Select Language

[gtranslate]
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ সোমবার ( ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ )

উন্নয়নের জোয়ার আনতে বামপন্থীদের সমর্থনের আহ্বান জানালেন রবীন দেব 

 

বিজেপি এবং তৃণমূল কখনোই একে অপরের বিপক্ষ হতে পারেনা বরং একে অপরের পরিপূরক। উভয়ে মিলেই দেশ এবং রাজ্যে শোষণের মাত্রা কে বাড়িয়ে চলছে। শিক্ষায় দুর্নীতি, সামাজিক অবক্ষয় এবং সন্ত্রাসে সমৃদ্ধ দুই দল। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রচার সভায় বললেন সিপিআইএম পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবীন দেব । এদিনের সভায় তিনি বলেন,দুর্নীতি, শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে গ্রাম গঞ্জের মানুষ তৃতীয় বিকল্প শক্তির খোঁজে বামপন্থায় আস্থা রাখতে চাইছেন এবার নির্বাচনে। সভা শুরুর আগে মারিশদা থেকে ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের উদ্যোগে একটি বাইক মিছিল মানিকপুর পর্যন্ত পৌঁছায়। সেখান থেকে প্রার্থীর সমর্থনে রোড শো হয়।

কয়েকশো মানুষের বর্ণাঢ্য মিছিল মানিকপুর থেকে মুকুন্দপুর পর্যন্ত পরিক্রমা করে। মিছিলে গ্রামগঞ্জ থেকে আসা বঞ্চিত মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মত ছিল। তৃণমূল শাসনে বঞ্চিত গরীব খেটে খাওয়া মানুষ , ক্ষুদ্র মাছের ভেড়ি চাষী ,সমুদ্রের মৎস্যজীবী সহ, কৃষক, খেতমজুরদের উপস্থিতি প্রমাণ করছে তৃণমূলের রাহাজানি, তোলাবাজি ,স্বজন পোষনা আর মানছেন না মসনুষ। প্রকাশ্যে তৃণমূলের অন্দরে কলহ তো আছেই। দলীয় কোন্দল সামাল দিতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জি কে কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকে তৃণমূলের তিন পদাধিকারী নেতা কে জেলার বিভিন্ন এলাকায় টিকিট দিতে বাধ্য হয়েছেন।

গোড়সাউরির বাসিন্দা জেলা সভাধিপতি এবং পটাশপুরের গত বিধানসভার বিধায়ক উত্তম বারিক কে এবারে টিকিট দেওয়া হয়েছে চন্ডিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। একই ব্লকের মানিকপুর গ্রামের তরুণ কুমার জনা কে টিকেট দেওয়া হয়েছে কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রে, কুলঞ্জলা গ্রামের বাসিন্দা দেবাশীষ ভূঁইয়াকে কাঁথি উত্তরের টিকেট দেয়া হয়েছে। শুধু তাই না আর এক তৃণমূল নেতা প্রার্থী পদের দাবিদার বিকাশ বেজ তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দলীয় মহিলা প্রধানকে শ্রীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত থাকায় টিকিট প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সম্প্রতি যার অডিও ভাইরাল হয়েছে সমাজ মাধ্যম। তিনি ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। উদ্দীপ্ত মিছিলে শ্লোগান উঠছে কাঁথি উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূলের এতগুলো নেতা-নেত্রী থাকার ফলেও এবং বিগত পাঁচ বছরে বিজেপির বিধায়িকা থাকায় রসুলপুর নদীর উপর এখনো ব্রিজ হয়নি, যা বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।

খেজুরি এবং কাঁথির সঙ্গে যোগাযোগ হলে প্রায় ৬০ কিলোমিটার রাস্তা কমে যেত । খেজুরি এবং কাঁথির মানুষের যাতায়াতের রাস্তা কমত। সভায় রবিন দেব বলেন,বিজেপি এবং তৃণমূল সাধারণ মানুষের শ্রমদিবস সৃষ্টি না করে, বেকারদের চাকরি না দিয়ে ,গরিব খেটে খাওয়া মানুষের মাথা গুঁজার সংস্থান না করে, নিজেদের সম্পদের বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। তাই কাঁথি উত্তর কেন্দ্রের মানুষ সঠিক মানুষকে চেনে নেওয়ার জন্য কাস্তে হাতুড়ি তারা র মিছিলে সামিল হয়েছেন। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সঞ্জিত রঞ্জন দাস, বক্তব্য রাখেন সিপিআইএম পার্টির প্রার্থী সুতনু মাইতি, পার্টির জেলা নেতৃত্ব আশীষ প্রামাণিক, প্রাক্তন মন্ত্রী চক্রধর মেইকাপ।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন কালিপদ শীট, হিমাংশু পান্ডা,কেশব পতি, পিনাকী রঞ্জন দাস ,তাপস মিশ্র,ইউনুস উদ্দিন, কৌশিক রায়,প্রমুখ। এদিন কোলাঘাটে পাঁশকুড়া পূর্বে বামফ্রন্টের প্রার্থী ইব্রাহিম আলীর সমর্থনে পথসভা ও মিছিলে বক্তব্য রাখেন রবীন দেব।

Related News

Also Read