উৎপল সেনগুপ্ত
বৌমাঃ- মা ভাতটা ফুটলে দেখে একটু নামিয়ে দেবেন।
শাশুড়িঃ- তুমি কি করছ বৌমা
বৌমাঃ- আমি ঘরটা একটু গোছাচ্ছি।
আপনার ছেলে অফিস যাবার আগে যা আগোছালো করে গেছে
শাশুড়িঃ- উফ বাবা কোমরের এই ব্যথা নিয়ে একে নড়তে চড়তে পারি না। তার ওপর তোমার এই ফাইফরমাস শুরু হল।
বৌমাঃ- কাল সারাটাদিন তো দিব্যি ঠিক ছিলেন মা। নাতি নাতনি দের সাথে ঘুরলেন ফিরলে আনন্দ করলেন। মেয়ে নাতি নাতনি চলে যেতেই কোমরে ব্যথা শুরু হ্যয়ে গেল?
শাশুড়িঃ- তোমার কি মনে হয়? আমি কি মিছিমিছি বলছি।
বৌমাঃ- না তা কেন হবে? আপনার মেয়ে নাতি নাতনি এলে এই কোমরে ব্যথা তো থাকে না তাই বললাম।
শাশুড়িঃ- আচ্ছা বিয়ে তো বছর তিনেক হল। এখনও ভাত বসিয়ে রোজ আমাকে রান্না ঘরে পাঠাও কেন? ভাতের ফ্যান গালতে আর কবে শিখবে?
বৌমাঃ- ওর মধ্যে শেখার কি আছে মা?
শাশুড়িঃ- দেখছি তো রোজই । ভাত বসিয়ে যেই ফোটার সময় হবে অমনি কাজের ছুতো করে আমাকে এখানে ঠেলে দাও। আমি কি আর বুঝি না।
বৌমাঃ- ভাত তো একটু নরম হলে বা একটু শক্ত থাকলে তো পাঁচ কথা শোনাতে ছাড়েন না। তাই আপনাকে পাঠাই। নিজের হাতে হলে সাত খুন মাফ।
শাশুড়িঃ- রান্নাবান্না কিছুই তো শিখে আসো নি। অথচ যখন দেখতে গিয়েছিলাম তোমার মা তো সব রান্না পারো বলেছিল।
বৌমাঃ- আসলে মা তো আর বোঝে নি রান্না একটু ঊনিশ বিশ হলে হলে অমন করে কথা শোনাবেন। মা ভেবেছিলেন ….
শাশুড়িঃ- কি ভেবেছিল তোমার মা
বৌমাঃ- মা ভেবেছিল অমন গট গট করে যে মানুষটা দোতলায় উঠে চারঘর ঘুরে ঘুরে বাড়ির সব কিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে পারে। সেই মানুষটা তার মেয়ের থেকেও ছোট বয়সী বৌমাকে ভুল ভ্রান্তি হলে হাতে কলমে শিখিয়ে নেবে। উল্টে দেখল….
শাশুড়িঃ- কি দেখল শুনি
বৌমাঃ- দেখল আমার বিয়ের পরই আপনার বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ করে নিম্নচাপের মতন কোমরে ব্যথা শুরু হয়ে গেল।
শাশুড়িঃ- তুমি কি ভাবো আমি মিছে কথা বলি।
বৌমাঃ- আমি কি তা বলেছি। তবে আপনি এখনও বেশ কর্মঠ আছেন সেটা আপনার মেয়ে নাতি নাতনি এলে বোঝা যায়।
শাশুড়িঃ- লেখাপড়া শিখেছ বড়দের সাথে কি ভাবে কথা বলতে হয় শেখ নি। সন্তুর কত ভালো ভালো সম্বন্ধ এসেছিল …..
বৌমাঃ- তাদের একজনকে বউ করে আনলেন না কেন?
শাশুড়িঃ- কি করে আর জানব।
বৌমাঃ- আসলে আপনার পণের চাহিদা শুনে তাদের বাবা মা রাজী হয় নি। আমার বাবা সরল সোজা মানুষ আপনার মিষ্টি কথায় ভিজে রাজী হয়েছিল। গাদাগাদা টাকা সোনাদানা পণ নেবেন তারপর সেই বৌমা এসে সব কাজ করবে আর আপনি খালি এটা ঠিক হয়নি ওটা ঠিক হয় নি করবেন সে মুখ বুজে সহ্য করবে এটা ভাবছেন কেন?
শাশুড়িঃ- যত বড় মুখ না তুমি তত বড় কথা বলছ।
বৌমাঃ- আপনি বলতে বাধ্য করছেন মা। বিয়ের আগে বলেছিলেন, “ও আমার মেয়ের মতন থাকবে”
শাশুড়িঃ- তোমাকে তো মেয়ের মতোই দেখি।
বৌমাঃ- ওই জন্যই তো বাড়ি যাবার কথা বললেই নদীতে জোয়ার আসার মতন আপনার কোমরে ব্যথা বাড়ে। আর কোনও কারণে বাপের বাড়ি থেকে ঘুরে এলে মুখটা বাংলার পাঁচ হয়ে থাকে। আর এদিকে…
শাশুড়িঃ- কি এদিকে?
বৌমাঃ- নিজের মেয়ে বাড়িতে এলে আর কদিন থেকে যা আর কটা দিন থেকে যা বলে বাচ্চাদের মতন বায়না করেন।
শাশুড়িঃ- মানা দুটো বাচ্চা নিয়ে সারাদিন হিমসিম খায়। এখানে এলে কদিন একটু রেস্ট পায়। তাই দেখে তুমি মানা’র সাথে হিংসে করো।
বৌমাঃ- হিংসে কেন করব মা। কদিন মানা’র বাড়িতে গিয়ে তো ঘুরে আসতে পারেন।
শাশুড়িঃ- আমি গেলে জামাই যা আদর যত্ন করে সে আর কি বলব। সারাদিন মা এটা খান মা ওটা খান করে যায় । আমার আবার ওই এক দোষ নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও ঘুম আসে না।

বৌমাঃ- খ্যান্তি মাসিও বলছিল
শাশুড়িঃ- কি কি বলেছে খ্যান্তি?
বৌমাঃ- খ্যান্তি মাসি বলছিল ওখানে গেলে মানা নাকি সব কাজ আপনাকে দিয়ে করায়। তাই আপনি যেতে চান না।
শাশুড়িঃ- একদম বাজে কথা। খ্যান্তি নিজে একটা মিথ্যুক বাজে মেয়ে। খালি কান ভাঙানি করে।
বৌমাঃ- সে তো আপনারাই বোন মা।
শাশুড়িঃ- বৌমা তুমি ঘর গোছাচ্ছো সেটাই করো। এরপর তো সারাদিন মোবাইল ঘাঁটা শুরু করবে।
বৌমাঃ- কী করব বলুন। আমি তো আর কোমরের দোহাই দিয়ে বসে থাকতে পারি না। ফেসবুকে একটু লেখালিখি আবৃত্তি এই সব নিয়ে থাকি।
শাশুড়িঃ- হ্যাঁ হ্যাঁ কী যে ছাইপাশ করো তা আমার জানা আছে।
বৌমাঃ- মা পোড়া পোড়া গন্ধ বের হচ্ছে।
শাশুড়িঃ- এ বাবা ভাতের তলাটা মনে হয় ধরে গেছে।
বৌমাঃ- বেশ হয়েছে। হাড়ে বজ্জাত মহিলা কোথাকার।
শাশুড়িঃ- বৌমা কিছু বললে।
বৌমাঃ- কৈ না তো।
শাশুড়িঃ- ঈস। একদম ধরে গেছে
বৌমাঃ- আপনি যদি কথা না বাড়িয়ে আগে আসতেন এই কান্ড হত না।
শাশুড়িঃ- যাও যাও এখানে না বকে ফেসবুক করো।
বৌমাঃ- যাই মা। আপনি বড় আপনার কথা কি আর ফেলতে পারি।
শাশুড়িঃ- যত্তসব
সৌজন্যে – প্রতিলিপি






