প্রথম দফার নির্বাচনের আজ শেষ প্রচার। আর মঙ্গলবার প্রথম দফার প্রচারের শেষ দিনে হলদিয়ার সুতাহাটার সভা থেকে বিজেপি ও অধিকারীদেরকে নিশানা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপি-কে বিঁধে মমতা বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছ। তোমাদের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আমি চার্জশিট দিচ্ছি। কত টাকা হলদিয়া থেকে যায়, এটার একটা তদন্ত হোক। তৃণমূলের লোকেরা শুধু গ্রেফতার হবে? আগের বারও নন্দীগ্রামে এ ভাবে লুট করেছ! রাতের বেলায় জেতার পরেও লোডশেডিং করে ইভিএম মেশিন লুট করেছ। কাউন্টিং লুট করেছ। যাদের বসিয়েছিলে, তাদের আমি চিনি। কেউ যদি আপনাদের সঙ্গে দুষ্টুমি করে, তাদের নাম-ঠিকানা, ফোন নম্বর আর ছবি তুলে রাখবেন।
মমতা বলেন, সুতাহাটা আমাদের আগেও বিধায়ক দিয়েছে। কিন্তু এখন দুর্ভাগ্য, একটা পার্টি এই মেদিনীপুর জেলায় নিজেদের লোকেদের সব ডেপুট করেছে। তারা সব এক পক্ষ হয়ে কাজ করছে। বিজেপি পক্ষ হয়ে কাজ করছে। এই জেলায় গদ্দার লিস্ট করে দিয়েছে, কাকে কাকে অ্যারেস্ট করতে হবে। আরে ভোটের পরে তুমি নিজেকে সামলাও। অনেক কেলেঙ্কারি করেছ। হলদিয়া থেকে কত ট্রাক যায়? সেই ট্রাকের কাটমানি কে খায়? যত কোম্পানি আছে, তাদের থেকে মাসে মাসে টাকা কে তোলে? সব একজনই তোলে। সেই টাকা অর্ধেক নিজে নেয়। বাদবাকিটা দেয় বাইরের নেতাকে। আমি সবটাই জানি।
বলেন, আমি এদের আজ নয়। দীর্ঘদিন ধরে চিনি। আগে কংগ্রেস করত। তার আগে তিন-চার বার করে হেরেছে। আমি অনেক দিয়েছি এই পরিবারকে। আর পারব না দিতে। এখনও বিজেপির সাহায্যে দুধে ভাতে আছে। হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করে রেখেছে। কত টাকা ঠিক নেই। সব চেয়ে বড় গদ্দার, দুর্নীতিবাজ, স্বৈরাচারী, অত্যাচারী, ভোটকাটারি এই বিজেপি সরকার।
গত ২০২১ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এবারও লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে মমতা বলেন, এবারও লোডশেডিং করে দেবে, ছাপ্পা ভোট করে দেবে। নন্দীগ্রামেই ৪০ জনকে নোটিস পাঠিয়েছে এনআইএ। কেন বাবা? এই ছ’বছর কি তুমি কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমোচ্ছিলে! আজ বলছ, এক হাজার তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করতে হবে। আগে বিজেপি-কে গ্রেপ্তার করুন। যারা খুন করেছে, ডাকাতি করেছে, নিজের সিকিউরিটিকে হত্যা করেছে।
অধিকারীদের নাম না নিয়ে মমতা বলেন, নীলবাতি, লালবাতি লাগিয়ে গাড়িতে সবাই ঘুরছে। তোমাদের এত অহংকার! একভাই এমপি, একভাই এমএলএ, পুরো পরিবারকে ঢেলে দিয়েছ। আমাদের পরিবারে আমি ছাড়া আর কেউ বিধানসভা ভোটে দাঁড়ায়নি।এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অধিকারী পরিবারের ক্ষোভের কথা বলেন মমতা। বলেন, ওর উপর কিসের এত রাগ? আমি বলে যাচ্ছি, আমাগীদিনে মেদিনীপুরের দায়িত্ব পাবে অভিষেকই।





