ্জিত মিত্র।
কবি অংশুমান চক্রবর্তী থাকেন হাওড়ার রামরাজাতলায়। তিনি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কবিতা, ছড়া, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ফিচার ইত্যাদি লেখেন। পেশা সাংবাদিকতা। বাবা কবি অশ্রুরঞ্জন চক্রবর্তী সম্পাদিত ‘ছোটর দাবি’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বেশকিছু বই। পেয়েছেন কয়েকটি পুরস্কার ও সম্মাননা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন। অংশ নেন আকাশবাণী ও দূরদর্শনের অনুষ্ঠানেও। প্রসঙ্গত, রামমোহন লাইব্রেরি অ্যান্ড ফ্রি রিডিং রুম কলকাতা মহানগরীর শতাব্দী প্রাচীন গ্রন্থাগারগুলির অন্যতম। প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৪ সালে।
বর্তমানে এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার পোষিত টাউন লাইব্রেরি। রাজা রামমোহন রায় দেশের মানুষের জ্ঞানার্জনে ও উন্নতিসাধনে যুক্তি ও জ্ঞানের মশাল প্রজ্জ্বলন করতে চেয়েছিলেন। তাঁর আদর্শকে সামনে রেখেই এই লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠা হয়। একসময় এর সদস্য ছিলেন বাংলার নবজাগরণের পুরোধারা। নানা সময়ে রামমোহন লাইব্রেরি হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং ভারতীয় শিক্ষিত শ্রেণির জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সমাজচর্চার পীঠস্থান৷ শতাব্দী প্রাচীন লাইব্রেরির সংগ্রহে রয়েছে বাংলার নবজাগরণের দুষ্প্রাপ্য নথি, রাজা রামমোহনের ব্যবহৃত কিছু সামগ্রী, পুঁথি, বই ও দলিল। নীল চাষ মামলার কাগজপত্র, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাণ্ডুলিপিও রয়েছে লাইব্রেরিতে। ভগিনী নিবেদিতা তাঁর সংগ্রহের বহু গ্রন্থ লাইব্রেরিতে দান করেছেন এবং ১৯০৫ সালের শুরু থেকেই ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ছিলেন লাইব্রেরির সহ-সভাপতি।
১৯১৩ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল প্রাপ্তির পর কলকাতা শহরে ১৯১৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কবিকে প্রথম নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এই লাইব্রেরির প্রেক্ষাগৃহে। রবীন্দ্রনাথ ‘গীতাঞ্জলি’ হতে ‘রাত্রি যখন আঁধার হলো’ কবিতাটি পাঠ করে শোনান। ১৯১১ সাল থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এই লাইব্রেরির সহ-সভাপতি এবং তিনি ২২ টি সভায় উপস্থিত ছিলেন। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ১৯১৩ সাল থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত গ্রন্থাগারের সভাপতি ছিলেন। ১৯১৬ সালে ইওরোপ ফেরত আচার্য জগদীশ বসু উদ্ভিদের প্রাণ সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটিও মাতৃভাষায় এই প্রেক্ষাগৃহেই পাঠ করেছিলেন৷ দীর্ঘদিন সহ-সভাপতি পদে ছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ও।
লাইব্রেরির প্রেক্ষাগৃহে নিয়মিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। রামমোহন লাইব্রেরি অ্যান্ড ফ্রি রিডিং রুমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘সংবাদ দর্পণ’ পত্রিকার শারদীয়া ১৪৩২ সংখ্যায় প্রকাশিত কবি অংশুমান চক্রবর্তীর ‘ঘুম আসেনি’ কবিতাটি এবারের সাহিত্য পুরস্কারের কবিতা বিভাগের জন্য মনোনীত হয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় কবি অংশুমান চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এই পুরস্কার গৌরবের। আমার দায়িত্ব অনেকটাই বেড়ে গেল। আগামী দিনে আরও ভালো লেখার চেষ্টা করব।





