Select Language

[gtranslate]
১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ রবিবার ( ২৯শে মার্চ, ২০২৬ )

।। মাতব্বরদের অত্যাচারে ঘরছাড়া গৃহবধূঃদ্বিতীয় বিয়ে করলো স্বামী ।।

রাতের অন্ধকারে গ্রাম কমিটির মাতব্বরদের ফতোয়ার জেরে স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর করে ১০ বছরের বৈবাহিক সম্পর্কে বিচ্ছেদ টানতে বাধ্য হল এক গ্রাম্য বধূ।

শুধু বিবাহ বিচ্ছেদ নয় মাতব্বরদের নিদান মেনে ৬ বছরের এক শিশু কন্যার মা এই গৃহবধূকে দিতে হবে কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে ।এমনকি ছাড়তে হবে শ্বশুরের গ্রাম ।

সালিশি সভা নিদান শোনানোর আগে এই গৃহবধূকে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে মাতব্বরদের বিরুদ্ধে।মধ্যযুগীয় বর্বরতার এই ছবি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমারে।এই অত্যাচার থেকে নিজে ও মেয়েকে বাঁচাতে এবার পুলিশের দ্বারস্থ হলেন শ্যামলী শাসমল নামের এই গৃহবধূ।


ঘটনার বিবরন ১০ বছর পূর্বে নন্দকুমারের চুনাখালি গ্রামের ক্ষুদিরাম শাসমলের সাথে বিয়ে হয় শ্যামলী শাসমলের। তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে তাদের। বিয়ের পরই ক্ষুদিরাম তার স্ত্রীকে পাঠায় উড়িষ্যায় কাজের জন্য। তারপরেই বিস্ফোরক অভিযোগ শ্যামলীর। অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে দোহাই দিয়ে ক্ষুদিরাম তাকে ব্যাপক মারধর করেন। তারপরেই শ্যামলী ফিরে আসেন তার বাপের বাড়ি। স্বামীর ভয়ে লুকিয়ে ছিলেন বেশ কিছুদিন। গ্রামে ফিরলে গ্রাম মাতব্বরদের ফতোয়া জারি হয় শ্যামলীর উপর। যে জায়গার জমি শ্যামলী নামে রয়েছে তা তার স্বামীর নামে করে দিতে হবে। স্বামীকে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে সাথে ডিভোর্স। এবং গ্রাম কমিটিকে দিতে হবে এক লক্ষ টাকা। এখানেই ক্ষান্ত নয়। সালিশি সভায় ব্যাপক মারধর জোটে শ্যামলীর ওপর।

গ্রাম কমিটির সদস্য এবং শ্যামলীর স্বামী কার্যত স্বীকারও করে নিয়েছেন সেই কথা। ক্ষুদিরাম শাসমল এর দাবি তার স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। যার কারণে গ্রামের সালিশি সভায় তিনি বিচার দেন। সালিশি সভায় তাকে নতুনভাবে সংসার করতেও নিদান দেয়। তাই শ্যামলী দেবীর নামে থাকা জমি জোর করে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। এমনকি ক্ষুদিরাম আবার বিয়ে করেন কয়েকদিন দিন পূর্বে।

এরপরেই .অসহায় শ্যামলী শাসমল সংবাদ মাধ্যম এর দ্বারস্থ হয়েছেন।এলাকার শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা প্রশ্ন তুলেছেন নন্দকুমার থানা এলাকায় কোন কোর্ট নেই, সেখানে ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে ডিভোর্স সম্পন্ন হলো কিভাবে?

শ্যামলীর দাবি জোরপূর্বক বেআইনিভাবে ডিভোর্স হলেও শ্যামলীর স্বামী ক্ষুদিরাম শাসমল তা জোরপূর্বক হয়েছে মানতে নারাজ। গ্রাম কমিটির সভাপতি প্রজাপতি বর্মন টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।

গ্রামের মোড়লদের মাতব্বরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ন্যায় বিচারের আশায় শ্যামলী বর্মন অভিযোগ করেছেন নন্দকুমার থানায়। ৪৯৭, ৪৯৮ এ, ৪৯৪/৩৮৪, ৪৪ আইপিসি এই ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ১০ জনের নামে। শ্যামলী ন্যায়বিচার পাবে কিনা, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

Related News

Also Read